হাইলাইটসঃ বিশ্বের প্রথম ৬০০ টি এবং এশিয়ার প্রথম ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। কিন্তু আমাদের একই ভাষাভাষী পশ্চিম বংগের কলকাতা ইউনিভার্সিটি আছে, পাকিস্তানের দু'তিনটে আছে। ভারতের আরো বেশ কয়েকটি আছে। বিস্তারিত জেনে দুঃখ বাড়াতে চাইলে এগিয়ে যান....
পূর্ব কথা
কিছুদিন আগে ফেইসবুকে ঢাকা ইউনিভার্সিটির একটি বিশেষ বিভাগ নিয়ে কিছু বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছিলাম। আমার অনেক প্রিয় ছাত্র ছাত্রী আমাকে তাদের ফেইসবুক একাউন্ট থেকে বহিষ্কার করে তাদের বিরাগের প্রমান রেখেছেন। এইসব বিতর্কিত আলোচনার পর আমার মনে হলো এই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এতো কথা বলছি, আসলে কি অবস্থা? আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা যখন করি তখন মোটামুটি সবাই একমত হই খোদ বিশ্বে বাদ দিলাম, এই এশিয়াতেই অবস্থা হয়তো সুবিধার না। কিন্তু এসবই একটা পারসেপশন বা ধারণা। কংক্রিট কোন কিছু নয়। তাই সেরকম কিছু একটা বোঝার জন্য প্রথমেই স্বাভাবিক ভাবে মাথায় যেটা আসে সেটা হলো আচ্ছা পৃথিবীর তাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কি অবস্থা সেটা বোঝার চেষ্টা। পৃথিবীর সব বিশ্ববিদ্যালয়ের তো একটা র্যাঙ্কিং থাকার কথা। ছাত্র ছাত্রীরা যারা বাইরে পড়াশুনা করতে যায় তাদের তো মোটামুটি, বিশেষ করে নর্থ আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিং ঠোঁটের আগায় থাকে। তাদের তো আর ঢাকা ইউনিভার্সিটির র্যাংকিং নিয়ে কোন আগ্রহ থাকার কথা নয়। তাই র্যাংকিং এর সন্ধানে চললাম আমি নিজেই আন্তর্জালিক মহাসমুদ্রে।
র্যাংকিং এর ইতিবৃত্ত
পাওয়া গেল দু’তিনটে র্যাংকিং যেগুলো কিনা বেশ সমাদৃত। একটি হলো টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়র্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং। উইকিপিডিয়া জানান দিচ্ছে যে এটি প্রকাশ করে টাইমস হায়ার এডুকেশন নামে একটি বৃটিশ ম্যাগাজিন । এর তথ্য উপাত্ত যোগান দেয় থমসন রয়টার্স যাদের রয়েছে বিশাল সাইটেশন ডেটাবেইজ। ২০০৪ সাল থেকে টাইমস বিশ্বের তাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিং করে আসছিল আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যার নাম হলো কোয়েকারেলী সাইমন্ডস, সংক্ষেপে যাকে বলে কিউ এস। এটিও যুক্তরাজ্য ভিত্তিক। ২০১০ সালে এসে টাইমস আর কিউ এস মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। স্বামী স্ত্রী এর মধ্যে যে প্রধান কারণে ডিভোর্স হয় এখানেও তাই। মতবিরোধ থেকে মনোমালিন্য, সেই থেকে ডিভোর্স ফাইল করে টাইমস। কারণ হলো র্যাংকিং এর পদ্ধতি টাইমস এর পছন্দ হচ্ছিল । এরপর থেকে তারা স্বাধীন ভাবে আলাদা আলাদা ভাবে র্যাংকিং প্রকাশ করতে থাকে । এখন প্রধানত এই দু’টো ছাড়াও আরেকটি র্যাংকিং আছে যেটি বেশ সমাদৃত সেটি হলো একাডেমিক র্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস (এ.আর.ও.ডব্লিউ.)। এটি চীনের সাং হাই ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত হয়। দেখে ভাল লাগলো। এংলো স্যাক্সন ডমিনেন্স থেকে বেরিয়ে এসে আমার ওরিয়েন্টাল সহমহাদেশীয় ভাইদের র্যাংকিং ও যে বিশ্ব সমাদৃত হচ্ছে দেখে পুলকিত অনুভব করলাম।
