somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্য স্পীডঃ কমেডির জগতে এ এক বিপ্লব

২৮ শে মে, ২০১২ সকাল ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্পীড ছবিটির কথা গত কয়েকদিন ধরেই পাবলিকের মুখে মুখে ঘুরছে। আমি এমনিতেই সিনেমা হলের খুব বেশী নিয়মিত দর্শক না। কিন্তু ছবিটি বেশ আলোড়ন তুলেছে বিধায় না যেয়ে পারলাম না। সিনেমা দেখার পর মনে হল অনেক দিন পর আমি একটি অতি মহৎ এবং উঁচু দরের শিল্প কর্ম দেখলাম। আমার মত একজন খুবই সাধারণ দর্শকের এই অসাধারণ সিনেমাটি সম্বন্ধে মন্তব্য করা একেবারেই সাজে না। কিন্তু সিনেমাটি আমাকে এতই আলোড়িত করেছে যে কিছু প্রতিক্রিয়া জানাতে নিজেকে একেবারেই নিবৃত্ত করতে পারছিনা।

আমার মনে হয় এই ছবিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এবং অর্জন হচ্ছে যে এটি একটি চরম মারমার কাটকাট সামাজিক একশনধর্মী সিনেমাকে একটি নির্মল আনন্দময় কমেডিতে পরিণত করেছে। বাংলা কমেডির জগতে রীতিমত একটি বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। সিনেমাটিতে খুবই সিরিয়াস টাইপের একশন রয়েছে যেখানে প্রচুর রক্তারক্তি ব্যাপার রয়েছে, কিন্তু সেটা দর্শককে মোটেও আক্রান্ত করছে না। বরং সেই সব ভয়ংকর ভয়ংকর দৃশ্যে দর্শকদের মুখে আনন্দের একটা আভা লেগেই আছে। কিছু কিছু পৈশাচিক দৃশ্যে দর্শক উল্লাসে হই হই করে উঠছেন। কমেডি কত উৎকৃষ্ট মানের হলে এরকম হতে পারে তা বিশ্বাস করা যায় না। একটা উদাহরণ দেই।

ছবির শেষের দিকে একজন নায়িকা যখন মারা যাচ্ছে তখন নায়ক দুঃখে কষ্টে চিৎকার দিচ্ছে “কিরিশটিনা (ক্রিস্টিনা) তুমি কুথায় (কোথায়)?” অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় তাঁর ঠোট বেঁকে যাচ্ছে! কিন্তু কি আশ্চর্য, দর্শক তখন হেসেই গড়িয়ে পড়ছে। আমার মনে হয় এখানেই পরিচালকের মুন্সীয়ানা। এরকম চরম বিয়োগান্ত একটি দৃশ্যতে দর্শককে হাসির খোরাক যোগানো কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু এই অনেকখানি অসম্ভব কাজটি পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান করে দেখিয়েছেন। তাঁর প্রতি আমার আকাশ চুম্বী শ্রদ্ধা আমি কোথায় রাখবো ভেবে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি!

আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় এই ছবিটিতে উঠে এসেছে সেটি হলো যে এটি একটি বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক ছবিও হতে পারে। সেটি হলো ইংরেজী ভাষার শিক্ষা। আমি সাত বছর আমেরিকায় থেকে ভেবেছিলাম ইংরেজী ভাষাটা নিদেন পক্ষে ভাল জানা আছে। কিন্তু এই ছবিটির নায়কের ইংরেজী শোনার পর মনে হলো আমি কি মূর্খ! অনেক সামান্য সামান্য শব্দের উচ্চারণও আমি ভাল করে জানতাম না। আমি একেবারে জানা ছিলনা যে কাউকে থামতে বললে “স্টপ, ডোন্ট মুভ” সঠিক উচ্চারণ হবে না, আসলে হবে “ইশটপ, ডন্ট মব”।

নিজের অজ্ঞানতায় আমার লজ্জ্বায় মাথা কাটা যাওয়ার অবস্থা! আমাকে এই চরম লজ্জ্বা এবং অপমানের শিকার কিছুক্ষণ পর পর হতে হয়েছে যখনই নায়ক ইংরেজী ভাষায় তাঁর মনোভাব প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁরপরেও আমার এই সান্ত্বনা যে আমি ইংরেজী ভাষার সঠিক উচ্চারন জেনে অজ্ঞানতার আঁধার থেকে মুক্ত করে নিজেকে আলোকিত করতে পেরেছি।

আর এই ছবির নায়কের অভিনয় শৈলী সম্বন্ধে কিছু কথা না বললেই নয়। ছবিতে তাঁর নাম অনন্য। তিনি কিন্তু আসলেই অনন্য। তিনি ওয়ান পিস মেইড, কারিগর ডেড। ছবির মূল আকর্ষণই তিনি। কি অদ্ভুত তাঁর শারীরিক গঠন, কি অসাধারণ তাঁর বাচন ভংগী! বাংলা সিনেমার জগতে উত্তম কুমারের পরে এই প্রথম একজন নায়ক এই রকম একক নৈপুন্যে একটি সিনেমাকে অন্য রকম উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা দেখালেন!

পরিশেষে বলছি, আমার মনে হয় যারা এই ছবিটি এখনই দেখেননি তাঁরা নিজেদেরকে একটি অনন্য শিল্পকর্ম উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। এই রকম দর্শকদের উদ্দেশ্য করে আমার সদ্য লদ্ধ সঠিক ইংরেজী উচ্চারণ জ্ঞান থেকে বলছি “ডন্ট ওয়েট, ডন্ট ইশটপ, মব টু সিনেপ্লেক্স রাইট নাও।“
১৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×