ক্ষোভের দাবানলে পুড়ছে খোমেনির তখত-তাউস।
=============================
ইরান আজ আর শুধু বিক্ষোভের দেশ নয় ইরান এখন একটি ক্ষুব্ধ জাতির নাম। খামেনির নেতৃত্বাধীন মোল্লাতান্ত্রিক জঙ্গি শাসনের বিরুদ্ধে যে গণজাগরণ শুরু হয়েছে, তা কোনো হঠাৎ রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের দমন, লুটপাট ও ব্যর্থ শাসনের অনিবার্য পরিণতি। নির্বাসিত রেজা পাহলভির আহ্বানে তেহরান, মাশহাদ, ইসফাহানসহ একাধিক শহরে মানুষের ঢল প্রমাণ করে ভয়ের দেয়াল ভেঙে পড়েছে।
এই বিস্ফোরণের মূল কারণ অর্থনীতি। খামেনির শাসনে ইরানের অর্থনীতি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সীমাহীন দুর্নীতি, ধর্মীয় এলিটদের লুট, বিদেশে প্রক্সি যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসনে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ আজ নিঃস্ব। মুদ্রাস্ফীতি লাগামছাড়া, কর্মসংস্থান নেই, নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে। একটি পুরো প্রজন্মকে ভবিষ্যৎহীন করে দেওয়া হয়েছে।
এর ওপর আগুনে ঘি ঢেলেছে মাহসা আমিনি হত্যাকাণ্ড। শরিয়া পুলিশের হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয় এটি ছিল রাষ্ট্রীয় বর্বরতার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি। এরপর থেকে ‘নৈতিকতা পুলিশ’-এর নামে নারীদের ওপর যে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় অমানবিকতার প্রতিচ্ছবি। এই আন্দোলনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা তাই কাকতাল নয় এটি বেঁচে থাকার লড়াই।
প্রশ্ন উঠছে এই বিক্ষোভে কতজন নিহত? ইরানের মতো দমনমূলক রাষ্ট্রে এ প্রশ্নের সৎ উত্তর পাওয়া অসম্ভব। নিহতের সংখ্যা গোপন রাখা, লাশ লুকানো, পরিবারকে হুমকি দেওয়া এসবই খামেনি শাসনের পুরনো কৌশল। তবে ইতিহাস বলে, যে রাষ্ট্র মৃত্যুর হিসাব লুকায়, সে রাষ্ট্র নিজেই মৃত্যুপথযাত্রী।
খামেনির ইরান একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়; এটি একটি আদর্শিক জঙ্গি কারাগার। এখানে ভিন্নমত অপরাধ, প্রশ্ন করা রাষ্ট্রদ্রোহ। কিন্তু রাজপথে আজ যে কণ্ঠ ধ্বনিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট আর নয়।
স্বৈরশাসন বন্দুক দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, কিন্তু ইতিহাসকে বন্দি করতে পারে না। ইরান আজ সেই ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সভাপতি- সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।



অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



