প্রচেত্য কেমন জানি আজ একটু অন্যদিনের তুলনায় বেশ আগেই বিছানা ছেড়ে উঠে এল। রাতেও ঘুমটা ভাল হয়নি, সারাটা রাত এপাশ ওপাশ করে আজ ঠিক ভোরেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। বিছানায় ঘুমবিহীন শুয়ে থাকাটা প্রচেত্য’র কাছে বিরক্তির ব্যপার। প্রচেত্য যখন ব্যলকনিতে দাড়িয়ে ছিল বেশ খানিকটা দূরের মসজিদ থেকে মুসল্লিদের জিকিরের সুর স্পষ্টই কানে এসছিল। আনমনে তাকিয়ে থেকে
কারেন্টের পিলারের খুটির ঠিক উপরে কিছু আর বাকী কিছু কারেন্টের লাইনে দাড়িয়ে কাকগুলো তাদের নিজ স্বরে কা কা করেই যাচ্ছিল। প্রচেত্য’র কানেও আসে কা কা শব্দটি হঠাৎই আনমনে থাকা বিক্ষিপ্ত উদাসী মনটাকে শব্দটির প্রতি আকর্ষিত হল। কি জানি কি মনে করে প্রচেত্য’র মনে হয় বাসার সামনে কাকেদের এমন সুর নাকি কোন অলক্ষণের সূত্র। প্রচেত্য একজন আধুনিকমনা মানুষ, কিছুতেই এসব বিশ্বাস করতে চাইনা। তাই বারবার ’কু’ বর্ণটি চোখের প্রতিচ্ছবিতে দেখতে পেলেও তেমন পাত্তাই দিলনা, নিজেকে দূরে সরিয়ে নেবার তাগিতে তাই ব্যালকনি থেকে ঘরের ভিতর ফিরে গেল।
সকালটা কেমন জানি আজ অন্যরকম শুরু হল এমনই ভাবনাই যখন গন্তব্য অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হল প্রচেত্য’র মনটা তষনও এক করতে পারছিল না। তবুও কর্মের টানেই হোক আর নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই হোক প্রচেত্য কে সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিল। অফিসে এসেও বসের সাথে ঠিক এ্যাডজাষ্ট করতে পারলনা। একটা পুরনো দ্বন্দ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল বেশ উত্তপ্তও হল। মনস্থির করে কোন এক প্রকার অফিসের সময়টা কখন যে গড়িয়ে গেল প্রচেত্য তার কিছুই টের পেলনা।
রাস্তায় প্রচুর জ্যাম, বাসও ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছিলনা যা একটি দুটি আসে তাও প্রচন্ড ভীর, কোন রকমে একটিতে উঠে নিজের জন্য ঠিক শেষ মাথায় স্থান করে নিল, কিন্তু ভাড়া দিতে গিয়ে আবিষ্কার করল তার মানিব্যাগটি খোয়া গিয়েছে।
ফিরতে ফিরতেই ভাবছিল, আজ সারাদিনের ক্লান্ত অবসন্ন দেহটাকে একটু বিশ্রাম দেবার জন্য বাসায় গিয়ে আর কোন কাজ করবেনা। বাসার ঠিক দরজার সামনে, খুলেছে মাত্র ঠিক পায়ের কাছে একটি কার্ড। বেশ আশ্চর্যই হল বটে, আজ সারাদিনের মধ্যে বোধ হয় এই প্রথম কোন বিষয়ে পুলকিত হল। বেশ আনন্দ নিয়েই কার্ডটা খুলে প্রচেত্য’র মনে যে বিষাদের ছায়া নেমে এল তাতে আকাশের সমস্ত মেঘ প্রচেত্য’র উপর ভর করেছিল। কার্ডটা তারই প্রচেত্য’র খুব কাছের একজন প্রিয় মানুষের।
প্রচেত্য’র রাতের খাওয়াটাও হলনা কোন রকমে বিছানায় গা এলিয়ে দিল, ঘুমও আসছিল না। শুধু কার্ডের ভেতরের লেখাগুলো চোখের সামনে ভেসে আসছিল আর কানে বাজছিল সকালে ব্যালকনির সামনে দাড়িয়ে থাকা কাকগুলোর চিৎকার।
প্রচেত্য যা ভাবছিল প্রচেত্য তা বিশ্বাস করেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



