somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাওয়াই মিঠাই

০৬ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত্রির যাপিত জীবনের উল্টোমুখী যাত্রাটা আসলে শুরু হয় তার স্বামী রাশেদের মোটামুটি নামকরা এক গার্মেন্টসে জিএম হবার পর ।

“ সত্যিই তুমি বড় দয়াবান খোদা । কি দাওনি তুমি আমাকে ? আমার জীবন কানায় কানায় ভরে দিয়েছ । তোমার রহমত আমি সবসময় স্বীকার করি খোদা । এইভাবে আমাদের সারাজীবন সুখে শান্তিতে রেখ ।“

গুলশানের বিলাসবহুল যে ফ্ল্যাটে অনিয়মিতভাবে উপাসনা করে রাত্রি এইভাবে তার কৃতজ্ঞতা স্রষ্টার সমীপে নিবেদন করে, তার কতটুকুন অংশে প্রথাসিদ্ধ পথের অর্জিত আয়ের বলার মত অবদান আছে – রাত্রি সেইসব গন্ডোগলের হিসেবে যেতে চায় না । এইসব বিষয় প্রশ্ন হয়ে মাথার ভিতর মাথা চাড়া দেয়া মাত্রই সে নিজেকে অন্য বিষয়ে সমর্পিত করবার চেস্টা করে ।

সেই কবে, কতদিন রিক্সা ভাড়া বাঁচাবার জন্য আর যাত্রীভরতি কাত হয়ে যাওয়া বাসে উঠতে না পেরে মতিঝিল থেকে বনগ্রাম লেনের অনেক ভেতরকার দিকের ভাড়া বাসায় হেঁটে আসতে হয়েছে সেই স্মৃতি এখনো রাত্রির কোন উদাস রাত্রিতে মনে পড়ে যায় । আজও রাত্রি অফিস করে, তবে তা এলিয়নে করে ।

রাত্রির বসটাও পড়েছে ভালমানুষ টাইপের । প্রয়োজনের ছুটিগুলো তো আছেই, পাশাপাশি যখনই সুযোগ পায় রাত্রি নানান অজুহাত প্রয়োজনের রঙে রাঙ্গিয়ে যতরকম ভাবে পারা যায় আরো ছুটি বের করে নেয় । অথচ বেসরকারি চাকরিতে আরো বিশেষ করে ব্যাঙ্কের চাকরিতে ছুটি পাওয়া এত সহজ কথা নয় ।রাশেদের মত অনেকেই যেখানে এ সমাজে বড় বড় অনিয়মগুলো করছে, সে হিসেবে এইসব টুকটাক অনিয়ম করলে ক্ষতি কি – এমন ভাবনায় হয়ত কখনো রাত্রি নিজের অজান্তেই ফিক করে হেসে দিয়েছে ।

আজ রাতের খাবার শেষে কাজের মেয়েকে তাগাদা দিয়ে রাত্রি তাড়াতাড়ি সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছিল কারণ আজ তার ভীষণ “ইচ্ছে” করছিল । আরো খুশি হয়েছিল রাশেদ তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসায় । প্রায় দিনই সে দেরি করে ফেরে । আর বলে বেশি টাকা কামাতে হলে পরিশ্রম তো বেশি করতেই হবে । অপ্রথাসিদ্ধ পথে এত কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা – এটা রাত্রির কাছে জাদুবিদ্যার কোন বিষয় মনে হয় । রাশেদও সিস্টেমটা ক্লিয়ার করে বলে না । দু’একবার সে স্বামীকে বলেছে – এত টাকা দিয়ে কি হবে ? তাছাড়া যার এত কাজ সেও মাঝে সাঝে শরীর খারাপের কথা বলে দুপুরে বাসায় চলে আসে – এই ব্যাপারটা নিয়েও রাত্রির ভাবনা ও সতর্কতা এবং খটকা বরাদ্দ আছে ।

কাপড়টা পাল্টাতে গিয়ে গোলাপি রঙের একটা জামা বের করল রাত্রি । ছেলেরা লাল জাতীয় রঙের কাপড়ে আকৃষ্ট হয় বেশি – এটা রাত্রি তার ইচ্ছের দিনগুলোতে মনে রেখে ড্রেস চুজ করে । যদিও দুজনের আকর্ষণে এখন ভাটার টান, তবুও এ অভ্যাসটা বহাল আছে ।

ঘরে ঢুকে দেখল রাশেদ উলটা দিকে মুখ ঘুরিয়ে মোবাইলে কি যেন করছে । রাত্রি সুড়সুড়ি দিয়ে বলল
- কি এত কাজ কর মোবাইলে ? নাকি সময় কাটানোর জন্য গুতাগুতি করছ ?
~ আহা, কাজ করতেছি তো ?
- রাখ তো তোমার কাজ । এদিকে ফির নাইলে কিন্তু সুড়সুড়ি দিতেই থাকব ।

