
ডান-বাম, পশ্চাৎ-প্রাচ্য, আগ্রাম-বাগ্রাম ইত্যাদি কোন রাজনৈতিক বা দর্শনের এজেন্ডা হয়ে নয়, আজ স্বদেশ বাঁচানোর দাবীতে রাজপথে নামার কৃপাময় নিবেদন জানাচ্ছি। সুন্দরবনের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে দিবো না এ কথা সত্য, তবে আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই না বা উন্নয়ন বিরোধী এটা ভ্রান্ত। আমরা চাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হোক, কিন্তু তা কয়লা ভিত্তিক এবং রামপালে নয়। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন যেখানে সারা বিশ্ব বয়কট করছে, সেখানে কেন ভারতের বাতিল প্রকল্প আমাদের নিজ ভূখণ্ডে আনয়ন করা হচ্ছে? তাছাড়া চিনের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ফলে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশের অঞ্চলে লাঙস এবং কোলন ক্যান্সার এর হার তীব্র বা বিকট ভাবে বেড়ে গিয়েছে। এই নমুনা দেখার পরেও কেন আমাদের হেড অব দ্যা গভর্নমেন্ট'র এই প্রকল্প বাতিল না করার গোঁড়ামি? বিষয় টা একেবারেই নির্মল। তারা দেখাবে শুধু দৃশ্যমান উন্নয়ন। প্রকৃতি আড়ালে পচে মরুক, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। নিজ দেশ লুণ্ঠন করে বিদেশে পরে তারা পাড়ি জমাবে। পচে মরতে হবে আমাদেরই। তাছাড়া সুন্দরবনের রামপাল প্রকল্প নিয়ে আমরা শুনে আসছি যে ভারত বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনা, তা আদৌ যৌথ প্রযোজনা নয়, যৌথ প্রতারণা। অনুপম দেবাশীষ রায়ের একটা ভিডিও থেকে জানতে পেরেছিলাম যে এখানে যৌথ প্রযোজনা অনুযায়ী ১০০% এর ১৫% বাংলাদেশ এবং ১৫% দিচ্ছে ভারত অর্থাৎ মোট ৩০%। বাকি ৭০% আসছে ভারতের EXIM ব্যাঙ্ক থেকে লোন হিসেবে..। যা ভারত সরকার কোনো রকম স্বার্থ ছাড়াই বাংলাদেশকে দিচ্ছে। ভাবতে আজব লাগারই কথা,,, কেননা বাংলার মানুষ ফারাক্কাবাদ এবং তিস্তার পানি না পেয়ে মরে গেলেও তাদের কিছু আসে যায়.. বরং তারা নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে রাখে এবং বন্যার সময়ে আবার বাংলাদেশের ওপর ঠিকি ছেরে দিচ্ছে। বিপদের ওপর বিপদ!!! তারাই নাকি এখন আবার ভগবান!!! মূল কথা হচ্ছে যে ভারত সরকার ৭০% লাভ ছাড়া দেয়ার মানেই রামপালের জন্য বিনিয়োগ করছে, কারণ EXIM সরকার অধিগত ব্যাঙ্ক। অর্থাৎ ভারতের ৭০+১৫=৮৫% বিনিয়োগ বাংলাদেশের রামপাল প্রকল্পে,,,,,, কিন্তু তা কেন? কারণ তাদের আইন বলে বনাঞ্চল থেকে ২৫ কি.মি. দুরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর, সেখানে বাংলাদেশ বলে ১০ কি.মি. দুরে করতে। তো রামপাল তো ১৪ কি.মি. দুরে!!! অর্থাৎ আইনগত ভাবে তা বৈধ !!! ছাড়লাম না হয় এসব কথা, রামপাল প্রকল্প বাস্তবের ফলে বাংলাদেশের পাশে থাকার সুবাদে ভারতের যে কোনো ক্ষতি হবে না, তাও কিন্তু না! ভারত সরকারের উদ্দেশ্য ও আমাদের বাংলাদেশের সরকারের মতই!!! তারা দেখাবে সব দৃশ্যমান বস্তু, যে এতগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র আমরা নির্মান করেছি, এতগুলো **আগ্রাম*****বাগ্রাম********আমরা নির্মান করেছি। পরিবেশ তো দৃশ্যমান না। তা হলেই কি আর না হলেই জনগণ কি দেখবে! এখন বলতে কোনো বাধা নাই যে এটা হচ্ছে যৌথ প্রতারনা! তারা অবশ্যই কোন সৎ এবং মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে না। তাই লড়াই শুধু সুন্দরবন বাঁচানোর জন্য নয়, সমগ্র দেশ বাঁচানোর জন্য।
সকল কে আগামী ২৬শে জানুয়ারি সুন্দরবন রক্ষার দাবীতে হরতাল পালিত করার জন্য আরেকবার কৃপাময় আহ্বান জানাচ্ছি!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



