২০০৯ সাল,
আমি ক্লাস এইটেএ পড়ি মাত্র, আর্থিক অসুবিধা এবং নানাবিধ কারনে পড়তে থাকা স্বনামধন্য স্কুল ছেড়ে দিয়ে অল্প বেতনে পড়ালেখা করা যায় এমন এক স্কুলে ভর্তি করে দিলেন আমার পরিবার। আমার তাতে কোনো আক্ষেপ ছিলো না। সে সময়েও কিছু আগে থেকেই অনেক অভাব অনটনের মধ্যেই সময় কাটছিল। আর আমার স্বভাব চরিত্র ছিল অতি অধম এবং আবাল টাইপের। যে যা বলত সেটাই বিশ্বাস করে 'হা' করে থাকতাম। তার ভিতর আবার বছরের ১২ মাসের ছয় মাস অসুস্থ থাকতাম।
২০১০ সাল,
কোনো ভাবে কিছু বড় ভাই এর সাথে পরিচয় হলো। আমার আবার সমবয়সি বন্ধু-বান্ধবের চেয়ে বয়সে বড়দের সাথে পরিচয় ভালো হয়। মানুষ খুব সহজেই আমাকে পছন্দ করে ফেলত। (হয়ত অসহায় চেহারার কারনে
(আমার আমার কাছে একজন ফেরেস্তার মত। আজও পর্যন্ত আমার সকল বিপদে একমাত্র তিনি আমাকে সাহায্য করেছেন, এবং আজীবন করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।)
সে সময় মায়ের অল্পকিছু গহনা ছিল যা বিক্রি করে আমার জন্য একটি কম্পিউটার কিনে আনেন। এবং আমাকে বলেন ভবিস্যতে আর কিছুর ইচ্চা হলে যেন কোনো সংকোচ না করে বলে ফেলি।
নাটকিয়তার ন্যায় আমার চোখে পানিও চলে এলো। অনেক খুশি লাগছে আমার একটা কম্পিউটার আছে রে !!! কিন্তু এইটা কিভাবে কি করে তা তো কিছুই জানি না। যা হউক কোন না কোন ভাবে শিখে নিলাম কিভাবে গান বাজনা শুনা যায় ভিডিউ দেখা যায় ইত্যা্দি .।.।.।.।
হুম, যারা আমাকে কম্পিউটার কিনার কথা বলেছিলেন তাদের কাছে গিয়ে বলেছি আমি একটা কম্পিউটার কিনেছি। হেব্বি দেখতে
দুই বছর পর বা তারও পর,
আমি অনেক চেঞ্জ হয়ে গিয়েছি হয়ত, এস এস সি পরিক্ষায় অংকে ফেইল করেছিলাম। রেজাল্ট এর কাগজ নিয়ে পার্কের এক বেঞ্চে শুয়ে সিগারেট টানছি। ভাবছেন দুঃখ পাইছি তাই এভাবে শুয়ে সিগারেট টানছি। না, ফেইল করে অনেক মজাই পাইছি। জীবনেও তো কখনও ফেইল করি নি। আর বোর্ড পরিক্ষায় কি সবাই ফেইল করতে পারে ? আমি পারছি
ভাবছি বাবা মা অনেক কস্ট পাবে। তারাও হাসি মুখে এটা মেনে নিয়েছে।
আর হাতে অনেক গুলো প্রজেক্ট আছে তা শেষ করতে একবছর ত লাগবেই। ও হ্যা বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম, আমি এখন কম্পিউটারে সব করতে পারি, অনেক কোম্পানির কাজ করেছি, প্রথমাবস্থায় ফ্রীল্যান্সার আর তারপর বিভিন্ন কোম্পানি সাথে ব্যাক্তি গত ভাবে চুক্তি বদ্ধ কাজ। আর আমাদের দেশেও অনেক যায়গায় কাজ কর্ম করছি। পকেট এখন অলটাইম হট থাকে। তবে যখন টাকা ছিল না তখনকার মত সখ আল্লাদ আর কেন জানিনা নেই।
আর এই সব কিছু তাদের জন্যই সম্ভব যারা আমাকে সেদিন কম্পিটার কিনতে বলেছিলেন।
২০১৪ এখন শেষের দিক.।.।.।
এখন কেমন জানি আরো চেঞ্জ হয়ে গেছি। শারিরীক অসুস্থতা যেন আরো বেশি করে চেপে বসেছে। এই বয়সেই অনেক রকম ব্যবসার সাথে জরিয়ে গেছি। তবে হ্যা আমি খারাপ কিছু করি না।( আমি মানুষ ভালই
আগে অনেক স্বপ্ন দেখতাম, বড় হলে এটা হব ওটা হব। আর এখন মাথার ভিতর শুধু টাকার চিন্তা। বয়স কম হলেও আমি অনেক কিছুর স্বাদ গ্রহন করেছি যা সবার জন্য সম্ভব নয়। কখনও টাকা ভর্তি ব্যাগের ওজন বাহিবার সুখ আবার কখনও শুন্য পকেটে ক্ষুধা নিবারনের সুখ।সব কিছুর পরও আমি পিছনেই পরে রইলাম, আমি সেই আগের মতই আবাল আছি।
এখন কারো সাহায্যের হাত দরকার।
না, টাকা পয়সার সাহায্য লাগবে না। একজন ভালো বন্ধুর দরকার যে কি না অন্তত প্রতিদিন একবার ফোন দিয়ে বলবে
ছেলে বন্ধু হলেঃ দোস্ত তুই কই আইজ তুর জন্যে এমন একটা মাল পাইছি যা দেখলেই তুই টাল হয়ে যাবি।
মেয়ে বন্ধু হলেঃ দোস্ত তুই কই আইজ আমি তুরে আইলাভিউ কমু, তারা তারি আয়, আর হ্যা বাসায় থেকে খেয়ে আসিস। বাহিরে আমি খাওয়াইতে পারুম না। আর তোর থেকেও খামু না।
যারা কস্ট করে এই অহেতুক লেখাটুকু পড়লেন তাদের কে অনেক ধন্যবাদ, আপনাদের কাছে আমার এত টুকুই চাওয়া আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যেন অতি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাই।
আর, যারা অনেক দুঃখে কস্টে আছেন তারা কখনও হতাস হবেন না। চেস্টা করুন কিছু একটা করার। অন্য কাওকে অনুসরন না করে নিজেকে অনুসরন করুন তাতে আরো দ্রুত সফল হবেন।
সবাই ভালো থাকবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




