somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

14TH tHe VaLeNtInEs DaY

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-হাই জান......
-এই তোমাকে না বলছি এই জান ফান ডাকবা না....!!!!
-আজপ!!!!! তোমাকে বলবো না তো কি আরেক ছেলে কে বলব....!!!?
-প্লিজ....এই বিষয়টা নিয়ে প্যারা দিও না.....আমাকে এখন পড়াতে যেতে হবে।
-ওকে যাও।বাট এইটা কি মাস জান তো....?
-হু...ফেব্রুয়ারি.... তো....?
-তো মানে.....?এই মাসটা কত্ত ইম্পরট্যান্ট....
-উফ!!!!বুঝতে পারছি।আসি
মেয়েটা খুব বেশি চঞ্চল।অবশ্য বড়লোকের মেয়ে বলে কথা।তাও আবার বাবার একমাত্র আওলাদ।আর মোস্ট ইম্পরট্যান্ট সুন্দরি......
আর আমি......!!!!!দরিদ্র পরিবারের সন্তান।প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধে আমার সময় কেটে যায়।এস.এস.সি পাশ করার পর বাবা আমার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারেনি।তাই নিজেই নিজের খরচ চালিয়েছি।
দিনে ভাসিটি,তারপর বিকেল থেকে টানা রাত ১০ টা পযন্ত টিউশনি।তাই এই মেয়েটাকে সময় দিতে পারি না।তাও আঠার মত লেগে আছে।টিউশনির পর আমার সাথে দেখা করতে আসে।আমি বুঝলাম না কি দেখে আমার ওপর ক্রাশ খেল।
আসছে ১৪ঈ ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবস।তার আগে এখন আবার নতুন করে দিবস আরম্ভ হইছে।চকলেট,টেডি,প্রপোজ.....উফ!!!!!আরো কত কি!!!!!!....
-নিল...কই তুমি!!!!?
-বাসায়...
-তারাতারি ভাসিটি আস।
-আসছি
চিন্তা করতেছি মেয়েটা আজকে আবার কি আবদার করে।পকেটের অবস্থা ভালো না।এইসব চিন্তা করেই গেট দিয়ে ঢুকছিলাম আর মেয়েটা কে দেখলাম
কি কিউট লাগছে মেয়েটাকে....
-কি মিস্টার......হা কেনো....
-হা...!!!না কিছু না।বল.....?
-প্রপোজ কর....
-মানে কি!!!!!?
-মানে কি আবার.....!!!!আজকে প্রপোজ ডে।দেখ,আশেপাশের ছেলেদের।সবাই প্রপোজ করা নিয়ে ব্যস্ত।
আমি চারদিকে চোখ বুলালাম
-তা এখন কি আমাকেও করতে হবে!!!!তুমি তো আমাকে ভালবাসই....!!!!তো আর কি!!!!!...
-উফ!!!!এই গাধা টা বুঝে না কেন!!আরে নতুন করে ইন্টারেস্ট বাড়বে....?
-ওকে.....আই লাভ উ...(বিরক্ত হয়ে)
-এইভাবে বলে...!!!!(ওর মুখটা কালো হয়ে গেল)
-হাহ!!!!!!!!!আই.........লাভ.......উ.........হইছে....?
-হু... এবার হইছে....
বলেই জড়িয়ে ধরলো....আর বল্ল
-আই লাভ উ টু,ট্রি,ফোর......
ক্যাম্পাসে আগে যখন আসতাম কারো সাথেই কথা বলতাম না।আমি আবার একটু আধটু গীটার বাজাতে পারতাম।তাই মাঝে মধ্যে কমন রুম এ বসে গীটার বাজাতাম।এভাবেই অনেকের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম।কিন্তু এই মেয়েটার সাথে একটু বেশি ফ্রি হয়ে গিয়েছিলাম।মেয়েটির নাম লামিয়া.......
-আচ্ছা,হইছে....এখন ছাড়ো।
-হুম...চল আজকে সারাদিন ঘুরব।
এই আমার পেরেশানি বেড়ে গেল।টাকা নাই বেশি।
লামিয়া হয়তো বুঝতে পেরেছে
-আরে চল তো......এত চিন্তা কর কেন
রিক্সা নিয়ে সারা বিকাল ঘুরলাম।ওর হাসি,কথাবার্তা দারুন ইনজয় করলাম।কিন্তু হঠাৎ মনে হল আমার টিউশনি তে যেতে হবে।
-লামিয়া...আমার যেতে হবে....
এতসুন্দর পরিবেশ টা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল
-আজকে না গেলে হয় না....?
-ইয়ে মানে....
-ঠিক আছে।চল,তোমাকে দিয়ে আসি।
টিউশনিতে যাওয়ার আগ পযন্ত মেয়েটা আর কথা বলেনি।আমি বা কি করবো........!!!!
-পড়ানো শেষ হইছে....?(লামিয়ার ফোন)
-হুম।এখন বের হব।
-বের হও।আমি নিচেই আছি
-নিচে মানে.....
আমি তারাতারি নিচে নামলাম।দেখি লামিয়া দাড়িয়ে আছে।আমার কানে এখনো মোবাইল ধরা
-এই পাগলামির মানে কি লামিয়া..!!!? রাত কয়টা বাজে জানো.....?
-হু জানি.....তোমাকে আজকে অনেক মিস করছি।অন্য মেয়েগুলা কি সুন্দর তাদের বিএফ দের সাথে ঘুরেছে।আর আমি......
