somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারণ

১১ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

~ ~
“ চার বছরের মেয়ে শিশু ধর্ষিত” ।

~ ~
“ স্বামীর পরকিয়ার বলি হতে হল রেহানাকে” ।

~ ~
“জরিপে উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য কাহিনী । নিকটাত্মীয়ের দ্বারা মেয়েদের লাঞ্চনার হার বাড়ছে”।

~ ~

“শাশুড়ির হাতে অত্যাচারিত কয়েকজনের করুণ কাহিনী” ।


ইদানীং মাঝে মধ্যে পত্রিকার পাতায় পচা-গলা সমাজের এইসব সংবাদ পড়ে সুমন একটু বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে, মাথায় হঠাত রক্ত চড়ে যায়, মুষ্ঠিবদ্ধ হাতদুটো কাকে যেন অদৃশ্যভাবে কিছুক্ষণ মারতে চায় ।

ইদানীং সুমনের মাঝে মধ্যে অদৃশ্য সুপারম্যান হতে মন চায় । তাতে করে প্রচলিত আইন কানুন, সমাজের ভণ্ড শাসন উপেক্ষা করে নারী নিপীড়নকারীদের আচ্ছাসে পেটানো যেত ।

ইদানীং সুমনের মনে হয় ছেলে সন্তান হবার হ্যাপা বোধহয় কম । মেয়ে সন্তান হলে দুশ্চিন্তা বেশি ।

দু চারদিন পর রেহানার ডাক্তার দেখাবার কথা । মা রেহানাকে নিয়ে যাবেন ।

অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরে সুমন । মা আর রেহানা বাসায় নেই । ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরোজা খুলে সে।

টূং টাং। কলিংবেলের আওয়াজ । পিপ হোলে দেখে স্বস্তি পায় সুমন । মা আর রেহানা ফিরেছে । রেহানার মুখটা ক্যামন অন্ধকার ।

হাতমুখ ধুয়ে রেহানা ফ্রেস হয়ে আসে । সুমন জিজ্ঞেস করে ঃ আজকে না রিপোর্ট পাবার কথা ছিল ?”

রেহানা হ্যাসূচক শরীরী ভঙ্গি করে ।

সুমন আগ্রহে গলা বাড়ায় ঃ কি ? ছেলে না মেয়ে ?

~~ তোমার মন খারাপ হবে ।

~ মানে কি ? ক্লিয়ার করে বল । ছেলে না মেয়ে ?

~~ মেয়ে ।

সুমন একটু নিভে যায় । পরক্ষণেই বলে ঃ

~ আরে মন খারাপ হবে কেন ? ছেলে প্রেফারড ছিল , মেয়ে হলেও অসুবিধা নাই । কদিন আগেও যখন তুমি এ প্রশ্নটা করেছিলে একই কথা বলেছিলাম ।“

~~ সেদিন তো কারণ জানতে চেয়েছিলাম তুমি বল নাই । আজকে বল ছেলে প্রথম চয়েস হবার কারণ কি ?

সুমন একটু ভাবে । এরপর যে কথাগুলো বলে তা সে মন থেকেই বলে ।

~ আসলে ছেলে মেয়ে যাই হোক আমার কাছে একই । ছেলে হলে সুবিধাটা আমার কাছে বেশি মনে হয় তাই ছেলে চাইছিলাম। যেমন ধর, মেয়ে হলে তার সুপাত্রে বিয়ে দেবার দুশ্চিন্তা বেশি । শশুড়বাড়িটা কেমন হবে এই চিন্তাও আছে । তারপর ধর আমাদের যে সমাজব্যবস্থা, তাতে একটা ছেলের নামে কিছু রটলেও তেমন কোন অসুবিধা নাই । কিন্তু আল্লাহ না করুক, কারো মেয়েকে নিয়ে যদি কোনকিছু রটে যায় তাহলে দেখ তার ভোগান্তি আর তিতাকথার অন্ত নাই। সেই মেয়েটার বিয়ে দিতেও অসুবিধা হয় । ঐ পাড়ার রহিম সাহেবের কথাই ধর না ।“

এছাড়াও, সুমন আরো যোগ করে ঃ
“যদি বিয়ের পর দেখা যায় স্বামী ভাল না, তাইলে মেয়ের কস্ট ভেবে কি করে থাকব বল?”

সুমনের অবচেতন মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে আরও কিছু ভাবনা খেলে যায় । হিসেবের সংসারে বহু লোকে এখনো ছেলেকেই ভবিষ্যতের আর্নিং সোর্স মনে করে । অর্থনৈতিক টানাটানির জন্য যখন সন্তান বেশি নেবার সুযোগ সীমিত হয়ে এক্টাতে দাঁড়ায়, তখন লোকের চয়েস প্রধানত ছেলেতেই থাকে ।তাছাড়া যতই লোকে বলুক, এখন বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজে যৌতুক প্রথা নাই, কিন্তু অঘোষিত উপহার প্রথা তো আছে । মেয়ের বাড়ি থেকে ছেলের ঘর ভালভাবে সাজিয়ে না দিলে অনেক মেয়েকেই শ্বশুড়বাড়িতে চাপা ফিসফাসের অত্যাচার সইতে হয় । সুমন এসব ভাবনা অবশ্য স্ত্রীর কাছে প্রকাশ করে না।যেন নিজের মনে নিজের সাথে কথা বলে সে।

রেহানা বলে ওঠে ঃ ক্যান, একটা ছেলের কি খারাপ বউ হতে পারে না ?”

