
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্ট
সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রাঃ (যারা আগেই ভ্রমন করেছেন তাদের কাছে হয়তো চর্বিত চর্বন বা বিরক্তিকর মনে হবে যারা যাননি তাদের জন্য যথাসাধ্য বর্ননা দিতে চেষ্টা করেছি)
সিঙ্গাপুর এয়ার লাইনস এর ফ্লাইট ছিল রাত ১০টা ১৫মিঃ ডিলের কারনে ছাড়ে রাত ১১টায়। যথারীতি ২ঘন্টা আগে শাহজালাল এয়ারপোর্টে পৌছেঁ বিরাট লম্বা লাইনের পিছনে পড়লাম, এয়ারপোর্টে ঢোকার জন্য একটাই মাত্র গেইট খোলা রাখা ছিলো অথচ অনেকগুলো গেইট ছিল।
ভিতরে প্রবেশ করে দেখি বর্ডিং কার্ডের জন্য বিরাট লম্বা লাইন, এত মানুষ সিঙ্গাপুর যাবে ভেবে অবাক হলাম, এর মধ্যে আমাদের শ্রমিক ভাইদের সংখ্যা অনেক বেশী ছিলো, ভাবছিলাম আমাদের দেশের টাকা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স নিয়ে নিচ্ছে, অথচ' বিমান কিন্তু উচ্চমানের সার্ভিস দিয়ে এই মার্কেটটা ধরতে পারতো। আমাদের অনলাই চেক-ইন করা ছিলো, বিজনেস ক্লাসের কাউন্টারে তেমন ভীড় ছিলনা, কাউন্টারে গিয়ে, আমাদের অনলাইন চেক-ইন করা আছে, সেই কাউন্টারটা কোথায় জিজ্ঞেস করতেই ওরা বিজনেস ক্লাসের পাশেই ইন্টারনেট চেক-ইন এর বোর্ড ঝুলিয়ে দিল। আমরা বোর্ডিং কার্ড নিতে নিতে দেখি আমাদের পিছনেও লম্বা লাইন লেগে গেছে।
এরপর ইমিগ্রেশনে গিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্ম তৎপরতা দেখে খুব খুশী হলাম, ওনারা খুব হেল্পফুল এবং কো-ওপারেটিভ ছিলেন, শুধু' গেইটে দাড়ানো মহিলা পুলিশের একটু আক্ষেপ শুনলাম, তিনি বলছিলেন, শুধু কথাই বলে যাচ্ছি কিন্তু কোন লাভ নাই । বুঝলাম নুতন নিয়ম বোধহয় চালু করা হয়েছে,সুতরাং লাভের জন্য যাত্রীদের নাস্তানাবুদ করা যাবেনা! ভাবছিলাম, এই চর্চাটা অভ্যাসে পরিনত করা যাবে কিনা! যদি যায় তাহলে সবার জন্য মঙ্গল । ইমিগ্রেশন পুলিশকে জিজ্ঞাসা করলাম ক্যামেরাটা পাসপোর্টে এনডোর্স করা নেই ফেরার সময় আবার ডিউটি চেয়ে বসবেনাতো! তিনি হেসে পরামর্শ দিলেন এক কাজ করুন, ক্যামেরাটা গলায় ঝুলিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে রাখুন এয়ারপোর্টের দৃশ্য সমেত, আমি হা হা হা করে হেসে উঠে ওনার চমকপ্রদ পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিলাম। বোর্ডিং টাইম হাতে থাকায় ডিউটি ফ্রী শপ গুলোতে ঢু মারতে থাকলাম এবং জানলাম বাংলা টাকায়ও কেনাকাটা করা যায়, অথচ! অন্যসময় ডলার খরচ করে কিনেছিলাম । ডিসপ্লেতে ফ্লাইট নাম্বারের পাশে গেট নাম্বার দেখে এগুবার আগে ভাবলাম, 'কিছু একটা মুখে দিয়ে নিই, একটা রেষ্টুরেন্টে বসলাম, মান পছন্দ না হলেও চড়া দাম দিয়ে বেরিয়ে এলাম । এবার পথ ধরলাম গেটের দিকে, পৌছেঁ' দেখি, আবার বিরাট লাইন! আমাদের এয়ারপোর্টের সীমিত সার্ভিস প্রদান ক্ষমতা দেখে মনটা ক্ষুন্ন হলো, মনে হলো, 'আমরা তো প্রতি বৎসর বিমানবন্দর বানাইনা, সেই সামর্থও আমাদের নেই, তাহলে, দূরদৃষ্টি নিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভেবে, সুবিধা বাড়াবার সুযোগ রেখে, কেন বানানো হয়না? এয়ারপোর্টের ভিতর অনেক অব্যবহৃত জায়গা খালি পড়ে আছে দেখলাম, সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে