somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৌলবাদ ও রাজনৈতিক তোষণ: এক নীরব জাতীয় বিপর্যয়।

০৪ ঠা জুন, ২০২৫ ভোর ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৌলবাদ ও রাজনৈতিক তোষণ: এক নীরব জাতীয় বিপর্যয়।
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, এবং দুঃখজনকভাবে তার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক তোষণ ও আপসের ইতিহাস। আজ আমরা যারা মাঠে-ঘাটে কাজ করি, তারা এসব বাস্তবতা খুব কাছ থেকে অনুভব করছি।
রাজনৈতিক স্বার্থে মৌলবাদীদের সঙ্গে আপস
একটি সময় ছিল যখন রাজনৈতিক দলগুলো মৌলবাদকে পরাজিত করার কথা বলত। অথচ বাস্তবে দেখা গেছে, ভোটের জন্য, জনসমর্থনের জন্য, এমনকি সাময়িক শান্তির জন্য কট্টর মৌলবাদীদের সঙ্গে আপস করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলেও হেফাজতের মতো গোষ্ঠীর দাবির কাছে নতিস্বীকার হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় আদর্শের পরিপন্থী।
“যে আগুন অন্যের ঘরে লাগানো হয়, তা একদিন নিজের ঘরেও জ্বলে ওঠে।” তৃণমূলের কর্মীরা কি অকারণ সতর্ক করেছিল?
আমরা যারা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করি, বারবার বলেছি এদের প্রশ্রয় দেবেন না, আপস করবেন না। কিন্তু আমাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়নি। আজ যখন ওই শক্তিগুলো আরও সংগঠিত, তখন তার শিকার আমরা নিজেরাই। আমরা মুখ খুললে হুমকি আসে, সংগঠনে কাজ করতে গেলেও বাধা আসে।
ধর্মীয় মূল্যবোধ নয়, রাজনৈতিক অস্ত্র
ধর্ম একটি শান্তির বার্তা। কিন্তু মৌলবাদীরা এটিকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করেছে। তারা নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়, শিশুদের আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে চায়, মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যা করতে চায়। এটা ধর্ম নয় এটা সন্ত্রাস।
মৌলবাদের বিরুদ্ধে এখনই একতাবদ্ধ হতে হবে।
প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের একসাথে কাজ করতে হবে।
যারা মৌলবাদীদের তোষণ করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
চুপ থাকলে সবাই হেরে যাব
মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু একটি দলের বা শ্রেণির দায় নয় এটি জাতিগত দায়িত্ব। এখন চুপ থাকলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। আমাদের সন্তানেরা বড় হবে এক ভয়ঙ্কর ধর্মান্ধ পরিবেশে যেখানে প্রশ্ন করা যাবে না, ভাবা যাবে না, ভালোবাসা যাবে না।
আমরা চাই একটি মুক্ত, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে মৌলবাদীদের প্রশ্রয় নয়, প্রতিরোধ দরকার। যারা অতীতে ভুল করেছে, তারা স্বীকার করুক। আর যারা এখনও সময় বুঝে নেননি, তারা চোখ খুলে দেখুন এই আগুন একদিন সবার ঘরে পৌঁছাবে।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০২৫ ভোর ৬:৪৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×