বাংলাদেশের সবচেয় কাছে ও বন্ধু প্রতীম দেশ ভারত। তবে দুই দেশের মানুষের আচরণ ও সীমান্তে বিএসএফ এর আচরণ সেটার বিপরীত কথা প্রমাণ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে অদ্যবধি ভারত প্রচুর সাহায্য করে চলেছে । ক্রমবর্ধমান এই সাহায্যের তালিকায় আছে মুক্তিযুদ্ধকালীন সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ, সামরিক সহযোগিতা, সামরিক নেতৃত্ব, বেসামরিক জনগনকে আশ্রয় দেওয়া, যুদ্ধ পরবর্তী পাকিস্তানী সকল সামরিক সমরাস্ত্র ভারতে নিয়ে যাওয়া, যুদ্ধ পরবর্তী সম্পদ নিজের করে নেওয়া, সীমান্তের সকল করিডোর সমূহ দখল করে নেওয়া, সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ফেন্সিডিল সহ অন্যান্য মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া, নারী ও শিশু পাচারে ভারতীয়দের সহযোগীতা করা, গরু পাচার করে বাংলাদেশে ঢুকানো ও বাঙ্গালী মুসলিমদের অবৈধভাবে পুশ ইন করা, ৫৫ নদীর প্রায় সবগুলোতেই বাধ দিয়ে পানির প্রবাহ ভারতে নেওয়া সহ আরো অনেক কাজ।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা দ্বারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪,০৯৬ কিলোমিটার (২,৫৪৬ মাইল) দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রায় তিনদিকই ভারত দ্বারা বেষ্টিত। সীমান্ত হত্যা দ্বারা দীর্ঘ এই সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী, বিএসএফ কর্তৃক সাধারণ ও বেসামরিক বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর সংগঠিত নিয়মিত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে বোঝানো হয়েছে । সীমান্তে চোরাচালান ও বাংলাদেশ থেকে কথিত অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিতর্কিত শ্যূট-অন-সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারত কর্তৃক বহাল আছে, যার প্রেক্ষিতে বিএসএফ কারণে কিংবা অকারণে বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করতে পারে। দীর্ঘকালের চলে আসা রেওয়াজ অনুসারে সীমান্তের লোকজন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া, হাট-বাজারে বেচাকেনা করা, এবং কাজ খোঁজার জন্য অনেক মানুষ নিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করে। এছাড়াও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে কৃষিজমিতে কৃষিকাজ কিংবা নদীতটে মৎস্য আহরণের জন্যও অনেক মানুষকে সীমান্তপথ অতিক্রম করতে হয় বা নিজের অজান্তেই করে ফেলে। এর মধ্যে আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ছোটখাটো এবং গুরুতর আন্তঃসীমান্ত অপরাধে নিয়োজিত। সীমান্ত রক্ষা বাহিনী অবৈধ কার্যক্রম মোকাবেলায় বাধ্যতামূলক করা হয়, বিশেষ করে মাদক চোরাচালান, যৌন কাজের জন্য মানব পাচার, এবং জাল মুদ্রা ও বিস্ফোরক পরিবহন।
কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ সাধারণ ও বেসামরিক বাংলাদেশি হত্যার অভিযোগ আছে।
সীমান্ত হত্যার অন্যতম ও উল্লেখযোগ্য হত্যাকান্ড হলো ফেলানি হত্যাকান্ড। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর-দিনহাটা সীমান্তের খিতাবেরকুঠি এলাকায় ০৭ জানুয়ারি ২০১১ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সদস্যরা ফেলানী খাতুন (জন্ম:১৯৯৬ সাল) নামের এক কিশোরীকে গুলি করে হত্যা করে লাশ পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে রাখে। বিএসএফ ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের জওয়ানদের এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। বিএসএফ নিজস্ব আদালতে এ ঘটনার জন্য দায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বাবার সঙ্গে ফেলানী নয়াদিল্লিতে গৃহকর্মীর কাজ করত। বিয়ের উদ্দেশে সে দেশে ফিরছিল।এই ঘটনা বাংলাদেশের জনমনে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভ দেখা দিলেও তেমন একটা সাড়া মেলেনি সরকারী আনুষ্ঠানিকতয়। ২০১৫ সালে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ভারত সরকারকে ফেলানীর পরিবারকে ৫০০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলে। বাকী তথ্য অজানা।
বন্ধু প্রতীম দেশের কাছে এমন আচরণ কতটুকু গ্রহণযোগ্য? বিশ্বের আর কোন বন্ধু! প্রতীম দুই দেশের এমন আচরন আছে বল আমি খুজে পাইনি।
তারপরও বাংলাদেশ সরকার ক্রমাগত বলেই চলেছে এই সরকার ভারতের সরকারের কাছে ঋণী। এই ঋণ কবে শোধ হবে? জনগনের এতো রক্ত যাওয়ার পরেও যে ঋণ শোধ হয় না সেই ঋণ কি আসলেই জনগনের না কোন বিশেষ গোষ্ঠীর?
তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া ও দৈনিক পত্রিকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






