: আফা, ও আফা
পিছনে তাকিয়ে দেখি কেউ ডাকছে
: কি রে কেমন আছিস?
: ভালো আফা, দ্যাহেন তো আমাগো কি অবস্তা। নতুন রেল রাস্তা বানাইছে আর আমরা আটতেও (হাঁটতে) পারি না। পায়ে আটা (হাঁটা) পতও(পথ) নাই। এ্যাটা (একটা) মানুষও আইট্যা (হেঁটে) যাইতে পারে না একটা রুগিও হাসপাতালে নিয়ার অবস্তা নাই, একটা লাশও নিয়া যাবি না গোরোস্তানে...
আসলেই রেল লাইনের পাশে হাঁটার অবস্থা নাই। দেখলাম মানুষ রেল লাইনের মাঝখান দিয়ে হাঁটছে।
সে আবার বলে-
: আফা, কয় দিন আগে গাড়িতে এ্যাটা ছাগল কাটছে, দুই দিন আগে এ্যাটা কুত্তা কাটছে আর হে দিন একজন পইড়া গেছোলো পেটে লোয়ার (লোহা) খুটি ঢুইক্যা এ্যাহন হাসপাতালে, কবে যে মানুষ কাটে…আপনে তো বইল্যা কইয়্যা কারেন্ট আইন্যা দিছিলেন এ্যাহন কিছু করেন...
: আমি তো দেশে থাকি না রে। আমি কি করবো। তাছাড়া কাউকে তেমন চিনিও না। তা তোরা কাউকে জানাইছিস?
: দরখাস্ত দিছি আফা, কোনো কাম অয় নাই...
: দরখাস্ত দিলেই হবে নাকি? আবার খোঁজ নিতে হবে। তোরা সমস্যার কথা না জানালে তো তাঁরা জানবে না।
: কার কাছে যাবো আফা? কাউরে তো চিনি না…
(আরো কথা আছে...থাক...)
আসলে এটা আমার লেখা কোনো গল্প নয়। এটা ফরিদপুর জেলার পৌরসভার একটা ওয়ার্ডের বর্তমানের বাস্তব চিত্র যেখানে বয়রা ও বোবা মানুষেরাও বাস করে।
যেখানে ২০১৫ সালে এক গোষ্ঠী মানুষ দুই হাত চওড়া একটা মাটির রাস্তার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। রেল লাইনের মাঝখান দিয়ে হাঁটছে। বয়স্ক মানুষেরা হাঁটতে না পেরে অসুস্থ্য বা মৃত্যু আত্মীয়কে দেখতে যেতে পারছে না। ক্ষমতাশালী এমন কাউকে চিনি না যাকে বললে এলাকার মানুষ দুই হাত পায়ে হাঁটা মাটির পথ পাবে। চিকিৎসা পাক বা না পাক একটা রিক্সা বা ভ্যানে করে একজন অসুস্থ্য মানুষকে অন্তত হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারবে। যদি বিশ্বাস না করেন আমার সাথে যেতে পারেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


