দৃশ্যত মনে হচ্ছে, ম্যাচ জেতার পর
দর্শকদের ধন্যবাদ দিয়ে মাশরাফিরা খুব
অন্যায় করে ফেলেছেন!
ঘটনাটা হল, ম্যাচ
শেষে বাংলাদেশের
খেলোয়াড়রা মাঠে একটা চক্কর
দিয়েছেন।
নিজেরা হাতে তালি দিয়ে দর্শকদের
ধন্যবাদ জানিয়েছেন, অভিনন্দন
জানিয়েছেন।
এই মাঠ চক্কর
দেওয়াকে লোকেরা ‘ভিক্টরি ল্যাপ’
বানিয়ে ফেলেছে।
আফগানিস্তানের মতো পুচকে দলের
বিপক্ষে হেরে গিয়ে বাংলাদেশ
কেন ‘ভিক্টরি ল্যাপ’ দেবে, এ
নিয়ে এখন বাংলাদেশের
‘শুভাকাঙ্খি’রা রীতিমতো সমালোচনার
ঝড় তুলছেন। ঝড়টা তুলেছেন আকাশ
চোপড়াসহ কয়েক জন ভারতীয় ক্রিকেট
বোদ্ধা!
আসলে সোশ্যাল মিডিয়াতেই এ
নিয়ে এক ঝড় শুরু হয়ে গেছে।
একদিকে তারা বলছেন, এই
ভিক্টরি ল্যাপ দিয়ে বাংলাদেশ
ইজ্জত হারিয়ে ফেলেছে। আরেক
দিকে বাংলাদেশ
সমর্থকরা বোঝানোর চেষ্টা করছেন
যে, এটা মোটেও ভিক্টরি ল্যাপের
মতো কিছু ছিল না; এটা স্রেফ ধন্যবাদ
দেওয়ার জন্য একটা ল্যাপ ছিল।
এই পক্ষের যুক্তিটাই
মেনে নেওয়া সঠিক।
খেলোয়াড়দের এই ল্যাপ
যারা দেখেছেন,
তারা বুঝতে পেরেছেন;
এতে ভিক্টরি ল্যাপের
কোনো বৈশিষ্ট্য ছিল না। ছিল
মাঠভর্তি বাংলাদেশকে সমর্থন
জানাতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর
থেকে ছুটে আসা প্রবাসীদের
প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর চেষ্টা।
এই কৃতজ্ঞতা জানানোটা জরুরী ছিল।
মনে রাখতে হবে, ক্যানবেরা শহরে এমন
বেশী কিছু বাংলাদেশী বসবাস
করেন না। এই
ম্যাচটা দেখতে যারা মাঠ
ভরিয়েছিলেন, সেই
বাংলাদেশীরা সিডনি-মেলবোর্ন
থেকে কয়েক
ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে এসেছেন কষ্ট
করে। অবিরাম চিৎকার
করে দলকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। এই
মানুষগুলোকে একটু সম্মান
জানানোটা দরকার ছিল।
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায়
খেলতে যাওয়ার সুযোগই পায় না।
ফলে এই প্রবাসীরা যে কষ্ট
করে তাদের খেলোয়াড়দের জীবনের
তরে দেখতে এসেছেন;
সেটাকে অবশ্যই সম্মান
জানানো দরকার ছিল।
ফলে প্রথমত এই
ল্যাপকে ‘ভিক্টরি ল্যাপ’ ভেবে খুব হইচই
করার কিছু নেই।
দিনশেষে মাশরাফি বিন
মুর্তজা পরিষ্কার বলেছেন, তারা এই
ম্যাচ জয়ে এমন বড় কিছু করে ফেলেছেন
ভাবছেন না; তাদের বড়
চ্যালেঞ্জগুলো বরং সামনে। এই
কথা দিয়েই বোঝা যায়, তথাকথিত
ভিক্টোরি ল্যাপ দেওয়ার অবস্থায়
বাংলাদেশ ছিল না।
এখন আমার কথাটা অন্য জায়গায়-
বাংলাদেশ ভিক্টরি ল্যাপ দিলেই
বা এই হইচই করার অধিকার আকাশ
চোপড়াদের কে দিলো!