-লামিয়া.....তুমি জান আমি......
-আমি জানি নিল.....তুমি এখন দারিদ্রতার কথা বলবে.....?টাকা আসবে,যাবে বাট সময় কিন্তু আর আসেনা।আমি মানছি তুমি......
ওকে টেনে কাছে নিয়ে আসলাম।
-এত অভিমান কেন তোমার....?
-আমার কোন অভিমান নাই।
-আচ্ছা চল।ডিনার করবো
মেয়েটার আজ হল কি!!!!!
ওকে বাসায় দিয়ে আসতে আসতে ১২ টা বেজে গেছে।এসেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরেরদিন আমার সকালে টিউশনি থাকায় ভাসিটি আসিনি।পড়াচ্ছি এমন সময় লামিয়ার ফোন
-কোথায় তুমি....?
-আজকে সকালে টিউশনি ছিল।তাই আসি নি।আজকে মনে হয় দেখা করতে পারবো না।চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাব
-ও
-মন খারাপ করলে....?
-না......অল দা বেস্ট
চাকরি টা হল না।আমার নেতা গোছের কোন মামা চাচা নাই.....।
এরপরও দুইদিন লামিয়ার সাথে দেখা করিনি।বিভিন্ন জায়গায় চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাই।যার ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।
১৪ তারিখ ভালবাসা দিবস+লামিয়ার জন্মদিন।ভাবলাম ওই দিন ওর যত অভিমান আছে সব ভাংগাবো।
মোবাইল টা ভাইব্রেট মারল।দেখলাম লামিয়া মেসেজ দিসে
"আমি আজ তারাতারি ঘুমিয়ে পড়বো।কিছু বলার থাকলে বলে ফেল।পরে কিন্তু আর ফোন ধরবো না।"
আমি আপন মনে হাসলাম। মেয়েটা আসলেই বোকা।আমিও পাঠিয়ে দিলাম
"কিছু বলার নেই।তুমি ঘুমিয়ে পর"
আমি নিশ্চিত,মেয়েটা কেদে দিছে।এবার আমার কাজ শুরু করে দেই।
রাত ১ টা।মেয়েটাকে ফোন দিলাম।রিং হতে না হতেই ধরে ফেল্ল
-কি ব্যাপার ফোন দিছো কেন...?ফোন দিতে না নিষেধ করেছিলাম....(যতটা সম্ভব রাগি গলায় কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না)
-আমাকে কি কিছু বলতে দিবে....?
-কি বলবে আর.....!!!তোমার বলার আর কি আছে....তুমি তোমার স্টাগল নিয়ে থাকো।
-আমি তোমার বাসার নিচে।যতক্ষন না আসবে আমি এখান থেকে নড়বো না।
-তোমার যা ইচ্ছা কর
বলেই রেখে দিল।আমি যানি ও আসবে।১ মিনিট পরই আসল
ওকে দেখে ভীষন মায়া লাগলো।চোখগুলো কি ফুলে গেছে
-কি জন্য ডাকছো....?
-তুমি তো বল্লা আসবা না....তাহলে আসলে কেন...?
ঠাস......
-তোমাকে বলে আসতে হবে...?
আমিও আলতো করে ওকে চড় মারলাম।অবাক হয়ে ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে
-তুমি আমাকে চড় মারলে...?
-ইয়ে মানে.......এক জায়গায় পড়েছিলাম.....ঢিল মারলে পাটকাঠি খেতে হয়
লামিয়া কি ভাবল....আবার হেসে দিল....
-ও তাই না....!!!!কোনো ছাড়াছাড়ি নাই...?
-ইয়ে.....
-তাহলে আমি তোমাকে কিস করবো....তুমিও আমাকে করবা....?
-ওকে.....হোয়াট....?এরকম আমি কোথাও পড়িনি....
-আমি পড়েছি......
বলেই.............
আমি পুরাই নাই হয়ে গেলাম।
-কই এবার তুমি.....
-......
-ঠিক আছে....আমি পাওনা রইলাম।
আমি পিছন থেকে গোলাপ আর কিছু চকলেট বের করলাম
-হ্যাপি বাথডে.......
-ওয়াও....তোমার মনে ছিল.....?
-হুম....
-থ্যাংক উ।
-এবার তোমার পাওনা তা দেই......?
-ইশ!!!!!আমি গেলাম.....
-আরে আরে....কই যাও
এভাবেই চলতে থাকবে আমাদের মিষ্টি মধুর সম্পক।শুধু ভালবাসা দিবসেই ভালবাসা প্রকাশ করতে হবে এমন কথা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শান্তির ঠিকানা—পরিবার

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০




শান্তির ঠিকানা—পরিবার

ভালো থাকার জন্য অনেক কিছুই প্রয়োজন—অর্থ, সফলতা, সম্মান, স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু এসবের মাঝেও যদি ঘরে শান্তি না থাকে, তবে মনের ভেতর কোথাও যেন একটা শূন্যতা থেকেই যায়।

বাইরের পৃথিবী যতই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×