টাইমসঃ হতাশা আর হতাশা
টাইমস র্যাংকিং দিয়ে শুরু করলাম। যা দেখলাম তাতে আমার খারাপ লাগলো কিন্তু খুব একটা অবাক হলাম না। টাইমস র্যাংকিং এ বিশ্বের প্রথম ৪০০ টা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা তো কোন ছাড়, ভারতের বোম্বে আই আই টি ছাড়া আর কোনটা এই উপমহাদেশের মধ্যে নেই। তবে যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী পাওয়ার হাউজ ভাই বেরাদারদের অবস্থা আমাদের থেকেও খুব কিছু ভাল নয়, তাই হতাশা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারলাম।
তারপর নিজের মধ্যে একটা বিশ্বজনীন ভাব এনে বিশ্ব র্যাংকিং এর দিকে তাকানোর চেষ্টা করলাম। ঢাকা ইউনিভার্সিটির অবস্থা খারাপ তো কি হয়েছে, পুরো বিশ্বই তো আমার পাঠশালা। এইসব ভেবে নিজেকে চাঙ্গা করে বিশ্বের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলাম। টাইমস র্যাংকিং এ বিশ্বে প্রথম হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, তারপর হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ড। তিনটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, আর কোথায় হবে? এদের যন্ত্রণায় আর পারলাম না। পৃথিবীর সব কিছু নিজের হাতের মুঠোয় না ফেললে মনে হয় এদের পেটের ভাত হজম হয় না। পতন হবে তোদের একদিন, হবেই হবে।
অভিশাপ দিতে দিতে এবার নিজ মহাদেশে ফিরে আসি। এশিয়ার প্রথম তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব টোকিও, ইউনিভার্সিটি অব হংকং এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর যেগুলো ওয়ার্ল্ড র্যাঅঙ্কিং এ যথাক্রমে ৩০, ৩৪ এবং ৪০ তম। হুমম, চিংকুরা আসলেই জাঁকিয়ে বসেছে। কোন সন্দেহ নাই।
কিউ এসঃ চোখে আংগুল
এইসব দেখে একটু নিরাসক্ত ভাবেই যাই দ্বিতীয় র্যাংকিংএ। কিউ এস র্যাংকিং টাইমস এর তুলনায় আরও বিস্তৃত। সেখানে ৭০০ টি ইউনিভার্সিটির দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। এইবার আর আগের মত ভুল করলাম না। প্রথমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে নিজেকে হতোদ্যম করলাম না। গম্ভীর একটা দৃষ্টিতে লিস্ট এর প্রথম থেকে দেখা শুরু করলাম। প্রথমে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ, তারপর হার্ভার্ড আর এম আই টি। হুমম! ক্যামব্রিজ টাইমস এর র্যাংকিং এ ছিল ছয় নম্বরে। কিউ এস এর র্যাংকিং এ এক নম্বরে উঠে এসেছে। মতবিরোধ তাহলে তো ভালই। এরপরে কি আর একসাথে থাকা যায়?