~ তা পারে, কিন্তু এরকম ব্যাপার এখনো এদেশে সংখ্যায় কম । তাছাড়া এরকম ক্ষেত্রে ছেলেরা যত সহজে জীবনসংগী বদলাতে পারে, এদেশের সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েরা এখনো এ ব্যাপারে সমাজের প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায় না“।

যদিও সুমন মন থেকে বলে তবু রেহানার মনে একটা কিন্তু রয়ে যায় ।

এইসব কথাবার্তার ফাঁকে আড়ষ্টতার জন্য যে কথাটি স্ত্রীকে সুমনের বলা হয়ে ওঠে না তা হল সেই শৈশব থেকেই মেয়েটিকে তার রক্ষা করে যেতে হবে ওত পেতে থাকা কিছু কিছু মানুষ পদবাচ্যের চতুস্পেয়ে জন্তুর হাত থেকে । এই শত্রুর অবস্থান কোথায়, কখন তারা হামলা করতে পারে তা সুমনের জানা নেই । যৌনহামলা বা টিজিং এর ব্যাপারে ছেলেদের ক্ষেত্রে শৈশবটা তাদের জন্য বেশি ভালনারেবল, কিন্তু একটা মেয়েকে ভালনারেবল থাকতে হয় জীবনের বিভিন্ন স্তরে । একজন দায়িত্ববান বাবা হিসেবে সুমন যেন সচেতনভাবে তার দায়িত্বটা পালন করতে পারে সেজন্য সে মনে মনে প্রার্থনা করে ।


কয়েক বছর পর । মেয়ের সাথে ফ্রি হয়ে জগতের জটিলতাগুলো ঠারেঠোরে যাতে বোঝানোর জন্য সুমন রেহানাকে মাঝে মধ্যে তাগিদ দেয় । মেয়েকে একটা কারাতের স্কুলে মেয়েদের ব্যাচে ভর্তি করিয়ে দ্যায় সুমন । ছুটির দিনগুলোতে ক্লাস । ক্লাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুমন মেয়েকে নিয়ে যাবার জন্য অপেক্ষা করে । রেহানা একবার বলেছিল, এইসবের দরকার কি। আমরা যে কারাতে শিখি নাই তাতে কি হইছে ।

~ সবকিছুরই দরকার আছে । কখন কি কাজে লেগে যায় ? তুমি বুঝবানা । সুমনের জবাব ।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৫
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

(আবার ফিরে যাই ঝুমতলি)

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৮:১৮

রেললাইন বয়ে যায়।ভোরের প্রার্থনার বিপুল শক্তি।অন্ধকারকে আলো দিতে দিতে সকাল এগোয়! এমন সকাল এলেই ঝুমতলি যেতে ইচ্ছে করে! কুয়াশাঘেরা এক স্টেশনের রেললাইন ধরে হেঁটে যেতে ইচ্ছে করে। কালো রং শাড়িতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে দিনের বেলা ভ্রমণ ........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১০:২৮


ঢাকা - বরিশাল/বরিশাল - ঢাকা নৌপথে দিনের বেলা বিগত বছরগুলোতে শুধু মাত্র গ্রীন লাইন জাহাজ কোম্পানির দুটি জাহাজ চলাচল করতো। যাত্রী সল্পতায় একটা জাহাজ বন্ধ করে, এক জাহাজেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর মোবাইল এপ্লিকেশনের ইউজার ইন্টারফেস কেমন হতে পারে !

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:২১



কয়েক দিন ধরে একটা অনলাইন কোর্সে ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটরের বিভিন্ন টুলসের ব্যবহার শিখছি। তবে শিখতে গিয়ে যা টের পেলাম তা হচ্ছে আমার ভেতরে ক্রিয়েটিভি শূন্য। যাই হোক, সেখানকার একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Four Beautiful Ladies, বাংলাদেশী মডেলিং জগতে যাদের তুলনা ছিল শুধুই তারা - ওরা চারজন (পেছনে ফিরে দেখা)

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:১৫



মাঝে মাঝে এমন হয় যে, একটা দীর্ঘ এক ঘন্টার নাটকের চাইতে ৩০ সেকেন্ড বা এক মিনিট এর একটা বিজ্ঞাপন আমাদের মনে অনেক গভীর দাগ কেটে যায়। আর নব্বই এর দশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে নয় ঘন্টা

লিখেছেন আবদুল্লাহ আফফান, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৪২


দিনটা অন্যান্য দিনের মতোই শান্ত। তবুও অন্যদিনের চেয়ে আলাদা। সংক্ষিপ্ত সফরে নারায়গঞ্জে যাচ্ছি। সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হলাম। হোটেলে নাস্তা খেয়ে কমলাপুরের নারায়ণগঞ্জ প্লাটফর্ম থেকে টিকেট কাটলাম। ট্রেন ছাড়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×