স্পীড ছবিটির কথা গত কয়েকদিন ধরেই পাবলিকের মুখে মুখে ঘুরছে। আমি এমনিতেই সিনেমা হলের খুব বেশী নিয়মিত দর্শক না। কিন্তু ছবিটি বেশ আলোড়ন তুলেছে বিধায় না যেয়ে পারলাম না। সিনেমা দেখার পর মনে হল অনেক দিন পর আমি একটি অতি মহৎ এবং উঁচু দরের শিল্প কর্ম দেখলাম। আমার মত একজন খুবই সাধারণ দর্শকের এই অসাধারণ সিনেমাটি সম্বন্ধে মন্তব্য করা একেবারেই সাজে না। কিন্তু সিনেমাটি আমাকে এতই আলোড়িত করেছে যে কিছু প্রতিক্রিয়া জানাতে নিজেকে একেবারেই নিবৃত্ত করতে পারছিনা।
আমার মনে হয় এই ছবিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এবং অর্জন হচ্ছে যে এটি একটি চরম মারমার কাটকাট সামাজিক একশনধর্মী সিনেমাকে একটি নির্মল আনন্দময় কমেডিতে পরিণত করেছে। বাংলা কমেডির জগতে রীতিমত একটি বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। সিনেমাটিতে খুবই সিরিয়াস টাইপের একশন রয়েছে যেখানে প্রচুর রক্তারক্তি ব্যাপার রয়েছে, কিন্তু সেটা দর্শককে মোটেও আক্রান্ত করছে না। বরং সেই সব ভয়ংকর ভয়ংকর দৃশ্যে দর্শকদের মুখে আনন্দের একটা আভা লেগেই আছে। কিছু কিছু পৈশাচিক দৃশ্যে দর্শক উল্লাসে হই হই করে উঠছেন। কমেডি কত উৎকৃষ্ট মানের হলে এরকম হতে পারে তা বিশ্বাস করা যায় না। একটা উদাহরণ দেই।
ছবির শেষের দিকে একজন নায়িকা যখন মারা যাচ্ছে তখন নায়ক দুঃখে কষ্টে চিৎকার দিচ্ছে “কিরিশটিনা (ক্রিস্টিনা) তুমি কুথায় (কোথায়)?” অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় তাঁর ঠোট বেঁকে যাচ্ছে! কিন্তু কি আশ্চর্য, দর্শক তখন হেসেই গড়িয়ে পড়ছে। আমার মনে হয় এখানেই পরিচালকের মুন্সীয়ানা। এরকম চরম বিয়োগান্ত একটি দৃশ্যতে দর্শককে হাসির খোরাক যোগানো কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু এই অনেকখানি অসম্ভব কাজটি পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান করে দেখিয়েছেন। তাঁর প্রতি আমার আকাশ চুম্বী শ্রদ্ধা আমি কোথায় রাখবো ভেবে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি!
আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় এই ছবিটিতে উঠে এসেছে সেটি হলো যে এটি একটি বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষামূলক ছবিও হতে পারে। সেটি হলো ইংরেজী ভাষার শিক্ষা। আমি সাত বছর আমেরিকায় থেকে ভেবেছিলাম ইংরেজী ভাষাটা নিদেন পক্ষে ভাল জানা আছে। কিন্তু এই ছবিটির নায়কের ইংরেজী শোনার পর মনে হলো আমি কি মূর্খ! অনেক সামান্য সামান্য শব্দের উচ্চারণও আমি ভাল করে জানতাম না। আমি একেবারে জানা ছিলনা যে কাউকে থামতে বললে “স্টপ, ডোন্ট মুভ” সঠিক উচ্চারণ হবে না, আসলে হবে “ইশটপ, ডন্ট মব”।
নিজের অজ্ঞানতায় আমার লজ্জ্বায় মাথা কাটা যাওয়ার অবস্থা! আমাকে এই চরম লজ্জ্বা এবং অপমানের শিকার কিছুক্ষণ পর পর হতে হয়েছে যখনই নায়ক ইংরেজী ভাষায় তাঁর মনোভাব প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁরপরেও আমার এই সান্ত্বনা যে আমি ইংরেজী ভাষার সঠিক উচ্চারন জেনে অজ্ঞানতার আঁধার থেকে মুক্ত করে নিজেকে আলোকিত করতে পেরেছি।
আর এই ছবির নায়কের অভিনয় শৈলী সম্বন্ধে কিছু কথা না বললেই নয়। ছবিতে তাঁর নাম অনন্য। তিনি কিন্তু আসলেই অনন্য। তিনি ওয়ান পিস মেইড, কারিগর ডেড। ছবির মূল আকর্ষণই তিনি। কি অদ্ভুত তাঁর শারীরিক গঠন, কি অসাধারণ তাঁর বাচন ভংগী! বাংলা সিনেমার জগতে উত্তম কুমারের পরে এই প্রথম একজন নায়ক এই রকম একক নৈপুন্যে একটি সিনেমাকে অন্য রকম উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা দেখালেন!
পরিশেষে বলছি, আমার মনে হয় যারা এই ছবিটি এখনই দেখেননি তাঁরা নিজেদেরকে একটি অনন্য শিল্পকর্ম উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। এই রকম দর্শকদের উদ্দেশ্য করে আমার সদ্য লদ্ধ সঠিক ইংরেজী উচ্চারণ জ্ঞান থেকে বলছি “ডন্ট ওয়েট, ডন্ট ইশটপ, মব টু সিনেপ্লেক্স রাইট নাও।“

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