রাশেদ পাশ ফিরতেই রাত্রি আকন্ঠ নিমজ্জিত হল রাশেদের মুখায়বয়ে । কিন্তু শেষমেষ আবিস্কার করল এক অনুত্তেজিত, নিস্তেজ রাশেদকে । বেশ কিছুদিন ধরে এটা নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হচ্ছে । রাত্রির নীরবতা ভাংগল ।
- তোমাকে কতদিন ধরে বলছি কি এত কাজ কর ? কাজের প্রেসার কমানোর কি কোন উপায় নেই ? নাকি তুমি কোন বিষয় নিয়ে অনেকদিন ধরে টেনশন করছ ?
~ আরেহ না । কি নিয়ে টেনশন করব । আর কাজ তো থাকবেই ।
- একটু ডাক্তার টাক্তার দেখাও না । চেকাপ করালে ক্ষতি তো নেই ।
~ আচ্ছা দেখাবোনে । এখন ঘুমাও ।

দুজনে দুপাশ ফিরে শুতেই রাশেদ জিহবায় কামড় দেয় । কিছুদিন ধরেই তার মিসটাইমিং হচ্ছে । টাকা কামানোর লোভ যেমন বাড়ছে, তেমনি অন্যান্য কিছু লোভও তার পাল্লা দিয়ে বাড়ছে । আজ বিকেলে হঠাত বন্ধু আজাদ এসে বলল একদম নতুন জিনিস । শুনেই কাজ টাজ ফেলে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ল রাশেদ । সুখভোগও বেশি হয়ে গিয়েছিল আজ ।

এর কদিন পর ।

বেশ জ্যোৎস্না নেমেছে । চাদেলা রাত্রি, বৃষ্টি দিন, এইসব প্রাকৃতিক বিশেষ ব্যাপার-স্যাপারগুলিতে রাত্রি একটু বেশি রোমান্টিক, একটু বেশি আহলাদি । রাশেদও সচেতনভাবে সতর্ক আর প্রস্তুত থাকে এইসব দিনগুলিতে । একটু বেশি মাত্রায় আনন্দিতও থাকে সে ।

আনন্দময় ক্লান্তির পর যে গভীর ঘুমটা আসে, লোভী রাশেদ তার জন্য স্নাইপারের ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে । রাত্রির এই ঘুমটা পরীক্ষিত ।

একসময় রাশেদ ইদানীং নিয়মিত অভ্যাসের পথ ধরে সার্ভেন্টস রুমের দিকে পা টিপে টিপে এগিয়ে যায় ।

একদিন হয়ত রাত্রি, জোস্নার মত সুন্দরী রাত্রি মুখোমুখি হবে নিকষ কালো অমাবশ্যাময় রাত্রির, প্রতীয়মান পূর্ণ জীবনের মাঝে যে এক হা-মুখ অসম্পূর্ণতা থেকে যায় - সেই উন্মোচনের মুখোমুখি হবে সে ।

তার আগ পর্যন্ত, তার জীবনটা তার কাছে বর্তমানের নিক্তিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ মনে হয়েই থাকুক । ঠিক যেমনটা কেউ চুপসে দেবার আগ পর্যন্ত ঢাউস হাওয়াই মিঠাইয়ের মত ।


সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৬
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

(আবার ফিরে যাই ঝুমতলি)

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৮:১৮

রেললাইন বয়ে যায়।ভোরের প্রার্থনার বিপুল শক্তি।অন্ধকারকে আলো দিতে দিতে সকাল এগোয়! এমন সকাল এলেই ঝুমতলি যেতে ইচ্ছে করে! কুয়াশাঘেরা এক স্টেশনের রেললাইন ধরে হেঁটে যেতে ইচ্ছে করে। কালো রং শাড়িতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে দিনের বেলা ভ্রমণ ........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১০:২৮


ঢাকা - বরিশাল/বরিশাল - ঢাকা নৌপথে দিনের বেলা বিগত বছরগুলোতে শুধু মাত্র গ্রীন লাইন জাহাজ কোম্পানির দুটি জাহাজ চলাচল করতো। যাত্রী সল্পতায় একটা জাহাজ বন্ধ করে, এক জাহাজেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর মোবাইল এপ্লিকেশনের ইউজার ইন্টারফেস কেমন হতে পারে !

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:২১



কয়েক দিন ধরে একটা অনলাইন কোর্সে ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটরের বিভিন্ন টুলসের ব্যবহার শিখছি। তবে শিখতে গিয়ে যা টের পেলাম তা হচ্ছে আমার ভেতরে ক্রিয়েটিভি শূন্য। যাই হোক, সেখানকার একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Four Beautiful Ladies, বাংলাদেশী মডেলিং জগতে যাদের তুলনা ছিল শুধুই তারা - ওরা চারজন (পেছনে ফিরে দেখা)

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:১৫



মাঝে মাঝে এমন হয় যে, একটা দীর্ঘ এক ঘন্টার নাটকের চাইতে ৩০ সেকেন্ড বা এক মিনিট এর একটা বিজ্ঞাপন আমাদের মনে অনেক গভীর দাগ কেটে যায়। আর নব্বই এর দশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে নয় ঘন্টা

লিখেছেন আবদুল্লাহ আফফান, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৪২


দিনটা অন্যান্য দিনের মতোই শান্ত। তবুও অন্যদিনের চেয়ে আলাদা। সংক্ষিপ্ত সফরে নারায়গঞ্জে যাচ্ছি। সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হলাম। হোটেলে নাস্তা খেয়ে কমলাপুরের নারায়ণগঞ্জ প্লাটফর্ম থেকে টিকেট কাটলাম। ট্রেন ছাড়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×