যার জীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই বাবা কিংবা পরিবার ছেড়ে বড় হয়ে ওঠা, জীবনের চড়াই-উতরাই কিংবা ঘাত-প্রতিঘাতে যখন মানুষ পরিবারের ছায়ায় মুখ লুকিয়ে কাঁদে তখন চুপচাপ কষ্ট গেলা ছাড়া যার উপায় ছিল না।
বাবা যখন গত বছর ব্রেন স্ট্রোকে হসপিটালের বিছানায়, লেখাটা তখনকার, মুঠোফোনের ভেজা স্ক্রিন যে আর সায় দিয়ে উঠে নি,অনেক চেষ্টার পরও আর শেষ হয় নি।
থাকুক না কিছু লেখা অসমাপ্ত,তা যদি হয় জীবনের জন্য লেখা।
প্রিয় বাবা,
সাইকেল চালানোটা আমি একা একাই শিখেছি,অন্যদের বাবারা যখন সাইকেলের পেছনে ধরে সাইকেল চালানো শেখাতো,আমার একমাত্র ভরসাই ছিল পেছনের দু,টা স্ট্যান্ড।যেদিন আমার চার চাকার Rabbit সাইকেলটা দু চাকায় চলতে শুরু করলো, সেদিন পেছন থেকে কেউ বলে নি 'সাব্বাস এই তো শিখে গেছ'...হাত পা ছুলে যখন বাসায় ফেরা,তখন কেউ বলে নি ' অনেক ব্যাথা পেয়েছ বাবা?? দেখি কোথায় কেটেছে?'..
অন্যরা যখন বাবার হাত ধরে স্কুলে আসতো...আমি একলাই বাসা থেকে স্কুলের রাস্তা ধরতাম...খুব ছোট বেলা থেকেই একলা চলতে শিখে গেছি..একটু আগেই...
তোমার সাথে দেখা হত কালেভদ্রে,অনেক রাত করে তুমি যখন বাসায় ফিরতে তখন আমি ঘুম,আর আমি যখন স্কুল থেকে বাসায় ফিরতাম তখন তুমি ঘুমে।
মাছ ধরার নেশাটা এখনো কাটে নি,তাইতো স্কুল থেকে ফিরে বরশি হাতে দে ছুট পুকুর ঘাটের দিকে, জানো বাবা!!!কোথা থেকে যেন একটা শোলা যোগাড় করেছিলাম,নিজের শরীর গলিয়ে যখন পুকুরে দাপিয়ে বেড়াতাম। কি করব বল?? কেউ তো আমার বুকের নিচে হাত রেখে বলে নি '' হাত-পা ছোড় বাবা'' তাই আজও যে সাতারটা শেখা হয় নি..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