হয়তো আরো টার্মিনাল বানানো সম্ভব, শুধু রানওয়ে থেকে টার্মিনাল গুলোর কানেক্টিং রোড তৈরী করতে হবে, 'তবে বিশেষজ্ঞরাই এ ব্যপারে ভাল বলতে পারবেন,। যাই হোক কাষ্টমস চেকিংয়ের পর বোর্ডিং কার্ডের গ্রুপ দেখে লাউঞ্জে ভাগে ভাগে বসে পড়লাম, তারপর যখন ডাক পড়লো বোর্ডিং এর জন্য এগুলাম, দরজার সামনে চায়নিজ চেহারার সিঙ্গাপুরী সুন্দরী এয়ার হোষ্টেস মেকী হাসি দিয়ে স্বাগতম জানিয়ে, কোন দিক দিয়ে এগুতে হবে দেখিয়ে দিলেন। সিটে বসার পর আশেপাশে যারা কাজের জন্য বা কাজের মাঝে ছুটি পেয়ে, ছুটি কাটিয়ে আবার ফিরে চলেছেন, তাদের সংখ্যাধিক্যতা আবার চোখে পড়লো, অনেকের চেহাড়ায় অনিশ্চিত, দিশেহারা ভাবও চোখে পড়ছিলো, আর মায়াও লাগছিলো, 'আহা বেচারারা, একটু সুখের আশায়, পরিবারকে সুখে রাখার প্রয়াসে, কিভাবে নিজের সুখ জলাঞ্জলী দিয়ে অনিশ্চিত যাত্রায় নিজেকে সপে দিয়েছে,।
সিংরাজী ভাষা (সিঙ্গাপুর+ইংরেজী) আমারই বুঝতে কষ্ট হচ্ছিলো, ওরা তো কিছুই বুঝছিলো না, আমি কাছাকাছি যে দুয়েকজন ছিলো তাদের বুঝতে সহায়তা করছিলাম,সিঙ্গাপুরী মেয়েগুলি মুখে হাসি ধরে রাখলেও তাদের আচরনে অসহিষ্ণু ভাব ফুটে উঠছিলো। তবে সিঙ্গাপুর টাইম বিকেল সোয়া পাঁচটা থেকে বাংলাদেশ টাইম রাত দশটা, আবার রাত এগারোটা থেকে সিঙ্গাপুর টাইম ভোর সোয়াপাঁচটা পর্যন্ত যেভাবে ওদেরকে নিরলস পরিশ্রম করতে দেখলাম তাতে ইংরেজী না বোঝাটা আমাদেরই দোষ বলে মনে হয়েছে। র, শ্রমিক বিদেশে না পাঠিয়ে শিক্ষিত ন্যুনতম মেট্রিক পাশ ছেলেমেয়েদেরকে কিছু কারিগরী এবং কাজ চলার মত ইংরেজী শিখিয়ে পাঠালে, বিদেশে আমাদের মর্যাদা (সবুজ পাসপোর্টের মর্যাদা) বাড়বে বলে মনে করি।
যাইহোক, এক সময় বাজপাখীর মত দৌড়ে বিমানটি আকাশে ডানা মেলে দিলো, উচ্চতা বাড়তে বাড়তে ৩৮ হাজার ফিটে গিয়ে দাড়ালো, গ্রাউন্ড স্পীড ৫০০ মাইলের উপরে, তাপমাত্রা নেমে গেল -৫৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে। বিমান চলে কেরোসিন তেল দিয়ে। কেরোসিনের সাথে এন্টিষ্ট্যাটিক এডিটিভ যোগ করে জেট ফুয়েল বানানো হয়। তেল না আবার জমাট বেধে যায় এই ভয় গ্রাস করতে চাইলেও পাত্তা দিলাম না । কিছুক্ষনের মধ্যেই রাতের খাবার পরিবেশন করা হল, খেয়েদেয়ে পরিবারের অন্য দুই সদস্যদের খবর নিতে চললাম সামনের দিকে অন্য রো’ তে, করিডোরটা পর্দা দিয়ে ঢাকা দেখে ইতস্তত করছিলাম ওপাশে ওয়াশরুম কিনা! এয়ার হোস্টেস মেয়েটি একটু বিরক্তি প্রকাশ করে বললো আমি এখানে কি করছি ? ইউরোপ অভিমুখী ফ্লাইট হলে মেয়েটি নিঃসন্দেহে এমন আচরন করার সাহস পেতোনা! আমিও ভীষন বিরক্তি নিয়ে বললাম আমার ফ্যামিলী ওপাশের রো,তে আছে তাদের দেখতে যাচ্ছি তোমার কোন সমস্যা ? বলে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকলাম, মেয়েটি তাড়াতাড়ী ভোল পাল্টিয়ে স্যার স্যার করে পর্দাটা তুলে ধরে জাপানী কায়দায় অভিবাদন করে হাত দেখিয়ে এগিয়ে যেতে বললো, আমিও মাথা ঝাকিয়ে এগুলাম । মেয়েটির আর দোষ কি!
মনিটরে ছবি দেখতে দেখতে এবং মাঝে মাঝে টার্বুলেন্সের ঝাকুনি খেতে খেতে সিঙ্গাপুর টাইম ভোর সোয়া পাঁচটায় ল্যান্ড করলাম ।
আকাশ থেকে তোলা সিঙ্গাপুরের কিছু ছবি



সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টের কিছু ছবিঃ






এখানে তিনটা টারমিনাল একটা থেকে আরেকটায় যেতে স্কাইট্রেন ব্যবহার করতে হয় কিছু ছবি



আগুয়ান স্কাই ট্রেন

পুরো এয়ারপোর্ট কার্পেটে মোড়া বহু ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারকে দেখলাম কার্পেটের উপর শুয়ে বসে সময় পার করছে।
আমাদের গন্তব্য মালয়েশিয়া সকাল সাতটা দশে সিল্ক এয়ারে ভ্রমনের সিডিউল তাই সামান্য যেটুকু সময় হাতে ছিলো বিভিন্ন সপে ঘুরে ঘুরে ২ নং টারমিনালে হাজির হলাম কিছুক্ষনের মধ্যেই অনবোর্ড হওয়ার ডাক পড়লো যথারীতি বিমানে আরোহন করলাম এটা ছিলো এক লাইনে পাশাপাশি ৬ সিটের বোয়িং আমাদের সহযাত্রী হিসেবে এবার প্রচুর বিদেশী টুরিষ্ট উঠলেন। সময়মতই বিমান টেকঅফ করলো চারিদিকে কিছুক্ষন সবুজ পাহাড় আর জলাভূমি চোখে পরলো তারপর মেঘের আড়ালে সব হারিয়ে গেল







আজ তবে এইটুকু থাক বাকী কথা পরে হবে
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