আমরা যারা বাংলাদেশী,
তারা হয়তো সমালোচনার অধিকার
রাখি। আমরা জাত্যাভিমানের
কারণে, অহংবোধের
কারণে আফগানিস্তানের
বিপক্ষে জিতে ভিক্টোরি ল্যাপ
দিলে রাগ করতে পারি।
আমরা বলতে পারি,
আমরা ভিক্টোরি ল্যাপ দেব
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে,
ভারতকে হারিয়ে;
যেটা আমরা দিয়েছিও। কিন্তু
যারা আসল হইচইটা করছেন, সেই আকাশ
চোপড়াদের কী এই অধিকার আছে?
ভারতীয় ক্রিকেটের একসময়ের বাতিল
ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া এবং একজন
ক্রিকেট ধারাভাষ্যকারই মূলত এই
ভিক্টোরি ল্যাপ
নিয়ে বেশী আপত্তি করছেন।
তারা বোঝাতে চাইছেন,
আফগানিস্তানের
বিপক্ষে বাংলাদেশের রোজই
জেতা উচিত; ফলে আনন্দের কিছু নেই।
ম্যাচের আগে কোথায় ছিলেন, জনাব
আকাশ?
ম্যাচ জুড়ে সারাক্ষন
আপনি আফগানিস্তানের পক্ষে টুইট
করে গেছেন। তাতে অন্যায় নেই।
কিন্তু
প্রতিটা টুইটে আপনি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন,
বাংলাদেশ ১৫ বছরে এক
ইঞ্চি উন্নতি করেনি, বাংলাদেশের
এই পর্যায়ে খেলার যোগ্যতাই নেই।
আপনার টুইটগুলো এক জায়গায়
করলে চোখে আঙুল
দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া সম্ভব, আপনার
ক্রিকেট জ্ঞান বলে বাংলাদেশের
চেয়ে আফগানিস্তান
ক্রিকেটে এগিয়ে গেছে।
এখন নিজের ফেলা থু থু
গিলে ফেলছেন?
আপনিই যাদের ‘পিছিয়ে থাকা’ দল
বলেছিলেন, সেই বাংলাদেশ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাহাড়
সমান ব্যবধানে জিতে যাওয়ার পর
আপনি বলছেন, এটাই স্বাভাবিক!
আসলে আপনারা কোনটা বলতে চান,
সেটা একটু পরিষ্কার করুন।
আপনাদের সব
সমালোচনা আমরা উড়িয়ে দেই না।
আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের অনেক
সমস্যা আছে। আমাদের ক্রিকেটের ১৫
বছরে যে উন্নতি করার কথা ছিল,
তা আমরা করতে পারিনি। সে জন্য এই
খেলোয়াড়রা যে দায়ী নয়;
দায়ী আপনাদের ভারতীয় বোর্ডের
চক্করে পড়া কর্মকর্তারা; সেটুকু
তো না বোঝার কথা নয়।
সেটাই যদি বোঝেন, তাহলে আমাদের
ক্রিকেটাদের ছোট করার এই
চেষ্টা করাটা যে অন্যায়,
তা তো না বোঝার কথা নয়।
আমরা বুঝি, আপনাদের রোমান্টিসিজম
বেচে খেতে হয়। তাই বলে যাকে একটু
আগে গালি দিলেন দুর্বল বলে, একটু পর
তাকেই শক্তিশালী দাবি করে হইচই
পাকানোর
মতো স্ববিরোধিতা করতে তো একটু
মান-সম্মানে বাঁধার কথা।
কী জানি, সেটা আছে কি না!
সংগৃহীত :-priyo.com
লিখেছেন:-দেবব্রত চট্টোপাধ্যায়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


