সরকার দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চায়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই মাওলানা সৈয়দ রেজাউল করিম -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছেন, '৭৪ সালের সরকারকে যারা বিপদগামী করেছিল তারা এখন হাসিনা সরকারকে বিপদগামী করতে চায়। সরকারের ভিতরে একটি অংশ ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। নামাজ-রোজার মত ইসলামী আন্দোলন করাও ফরয। তাই আইন করে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না। সরকার আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, নূরুল হুদা ফয়েজী, ঢাকা মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, মহাসচিব অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।
চরমোনাই পীর বলেন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় কল্যাণ সমন্বয়ের মাধ্যমে মানুষের সার্বিক কল্যাণ সম্ভব। ধর্মীয় রাজনীতি ছাড়া মানব কল্যাণ সম্ভব নয়। প্রায় সকল ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ধর্মীয় রাজনীতি রয়েছে। তিনি ভারতের বিজেপির কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানীসহ অনেক দেশেই ধর্মীয় দল ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের প্রভু রাষ্ট্র ভারতেও ৯টি ইসলামী দল রয়েছে। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারের একটি অংশ ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়। এর ফল অতীতেও ভালো হয়নি। এখনও ভালো হবে না। এ থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে। সরকার পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বললেও তারা ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের পাঁয়তারা করছে। ধর্মীয় রাজনীতি ছাড়া পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকে না। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আজ কঠিন সময় যাচ্ছে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই পূর্ণ মুসলমান হওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, কোনো জালেম সরকার জুলুম-নির্যাতন করে ক্ষমতায় বেশি দিন টিকতে পারে না। সরকার আইনের দোহাই দিয়ে ইসলামী রাজনীতি বন্ধ করলে দেশের জনগণ তা মেনে নিবে না।
মুসাদ্দেক বিল্লাহ বলেন, '৭৪ সালে সরকারকে যারা বিপদগামী করেছিল তারাই হাসিনা সরকারকে এখন বিপদগামী করতে চায়। দেশে অস্থিতিশীল করতে সরকারের ভিতরে একটি অংশ কাজ করছে। এই ষড়যন্ত্র থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। নামাজ-রোজার মতই ইসলামী রাজনীতি করা ফরয। তাই আইন করে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করলে সরকার ভুল করবে। জনগণ বুঝতে পারছে না দেশ কে চালাচ্ছে। আইনমন্ত্রীদের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো মুসলমান নেই।
অধ্যাপক হেমায়েত উদ্দিন বলেন, দেশের স্বাধীনতা ধ্বংস করতে ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তি আজ চক্রান্ত চালাচ্ছে। গ্যাস, পানি ও সকল খনিজ সম্পদ লুণ্ঠনের ষড়যন্ত্র করছে। আজ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা কোথায়। যে কোনো মূল্যে দেশকে বাঁচাতে হবে। সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়ে সরকার মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি আরো বলেন, সরকার নির্বাচনী ওয়াদায় বলেছিল তারা ক্ষমতায় গেলে শরীয়াহ বিরোধী কোনো আইন করবে না। তারা তাদের সেই ওয়াদা থেকে সরে এসে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র করছে। তারা ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা-মামলা করছে। আল্লাহর দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের ওপর আঘাত আনবেন না। হামলা-মামলা বন্ধ করুন। এর ফল বেশি ভালো হবে না। মুরতাদ কাফেরদের কথা শুনবেন না। আপনার বাবা যে ভুল করেছিল, আপনিও সেই ভুল করবেন না। তাহলে দেশবাসী আপনাকেও ক্ষমা করবে না। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি মুক্তাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে জিরো পয়েন্ট হয়ে প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট রোড হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়। আগামী ৬ আগস্ট শুক্রবার বাদ জুমা এক বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফাউ টাকার গল্প
সময় ২০১৪ সাল...
ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।