তবে কিউ এস এর একটা ভাল ব্যাপার হলো তারা এশিয়ার জন্য আলাদা একটা ডিটেইল্ড র্যাংকিং করে। এশিয়ার মধ্যে প্রথমেই হংকং ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, তারপর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এবং তৃতীয় স্থানে ইউনিভার্সিটি অব হংকং। এই র্যাংকিং এ ৯৫ শতাংশই হয় চায়না, কোরিয়া, জাপান নয়তো কোন পূর্ব এশিয়ার দেশের। সূর্য যেমন পূর্ব দিকে ওঠে, এশিয়ার জ্ঞান বিজ্ঞানের আধার এখন পূর্ব দিকে গন গন করছে।
এখন ভয়ে ভয়ে উপমহাদেশের দিকে ফিরে আসি। মন খারাপ কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু নেই। এশিয়ার র্যাংকিং এ ভারতের আই আই টি কে পাওয়া যাবে কিছুক্ষন পর পর। এর মধ্যে আই আই টি বোম্বে আছে ৩৪ নম্বরে সবার আগে এশিয়ার মধ্যে এই হতভাগা উপমহাদেশ থেকে। । আই আই টি ছাড়া অন্যান্য ইউনিভার্সিটির মধ্যে দিল্লী ইউনিভার্সর্টি আছে ৭৮ নম্বরে। আরে অনেকক্ষণ পরে একটু ভাল লাগলো আমার কলকাতার দাদাদের দেখা পেয়ে। কলকাতা ইউনিভার্সিটি আছে ১৪৩ নম্বরে।
সেই ভাল লাগাটা দ্রুত কেটে গেল পাকিস্তানের অবস্থা আমাদের চেয়ে ভাল দেখে। পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ইসলামাবাদ ১০৮ নম্বরে। এছাড়া করাচী ইউনিভার্সিট (১৯১-২০০) , আগা খান ইউনিভার্সিটি (২০১-২৫০), ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি, লাহোর (২০১-২৫০), লামস (২৫১-৩০০)।এই ইউনিভার্সিটি গুলোর র্যাংকিং একটা র্যা ঞ্জের মধ্যে রাখা হয়েছে কারণ বেশ কয়েকটা ইউনিভার্সিটির মধ্যে পার্থক্য নিরুপন করা এত কঠিন যে তাদেরকে আলাদা করে র্যাংেকিং করাটা খুব কঠিন।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি আছে এশিয়ার মধ্যে ২০১-২৫০ এই রেঞ্জের মধ্যে। মানে হলো টপ ২০০ এশিয়ার (এশিয়ার, পৃথিবীর নয়!) ইউনিভার্সিটির মধ্যে আমাদের সাধের ঢাকা ইউনিভার্সিটি নাই। দিল্লী আছে, পাকিস্তান আছে এমনকি কলকাতাও আছে, কিন্তু ঢাকা নেই। আর সারা পৃথিবীতে ঢাকা ইউনিভার্সিটির র্যাঙ্কিং জানার আগে আপনি যদি এই ইউনিভার্সিটির সাথে কোনভাবে সংস্লিষ্ট হোন, তাহলে নিজেকে শক্ত করুন। র্যাঙ্কিং হলো ৬০১ + মানে প্রথম ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও আমরা নেই এই পৃথিবীতে!
