
ঘুম আসছিল না এপাশ ওপাশ গড়াগড়ি করতেছিলাম। এমতোবস্থায় হঠাৎ খাট নড়ে উঠল, উপরে তাকাতেই দেয়ালসহ ছাদের ফ্যান নড়তে দেখে লাফিয়ে উঠলাম। বেহুশের মত দরজা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। জানালা ধরে টানাটানি করছিলাম। হঠাৎ হুশ হলো আরে এতো দরজা না জানালা। এরপর দরজা খুলেই ভো দৌড়। এক দৌড়ে দোতালা থেকে রাস্তায় নেমে এলাম।
আমি রাস্তায় নামার পর মুহুর্তেই রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। সবাই যেন এ যাত্রা ভুমিকম্পের হাত থেকে জানে বেঁচে গেছে এমন আতঙ্ক নিয়ে বিল্ডিং থেকে নেমে এসেছে। বেশির ভাগ লোকই মোবাইল রুমে রেখেই রাস্তায় নেমেছে। মোবাইল নেয়ার হুঁশ ছিল না। আমার বালিশের পাশেই মোবাইল থাকায় মোবাইল হাতে নিয়েই নেমেছিলাম।
আমার অফিস কলিগ একজনকে ফোন দিলাম, তিনি তখনও ভুমিকম্পের ভয়ে তিনতালায় খাটের নিচে লুকিয়ে আছেন। কারণ গিন্নীর কোলে ছোট বাচ্চা মোটাসোটা গিন্নী বাচ্চাসহ নামতে পারছেন না তাই খাটের নিচে লুকিয়েছেন।
আরেক জনকে ফোন দিলাম, তিনি মুন্সী গঞ্জে বিয়ে খেতে গেছেন। ভুমিকম্পের কথা শুনে কুটকুট করে হাসছেন। কারণ তিনি টিনের ঘরে আছেন ভুমি কম্পে তার খুব একটা অসুবিধা হবে না, সেইটা মনে করেই তিনি খুশি।
আশুলিয়া গ্রামের বাড়িতে আমার গিন্নীর কাছে ফোন দিলাম। সেও টিনের ঘরে আছে তারও চিন্তা নাই, সে আমার চিন্তায় অস্থির। কারণ আমি যে বিল্ডিংয়ে থাকি সেটার তিন তলা পর্যন্ত ভিত শক্ত থাকলেও সাত তলা পর্যন্ত লরবড়ে।
গাইবান্ধা ছোট ভাইয়ের কাছে ফোন দিলাম। আমার কন্ঠ শুনে ছোট ভাই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল। আমার কোন ক্ষতি হয়নি সেটা বুঝতে পেরেই সে চিন্তামুক্ত হলো।
আরেক কলিগকে ফোন দিলাম। তিনি তখনও দুই বাচ্চা বুকে জড়িয়ে পাঁচ তলায় বসে আছেন। আরেকটা ঝাঁকি দিলেই বাচ্চাসহ গিন্নী নিয়ে নিচে নামবেন, সেই অপেক্ষা করছেন। তার কথা শুনে বিপদের মধ্যেও হাসি পেল।
যাক এসব কথা, আপনারা সবাই সুস্থ্য আছেন তো? আল্লাহ যেন ভুমিকম্পের বিপদে কাউকে না ফেলেন এই কামনা সবসময় করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




