somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যু কুপ ঢাকা।

১৯ শে আগস্ট, ২০২২ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের রাজধানী শহর ঢাকা। দেশের সব কিছুর কেন্দ্র বিন্দু এই শহর। শত বছরের ঐতিহ্যের ধারক এই রাজধানী শহর। পুরান এই শহরের সবচেয়ে পুরান অংশ হলো পুরান ঢাকা। সেই পুরান ঢাকার সবচেয়ে জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ন অংশ হলো চকবাজার।
চকবাজার, কাপড়, কসেমটিক, জুয়েলারী, ব্যাগ, কেমিক্যাল সহ অন্যান্য ববসার পাইকারী বাজার। দেশী ব্যবসার লেনদেনের বিশাল একটা অংশ এখানেই সংগঠিত হয়। সারাদেশ হতে চাকুরী ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসেন হাজার হাজার মানুষ । কিন্তু এই সব মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
এখানে আগত ও এখানে বসবাসকারী মানুষের কোন নিরাপত্তা নেই। শত বছরের পুরানো স্টাইলে গড়ে উঠা বিল্ডিং, ছোট ছোট গলির মতো মূল রাস্তা, ঝুকিপূর্ণ বিল্ডিং, আইন না মেনে গড়ে উঠা বিভিন্ন গোডাউন, বিশেষ করে অনুমোদনহীন কেমিক্যাল গোডাউন ও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা বিল্ডিং এর কারণে চকের পুরো পরিবেশটাই বেশ ঘিঞ্জি। ঘিঞ্জি এই পরিবেশ এর কারনে যখন তখন ঘটে দুর্ঘটনা।
এই দুর্ঘটনার একটি হলো অগ্নিকান্ড, প্রায়শই ঘটছে এটা। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত রাস্তা হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিস সময় মতো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে পারে না। আবার ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে তরিৎ কোন পদক্ষেপও নিতে পারেনা। সেই সাথে নেই ফায়ার সার্ভিসের আধুনিক কোন সুবিধা। সব মিলিয়ে অগ্নিকান্ডের সময় আসলে তেমন কোন সার্ভিস দিতে পারে না এই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাহিনী।
কয়েক দিন আগে ঘটে গেলো একটি দুর্ঘটনা। হারিয়ে গেলো তাজা ৬টি প্রাণ। মৃত্যু মানুষের জীবনের অবধারিত। সেটা নিয়ে দু:খ নেই, মানুষ তার রবের ডাকে স্থায়ী ঠিকানায় ফেরত যাবেই।
কিন্তু সেই জন্য ইচ্ছাকৃত বা আত্মহত্যার মতো মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। চকে যা হচ্ছে এটা আত্মহত্যারই শামিল। তবে এর জন্য দায়ী রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের ব্যর্থতায় হারিয়ে যাচ্ছে এসব ব্যক্তিরা। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কিছু পরিবার। দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে জীবিকার সন্ধানে আসা মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছ এই মৃত্যু কুপে। হারিয়ে যাচ্ছে কারো স্বপ্ন, কারো বেচে থাকার অবলম্বন, কারো উপরে উঠার সিড়ি, কারোবা ভাই, বাবা, সন্তান।
প্রায় একই সময় ঢাকার উত্তরায় গার্ডার পড়ে মারা যান একই পরিবারের ৫ জন। আল্লাহ হায়াত রাখায় নবদম্পতি দুজন বেচে যান। জনবহুল রাস্তায় গাড়ী চলাচল চালু রেখে কিভাবে করে এসব কাজ? কে দিবে এর কৈফিয়ত? ফিরিয়ে দিতে পারবে রাষ্ট্র এই সব পরিবারের আনন্দ? ফিরিয়ে দিতে পারবে রাষ্ট্র অবুঝ দুটি শিশুর জীবন? যাদের জীবন শুরুর আগেই নিভিয়ে দেওয়া হলো?
এটা দুর্ঘটনা নয়। এটা রাষ্ট্রীয় হত্যা। দুর্ঘটনা একবার দুবার ঘটে, তার ব্যবস্থা নেওয়া হয় যেন আর না ঘটে। কিন্তু আমাদের দেশে বার বার একই ঘটনা ঘটছে। কোন প্রতিকার নেই, কোন শাস্তি নেই। আছে শুধু লোক দেখানো তদন্ত কমিটি, যার রিপোর্ট কোন দিনই প্রকাশ পায় না। লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে যায় তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত। কয়দিন পর যখন সবাই ভুলে যায়, আবার সব আগের মতো।
এভাবে কতদিন? আর কত রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার হবে সাধারণ মানুষ? আর কত মানুষ হত্যা করলে প্রশাসনের খুনের নেশা কাটবে? আর কত সাধারণ মানুষের রক্ত পেলে তাদের তৃষ্ণা মিটবে?
এসব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। দরকারও নেই। চাই শুধু স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি। চাই এইসব সমস্যার প্রতিকার্ এবং যাদের কল্যানে এসব হচ্ছে তাদের শাস্তি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২২ রাত ৯:৩৬
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোরআন , হাদিস ও ফিকাহ মতে ইসলামে সঠিক পথ অনুসরণ প্রসঙ্গ কথামালা ( সাময়িক পোস্ট)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১৫


“আল্লাহ অভিন্ন ফিকাহ মানার কথা বললে রাসূল (সা.) কোরআন ও হাদিসের মানার কথা কিভাবে বললেন? “ এই শিরোনামে গতকাল সামুতে প্রকাশিত ব্লগার মহাজাগতিকচিন্তার একটি বিশালাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাসী মানব মনের উপর বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে ক্বোরান পাঠের ঐশ্বরিক প্রভাব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

আমি গত প্রায় ১৮ বছর যাবত আমার বর্তমান এলাকায় বসবাস করছি। স্থানীয় মাসজিদটি আমার বাসা থেকে প্রায় চার মিনিটের মত হাঁটা পথে অবস্থিত বিধায় চেষ্টা থাকে দিনে যতবার সম্ভব, মাসজিদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×