somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মা(সোল) ও আমিত্ব(ইগো) এবং কৃত্রিম আত্মকেন্দ্র বনাম অকৃত্রিম আত্মকেন্দ্র (প্রথম পর্ব)

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ৭:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চোখ খুলেই প্রথম দেখে বাইরের দৃশ্য , হাত প্রথম স্পর্শ করে অন্যকে, কর্ণ শ্রবন করে অন্য শব্দ বাইরের, জিহ্বা নেয় বাহ্যিক খাবারের স্বাদ এবং নাক শুকে নেয় বাহ্যিকই কোন গন্ধ( সু বা দূর্গন্ধ)। এভাবে একটি শিশু জন্মের পর প্রথম যা যা করে তা সবই বাহ্যিকতার সাথে সম্পৃক্ত, কিছুই নিজস্বতার মধ্যে নয় মোটেও। জ্ঞানআর সচেতনতা বিহীন একটি সদ্যজাত শিশুর সব চেতনাই উন্মুখ হয় বাইরে।
জন্মের পর স্বভাবতই প্রথম একটা শিশু তার মাকে দেখে( হয়তো আরও অন্য কাউকেও দেখে) তার পর ধারনা হয় নিজের সম্পর্কে। তার এই আত্মধারনা বা সচেতনতাকে তাহলে বলা যায় রিফলেকটেড এওয়্যারনেস বা প্রতিফলিত সচেতনতা।
যেহেতু জন্মেই শিশুর জানা কথা নয় সে কে তাই স্বাভাবিক ধারনায় একটি শিশুর প্রাথমিক সকল ধারনা শুরুই হয় মাকে দেখে এবং মা'র সকল কর্মকান্ড দর্শন এর প্রক্রিয়ায়। মার মুখের মিষ্টি হাসিতে অথবা মার নিবির আলিঙ্গনে, মধুর চুমুতে শিশু আনন্দ অনুভব করে এবং নিজের সম্পর্কে একধরনের প্রশান্তি তার মনের ভিতর নড়ে চড়ে ওঠে এবং আমরা ধারনা করে নিতে পারি সহজেই ঠিক সে সময় থেকেই শিশুর মধ্যে ইগো বা আমিত্ব বা আত্মঅহমিকার সূত্রপাত ঘটে যায়।
খেয়াল করে দেখলে বুঝা যাবে স্তুতি , ভালবাসা , আদর সোহাগ, যত্নআত্তি এসবের সুন্দর আলোড়নেই শিশু অনুভব করতে বা ভাবতে পারে তার নিজের আপন একটা অস্তিত্ব জগতে। এভাবে নিজের মাঝে একটা আত্মকেন্দ্র সৃষ্টি হয়। কিন্তু সে কেন্দ্রটা প্রতিফলিত কেন্দ্র, নিজের নিজস্বতা ঘটিত কিছু নয়। সে নিজে জানেনা সে কে, সে কেবল সেটাই জানতে শুরু করে যেটা তার সম্পর্কে অন্যেরা জানাতে থাকে বা অন্যেরা তার সম্মুখে আচরণ করতে থাকে। মজার ব্যপারটা ওখানেই --সেই প্রতিফলন, সেই অন্যের চিন্তাভাবনা আর আচরণ ই হচ্ছে একটা শিশুর আমিত্ব(ইগো)।
প্রথমে কেবল মা ( মা বলতে পৃথিবীর জীবনে শুরুতে যে আসে), তারপর ধীরে ধীরে আরও অনেক মানুষ যোগ দেয় শিশুর দৃশ্যমান জগতে, পৃথিবীর পরিসর বাড়তে থাকে। এভাবে জগত এর পরিসর যত বৃহৎ হতে থাকে সেই আমিত্ব(ইগো) তত জটিল হতে থাকে কারন মতাদর্শ, কর্মকান্ড, আচরণ তখন প্রতিপলিত হয় শিশুর মধ্যে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে ইগো একটি একিউমুলেটেড ফেনোমিনা, ইগো অন্যদের সাথে বসবাসের একটি উপজাত বস্তু। তাই কোন শিশু যদি জন্মেও পরথেকেই একা থাকত ( ধরে নিলাম) সম্পূর্ণ , তাহেলে তার মধ্যে কথনই ইগো গড়ে উঠত না। তাই বলে আমরা এমন উদ্ভট বিশ্বাসও করতে পারিনা একা থাকলে শিশুর মধ্যে বাহ্যিক প্রতিফলন না ঘটে বরং আত্ম উদঘাটন ঘটতো।
সত্য কেবল মিথ্যের মধ্যে দিয়েই বোঝা যায়-- এ্ই মহা সত্য মানলেই মানতে হবে ইগোর আবশ্যকতা। সত্য সরাসরি বোঝা যায়না, একমাত্র বিভ্রম এর মধ্যে দিয়েই সত্য বোঝা সম্ভব। কিভাবে? প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে কোনটা সত্য নয়এবং তারপর সে মিথ্যেও মায়াজাল সরাতে পারলেই উপসহিত হবে সত্য। If you know the false as the false, truth will dawn upon you.