সাংহাই, এবারও নাই নাই
এবার আসি লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট, এ.আর.ও.ডব্লিউ. র্যা ঙ্কিং যেটি সাং হাই থেকে প্রকাশিত হয়। আমি এতক্ষণে মোটামুটি অধিক শোকে পাথর হয়ে গেছি। তাই এখানে যা দেখলাম তা আমাকে খুব একটা নাড়া দিলো না। এখানে আমাদের এ এই উপমহাদেশে ভারতের ছাড়া আর কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যে ভারতের একটিও আই আই টির নাম নেই। আছে যেটি সেটি হলো ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স (আই আই এস)। এই র্যাংকিং সম্বন্ধে একটা সমালোচনা সাধারণত হয়ে থাকে সেটা হলো এটা ন্যাচারাল সাইন্সের উপর বেশী জোর দিয়ে থাকে সামাজিক বিজ্ঞান বা মানবিক এবং শিক্ষা দানের মানের চেয়ে। এই র্যাংকিং এ গবেষণার উপর বিশেষ জোর দেয়া হয়ে থাকে। সুতরাং এতে উপমহাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে যাবে এত কোন সন্দেহ নেই।
বুয়েটঃ আমি হতভম্ব
বুয়েট কে নিয়ে আমি যা দেখলাম তাতে বেশ বিভ্রান্ত। কোন র্যাংকিং এ এই বুয়েটের কোন অবস্থান নেই। সবচেয়ে বিস্তৃত যেটি কিউএস, সেখানেও বুয়েটের কোন বুয়েটের অবস্থান নেই। এটাকে কি এমন কোন কারণে হতে পারে যে বুয়েট সম্বন্ধে কোন তথ্য তাদের ডেটাবেইজে নেই। আমি জানি না। সেটা যদি না হয়ে থাকে তাহলে তাহলে বেশ আতঙ্কের ব্যাপার। এটা তো কোন সন্দেহ নেই বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের প্রাথমিক লক্ষ্য থাকে আইবিএ অথবা বুয়েট। তাহলে কি আমাদের সর্বোচ্চ মেধাবীরা এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে ছুটছে যেটির আসলে বিশ্বে কোন গ্রহনযোগ্যতা নেই? আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই না। কেউ প্লীজ আমাকে ভুল প্রমান করুক।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গেল কোথায়?
বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোন ঠিকানা ঠিকুজি পাওয়া গেলো না উপরের র্যাংকিং গুলোতে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মাঝে মাঝে জানান দেয়ে যে তারাও আছে একটা র্যাঙ্কিং এর কথা উল্লেখ করে যেটি আসলে একজন বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রকৃত ভাবে যাচাই করার কোন উপায় রাখেন না। সেটি হলো ওয়েবওমেট্রিক্স নামে একটি র্যাংকিং যেটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যাচাই করে ওয়েবে তাদের উপস্থিতি কি রকম আছে সেটা দিয়ে। মানে কোন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা হোক আর নাই হোক, ওয়েব সাইট যদি ঝাকানাকা হয় তাহলেই কাজ হয়ে যাবে। কাকতালীয়ভাবে এই র্যাংকিং বাংলাদেশ এ প্রথমে আছে বুয়েট, তারপর ঢাকা ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথমে ব্র্যাক, তারপর ড্যাফোডিল। যাই হোক, বুঝতেই পারছেন এই র্যাংকিং কে খুব একটা গুরুত্বের সাথে নেয়ার কোন কারণ নেই।
শেষ কথা
আমাদের এখন সময় এসেছে একটু আবেগে ভেসে না যেয়ে একটু গভীর ভাবে চিন্তা করার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়টুকু অনেকের জন্য বেশ মধুর। এখানেই এসে প্রথমবারের মত পারিবারিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা পাওয়া, হয়তো প্রথম প্রেম, বন্ধনহীন পাখির মত ঘুরে ফিরে বেড়ানো, বন্ধুদের সাথে এক সাথে ঘুরে বেড়ানো, কনসার্ট, স্টাডি ট্যুর কত মজার স্মৃতি। তাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে ইউনিভার্সিটির অভিজ্ঞতা সবার মনে একটু আনন্দের প্রলেপ হিসেবে থেকে থাকে। তাই কেউ বলতেই পারে ইউনিভার্সিটি ওয়াজ দি বেস্ট পার্ট অব মাই লাইফ। কিন্তু সেই সাথে মনে রাখতে হবে, আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যাই হোক না কেন, উপরের বিশ্লেষন বলছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একটি ভয়ংকর খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাই চোখ খুলে কিছু কঠিন সত্যকে হজম করে কিভাবে এই অবস্থা থেকে বের হওয়া যায় সেটা চিন্তা করতে হবে। আরে সেটি যদি একটু কষ্টসাধ্য হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর স্মৃতি নিয়েই বাকী জীবনটা কাটিয়ে দেয়া যেতে পারে।
দ্রষ্টব্যঃ
Click This Link
http://www.topuniversities.com/
http://www.shanghairanking.com/
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


