জায়গাটির নাম সোনার পাড়া। কক্সবাাজার মূল বীচ থেকে 13 বা 14 কি. মি হবে স্থানটির দূরত্ব।
যারা কক্সবাজার গেছেন তারা সবাই হিম ছড়ি নামটির সাথে অবশ্যই পরিচিত হওয়ার কথা। কক্সবাজার যাবেন আর হিমছড়ির টিম টিম জল পড়া ঝর্না দেখতে যাবেন না , অথবা উঠবেন না খাড়া সিড়ি বেয়ে হিমছড়ির পাহাড়ে, সেটা কিন্তু ভ্রমনের পূর্ণতা হবেনা। হিম ছড়ি যেত হলে সুনীল সমুদ্রের তীর ঘেঁষে তৈরী মেরিন ড্রাইভের পিচ ঢালা পথ ধরে এগোতে হয় মাইল ছয়েক। হিমছড়ি ছাড়িয়ে মেরিন ড্রাইভ চলে গেছে আরও 20/22 কিমি দূরে ইনানী বীচ নামক এক পাথুরে সৈকতে। ইনানী বীচকে পর্যটন এলাকা হিসেবে অনেক আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। সাগর পাড়ের এই পথে যাত্রী হলেই দেখতে পারবেন বামে সাগর আর ডানে ছোট ছোট পাহাড় জঙ্গলের মাঝে মুক্ত সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যময় নানা মুগ্ধ দৃশ্য। এই পথের সৌন্দর্য্যের মাঝেই বাকী স্থানগুলোর চেয়ে একটু বেশী মাধূর্য নিয়ে যে স্থানটি কেড়ে নেবে দৃশ্যপ্রেমীর সবটুকু দৃষ্টি মুহূর্তে সে স্থানটিই সোনার পাড়া। হিমছড়ি ছাড়িয়ে মেরিন ড্রাইভ ধরে আরও সাত(7) কি.মি এগিয়ে গেলেই পৌঁছানো যায় সোনার পাড়ায়।
সোনার পাড়া তেমন কোন আলোচিত স্থান নয়, নয় প্রচারিত ভ্রমন স্থান বা নয় কঙ্বাজারে পর্যটকদের ভ্রমন লিস্টের মাঝে উল্লেখিত। সম্ভবত সেই কারনেই এত সুন্দর একটি স্থান দেখা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায় কঙ্বাজার ভ্রমনকারীগণ। পুরো মেরিন ড্রাইভের দুপাশেই অসংখ্য চিংড়ির হ্যাচারী। সোনার পাড়াতেও বেশ কয়েকটি হ্যাচারি আছে । আছে কিছু জেলের আবাস। ইনানী বীচ গামীদের গাড়ী , চান্দের গাড়ী, সেনাবাহিনীর গাড়ী( মেরনি ড্রাইভ তৈরীতে কর্মরত) আর হ্যাচারীদের নিজস্ব গাড়ী ছাড়া সচারচর আর কোন পরিবহন ও পথে চলে না। সে কারনে কঙ্বাজার মূল বীচ থেকে ওখানে যাওয়া একটু কষ্টসাধ্যও বটে। অচেনা থাকার সেটাও একটা মুখ্য কারন। তারপরও ইচ্ছে থাকলেই কিন্তু যাওয়া সম্ভব। খুব বেশী কিন্তু দূরত্ব নয়।
সোনার পাড়াতে প্রথমেই চোখে পড়বে অপূর্ব বেইলি ব্রীজটি। ব্রীজটি পাড় হতে হতেই চারপাশের সৌন্দর্য্য দৃশ্যপ্রেমীর হৃদয় আপন বশে নিয়ে নেবে নিশ্চিত। বামে সুদৃশ্য পাহাড় চলে গেছে পূর্বে। ডানে সাগর হতে লুকিয়ে বাঁক নিয়েছে একটি ছোট কোমর জলের খাল। নাম রেজু খাল। বেইলি ব্রীজটি এই খালেরই উপর। খাল আর সাগরের মোহনায় দৃষ্টি চলে যেতেই মুগ্ধতা গিলে খাবে। বমে দূরে খালের পাড়ে সবুজ মাঠ। মাঠে চরতে তাকে অনেক অনেক গরুছাগল। নদীতুল্য খালটিতে বয়ে চলছে ছোট ছোট অনেক নৌকা। পাহাড়ের পাদদেশে নারিকেল গাছের সবুজ সারি কোথাও। কোথাও মাথা চাড়া দিয়ে সুপারির লিকলিকে গাছের দল। খালের দক্ষিণ পাড়ে হ্যাচারির ছোট ছোট জলাধারে সাঁতার কাঁটছে দেখবেন চিংড়ি পোনা। তার পেছনেই হাতছানি দিয়ে ডাকবে ঝাউ বন। ঝাউ বনের নিবিড় ছায়ায় হারিয়ে যেতে কার মন বাধা দেবে? ঝাউবন পেরোলেই বালুতীর। বিস্তর নিরবতা সেখানে। কেবল কানে বাজবে একটানা সাগর ঢেউয়ের গর্জন। নির্জনতার কারনে বালুতে কাঁকড়ার আধিক্য ও বেশী। লাল টুকটুকে কাঁকাড়ারা সব দল বেঁধে ঘুরে বেড়াবে। মানুষের পায়ের আওয়াজে দেখবেন মুহূর্তেই সব চলে যাবে আপন আপন গর্ত নিবাসে। বিচ্ছিন্ন দু একজন জেলে মাছ ধরছে দেখা যাবে সমুদ্রে। বালুতে হাঁটতে হাঁটতে মোহনায় এগিয়ে যেতে গেলেই দেখা যাবে কোথাও ডেবে যেতে চাইবে নরম বালুতে পাদুখানা। ভয়ের কিছু নেই চোরাবালি ভেবে ভয় যদিও হতেই পারে। মোহনার বালু একটু নরমই হয়। হাঁটতে হঁটতে ইচ্ছে হলেই কোমর সমান খারের স্বচ্ছ পানি পেড়িয়ে চলে যেতে পারেন খালের এপার থেকে ওপারে। অতি মনোরম এক পরিবেশ সেখানে চারপাশে।
বর্ননায় দৃশ্য কি আর ফুটিয়ে তোলা যায় ? সে তো দেখার জিনিস। সেতো অনুভবের বিষয়। কক্সবাজার হৈ হুল্লোর আর ঘোলা পানির নৈকট্যে যারা একটু হলেও বিরক্ত হন । সোনার পাড়ার নির্জন সৌন্দর্য তা দূর করতে পারে নিশ্চিত।
সোনার পাড়ার সেই অপরূপ সৌন্দর্যের অনেকটাই খুঁজে পাবেন নিচের ছবিগুলোতে।
===========
ছবি ঃ আমার তোলা
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




