somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তানের আকাশসীমায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম আটকে গেল কেন?

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাকিস্তানের আকাশসীমায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম আটকে গেল কেন?

বাংলাদেশে জিন্নার সন্তান গুলো কোথায়? যারা জিন্না,টিক্কা,ভূর্ট্রাকে আব্বা আব্বা করে তারা কোথায়?

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্গো ফ্লাইটটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পাকিস্তান ঠিক কী কারণে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট করা হয়নি।

কিন্তু প্রশ্ন তো এখানেই!
যারা আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় এবং যারা বিরোধী রাজনীতিতে রয়েছেন, তাদের অনেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলেন। তাহলে সেই কথিত বন্ধুত্বের বাস্তব পরীক্ষা যখন সামনে এলো, তখন রূপপুরের মতো বাংলাদেশের একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জ্বালানি বহনকারী বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মিলল না কেন?
এটি কি নিছক প্রশাসনিক জটিলতা? নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো কূটনৈতিক হিসাব?
বাংলাদেশের জনগণ এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর জানতে চায়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এর দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ইউরেনিয়াম জ্বালানির চালান সময়মতো পৌঁছাতে না পারা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন করে চালান পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইটের জন্য প্রয়োজনীয় আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি কেন শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল না?

বন্ধুত্ব কি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ?
আমরা কোনো দেশের সঙ্গে অযথা বৈরিতা চাই না। প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বন্ধুত্বের নামে ইতিহাস ভুলে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের ইতিহাস। পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন ও ধর্ষণের স্মৃতি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আজও গভীরভাবে বেদনাদায়ক। সেই ইতিহাসকে অস্বীকার বা বিস্মৃত করে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের ভাষায় দুই দেশের সম্পর্ককে বিচার করা যায় না।

পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সত্যিই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তাহলে সেই সম্পর্কের প্রতিফলন কথার পাশাপাশি বাস্তব আচরণেও দেখা প্রয়োজন।

জনগণের সামনে কয়েকটি সরাসরি প্রশ্ন

বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলা পাকিস্তান রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী বিমানের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিল না কেন?
কী কারণে এই অনুমতি আটকে গেল?
পাকিস্তান কি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানিয়েছে?
বাংলাদেশ সরকার কি এ বিষয়ে পাকিস্তানের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে?
যারা পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে ‘মধুর সম্পর্কের’ কথা বলেন, তারা কি এই ঘটনার একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরবেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া জরুরি।
কারণ বন্ধুত্ব মানে শুধু কূটনৈতিক সফর, ছবি তোলা কিংবা মিষ্টি কথাবার্তা নয়। বন্ধুত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় বাস্তব পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা এবং একে অপরের জাতীয় স্বার্থের প্রতি সম্মানের মধ্য দিয়ে।
বাংলাদেশ ইতিহাস ভুলে যায়নি।
১৯৭১ ভুলে যায়নি।
শহীদের রক্ত ভুলে যায়নি।
নির্যাতিত মানুষের কান্না ভুলে যায়নি।

তাই পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকুক কিন্তু জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহাসিক সত্যকে বিসর্জন দিয়ে নয়।
বাংলাদেশ কারও করুণার দেশ নয়।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।
বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে এটাই প্রত্যাশা।
আর পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের বন্ধু হতে চায়, তাহলে সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ কথায় নয়, আচরণে দিতে হবে।

সালাউদ্দিন রাব্বী
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ কৃষক লীগ, মুন্সিগঞ্জ জেলা
সংখ্যালঘু বাঁচাও আন্দোলন বাংলাদেশ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিউ ইয়র্ক, আমেরিকা
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭
×