somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্যাঁচা বাবুর আধুনিক ইশপের গল্পকথা ( উপদেশ সহ )

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্যাঁচা বাবুর সাথে আমার পরিচয় অল্পদিনের, সেই স্বল্প পরিচয় হৃদ্যতায় রূপান্তরিত হতে সময় লাগেনি, কারণ আমাদের সরলতা ( নিন্দুকের ভাষায় নির্বুদ্ধিতা )। প্যাঁচা বাবু তার জীবনের কিছু উপলব্ধি আমাকে জানিয়েছেন যা আমাকে মুগ্ধ করেছে, এই প্রচার বিমুখ সরল হৃদয় দার্শনিক এর নিজের ভাষায় তার উপলব্ধি তুলে ধরলাম আপনাদের কাছে আশা করি আপনারাও আমার মত মুগ্ধ হবেন।

প্রথম উপলব্ধি

পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে ছোটবেলা থেকে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর মুরুব্বীদের জোরদার প্রচেষ্টা দেখে এসেছি। এই প্রচেষ্টার সফল বাস্তবায়ন কখনো শারিরীক ধস্তাধস্তির ( মারধর ) মাধ্যমে হতো, কখনোবা প্রবল মানসিক ধস্তাধস্তির ( যেমন তুই ইহা না করিলে আমার মড়া মুখ দেখিবি ) মাধ্যমে হতো। তখন প্রতিবাদ করার দরুণ বেয়াদপ উপাধি এমন ভাবে আমার সম্পূরক নাম হয়ে যায় যে বৃহৎ পরিবারের কেউ চট করে আমার নাম শুনে চিনতে না পারলেও " আরে ওই বেয়াদপটা " বলে উঠলেই সবাই বলে উঠতো ও হ্যা হ্যা এখন চিনেছি।

কিছু বেয়াদপির নমুনা দেই যেমন গ্রাম থেকে আত্মীয় এসেছেন মা এবং বাবা বললেন চাচা কে সালাম কর ( সাথে চোখ দিয়ে ইশারা বা হুমকি দিয়ে পা ছুঁয়ে সালাম করার স্পষ্ট ইঙ্গিত )। আমি সেই কর্দমাক্ত পা দেখে সেই পায়ের ধারে কাছে না গিয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে সালাম দিলাম। অতঃপর মা পেছনে এসে প্রথমে হালকা ঠেলাঠেলি তাতে কাজ না হলে ঘাড় ধরে ধক্কাধাক্কি তে ঘটনার শেষ হল। এবং আত্মীয়র সামনে থেকে সরিয়ে এনে মৃদু প্রহারের মাধ্যমে শিক্ষা সম্পন্ন হল। আমি সেইদিন আমার স্বল্প বুদ্ধিতে ধরে নিয়েছিলাম ধুলি এবং কাদা ঘাঁটাঘাঁটি একটি পবিত্র কর্ম, এই ভুল ভাংতেও সময় লাগেনি কারণ দুদিন পর মাঠে খেলতে গিয়ে সারা গায়ে ধুলি কাদা মাখামাখি হয়ে বাসায় ফিরে ড্রয়িং রুম এ গিয়ে গ্রামের সেই চাচাকে দেখে বুকের ভিতর চাপা গর্ব নিয়ে মায়ের দিকে হাসিমুখে তাকালাম, ভাবখানা এই, কি কেমন ওনার পায়ের থেকে আমার গায়ে কাদা বেশী। এরপর যা হয়েছিলো তা কহতব্য নয়। বাবা মা যা দেবার দিয়েছিলেন সুযোগ সন্ধানী বড় ভাইজানও হাতের সুখ মিটিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল একে তো কাদায় গড়াগড়ি খেয়েছিস তার উপর আত্মীয়র সামনে ঢং দেখিয়েছিস। তখন বুঝলাম কাদা ধুলা মুরুব্বীর পায়ে পবিত্র জিনিষ, ৭ বছরের বাচ্চার গায়ে বিছুটি বিশেষ। কিন্তু যা আমার আজো বোধগম্য হল না তা হল কেন কাদা পায়ে মেখে আসলে তা হাত দিয়ে হাতাতে হবে আর গায়ে মাখলে পিটাতে হবে।

দ্বিতীয় উপলব্ধি

দ্বিতীয় বেয়াদপির ঘটনা বলি, বর্ষাকাল, বাসায় মশার ব্যাপক উপদ্রপ। কয়েল, এরাসল, ধূপ কিছুতেই কিছু হয়না। একদিন বাঁদরামি করায় ব্যস্ত, এমন সময় মা এসে কান মলে দিয়ে বললেন বাসার কাজ তো কিছু করিস না মশার জ্বালায় রিপোর্ট লেখতে পারি না পাশে বসে মশা মার। প্রতি মশা ১ টাকা দেব, যেখানে পাবি মেরে ফেলবি। আমিও সেদিন থেকে মশা মারায় ব্যস্ত, মায়ের গায়ে বসলেই সপাং করে মশা মারি। এরপরের ঘটনা একটু গুরুতর, আমার একজন শিক্ষক বাসায় পড়াতে আসতেন, তিনি আমাকে সকল বিষয় পড়াতেন এবং অংকে ভালো ছিলেন বলে পাশের ফ্ল্যাট এর রুমকি আপুকে তার অনার্সের অংকও দেখিয়ে দিতেন। যাইহোক ততদিনে পাঁচ শতাধিক মশা মেরে আমার বুকের এবং পকেটের বল তখন আকাশচুম্বী। শিক্ষক মহাশয়ের কাছে একদিন পড়ছি একটা মশা বহুক্ষণ যাবত ভোঁ ভোঁ করে তার গালে বসেছে, আমার হাত সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের বেগে মশার দফারফা করে দিলো একি সাথে আমার ভবিষ্যৎও বটে। প্রথমে বেদম প্রহার তারপর শুরু হোল ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক উপদেশ, একটি কথা বার বার বলা হোল “শিক্ষক পিতার মত” সেই পিতার গায়ে আমি হাত তুলেছি আমি কত বড় কূপমণ্ডূক ইত্যাদি ইত্যাদি। পিতার গালে থাপ্পর মারার তীব্র অনুতাপে আমি যখন পুড়ছি তখনি ঘটনা নাটকীয় মোড় নিলো পিতার মত শিক্ষক ( সদ্য বুয়েট পাশ করা তরুণ ) আর কন্যা সম রুমকি আপুর বিবাহ ঠিক হল। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করলাম কিছুদিন আগে আমাকে দেয়া ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক উপদেশ কে সামনে এনে এবার গণধোলাই এর মুখোমুখি হলাম। আমার নতুন বোধোদয় হল সকল পিতাই পিতা নহে।

( প্যাঁচা বাবুর উপলব্ধি এবং আধুনিক ইশপের গল্পকথা চলবে যদি আপনারা ব্লগ এ লাইকান না লাইকালেও চলবে কারণ লেখক তার নিজ আনন্দে লেখে হে হে )
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×