সমাজ মানে যা কিছূ আমাদের চারপাশে। আমি বাদে আমার চারপাশের আ সবকিছুই সমাজ। সমাজের সবাই , সবকিছু একজন ক্রমধাবমান শিশুকে রিফলেকটস করে। শিশু পরিবারের গন্ডির পরে যায় স্কুলের গন্ডিতে। সেখানে টিচার , সহপাঠী , বন্ধু সবাই রিফরেকটর হিসেবে ভূমিকা পালন করে। এভাবে সংস্পর্শিত সবাই সমাজের আমিত্ব বা ইগোর মাঝে যুক্ত হয় এবং সবাই মিলে সবকছিু মিলে শিশুকে সমাজের উপযুক্ত হতে শেখায়। এর কারণ সবাই তারা শিশুটিকে নিয়ে চিন্তিত নয় চিন্তিত সমাজকে নিয়ে।
সমাজ চায়না কেউ আত্মজান্তা হয়ে ওঠ।বরং চায় সমাজের নিয়মে থেকে সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠুক। এভাবে সমাজ ও সমাজের চারপাশের সবাই মিলে সেই নৈতিকতা শেখানো চেষ্টা করে যা সমাজে উপযুক্ত করে গড়ে তোলে । ওই নৈতিকতাটাই হচ্ছে সেই রিফলেকটেড ইগো।
সমাজের নৈতিকতা সমাজের আপন স্টাইলে গড়া। সমাজ ঠিক করে দেয় কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক। কেউ কাউকে খুন করলে সে খুনী হযে যায় আবার সেই একই ব্যক্তি যুদ্ধের ময়দানে হাজার হাজার হত্যা কান্ড ঘটালেও সে খুনী হয়না। নৈতিকতা হচ্ছে সমাজের একধরনের পরিবেশ গত রাজনীতি এবং প্রত্যোক শিশুকে তার আপন সমাজের কূটনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতেই সমাজ শেখাতে চায়। সমাজ চায়না কেউতার নিজের মত করে সমাজের সে নীতির বাইরে আত্মবোদ্ধা হোক।
সমাজ মানুষের মধ্যে যে আমিত্ব তৈরী করে দেয় তা সমাজ নিজের প্রয়োজনেই করে যার দরুন সমাজ তাকে কন্ট্রোল করতে পারে। একটা শিশু সম্পূর্ণ অচেনা থাকে তার নিজের সম্পর্কে, তার একটা আত্মকেন্দ্র দনকার হয় এবং সমাজ সেই সুযোগে তার মধ্যে আমিত্ব ঢুকিয়ে দেয়।
যখন একটা শিশু স্কুলে প্রথম হয়ে, বা খুব ভাল রেজাল্ট করে বাড়ী ফেওে; সবাই তাকে ভীষণ আদর করতে থাকে, তাকে নিয়ে সবার ভীষন গর্ব হয়। এভাবে সবাই তার মাঝে একধরনে আমিত্ব বা ইগোর সূক্ষ্ম প্রবেশ ঘটায়।আর ঠিক উল্টো ঘটলে মানে অসফল হয়ে ফিরলে কেই তাকে অ্যাপরেসিয়েট করেনা , গর্ববোধ করেনা তার জন্য, সে নিগৃহিত হয়। ফলে সে পরবর্ততে ভাল করার তাগাদা অনুভব করে। গড়ে ওটা সেই আত্মকেন্দ্রটা আন্দেলিত হয়। ইগো সর্বদাই আন্দোলিত হয় কারন সে সর্বদাই খোঁজে অন্যের মাঝে নিজের অবস্থান। সমাজ পরিবেশ শিশুকে ওভাবেই ভাবতে শিকিয়েছে --"তুমি অন্যের চোখে কি।" এভাবে অন্যের দৃষ্টিতেই গড়ে ওঠে সেই আত্মকেন্দ্রটা।
এই কেন্দ্রটা নকল। কারন প্রত্যেক মানুষ তার আপন আত্মকেন্দ্র নিয়েই জন্মায় , যেটাতে অন্যের কোন হাত নেই।
এভাবে দেখা যাচ্ছে , মানুষের মাঝে দুইধরনের কেন্দ্র।
(ক) সেই আত্মকেন্দ্র যা একটা শিশু জন্মগত ভাবে নিয়ে আসে , যা তার সজীবতার অস্তিত্ব ভুবনে। সেটা মানুষের পূর্ণ নিজস্বতা। সোল, আত্মা।
(খ) অন্যটি সমাজ গড়ে দেয় , যার নাম আমিত্ব(ইগো)। এটা নকল জিনিষ এবং মহা কৌশলে বন্দী । এই ইগো দিয়ে সমাজ নিয়ন্ত্রন করে একজনকে। সে ইগোর অধীন চললে সব িঠক(সমাজ স্তুতি রচবে), না হলে সমাজ দাম দেবেনা, তখন ইগো আন্দোলিত হবে...নিজকে নিয়ে সংশয় দেখা যাবে নিজের মধ্যে , কষ্ট হবে।
প্রথমটাকে আমরা বলতে পারি অকৃত্রিম কেন্দ্র আর পরেরটা কে কৃত্রিম কেন্দ্র।
(চলবে...........2য় পর্বে শেষ)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে ভোট দেশে

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



আমার বয়সে(৩০+) আজও সরকার নির্ধারণ বা নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি।

এখন প্রায় কাছাকাছি দাঁড়িয়ে। তবুও নানা অজানা কারণে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা ভোট হয় কি হয়না। সেদিন এক স্থানীয় পাতি নেতার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×