somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপেক্ষা (একটি প্রেমের গল্প)

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অপেক্ষা ( একটি প্রেমের গল্প)
#রফিকুল ইসলাম জসিম
আমার জীবনে একজন মানুষ ভালোবাসার সাত রং ছড়িয়ে দিয়েছিলো । তার নাম শানাম।
তখন আমি নবম শ্রেনীতে পড়েছিল। শানাম পড়তো অষ্টম শ্রেনীতে ।
প্রথম যৌবনে প্রথম ভালো লাগার নাম ছিল সে। আমরা দুই জন ও একই স্যারে কাছে এক সঙ্গে প্রতিদিন সকালে টিউশনি পড়ছিলাম।
আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ। কিন্তু শানামের স্পর্শে আমার জীবনের প্রতিটি মূহর্ত বর্নিল হয়ে উঠেছিলো। তার চেহারা, কথা বলার ধরন আর চোখ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।
প্রতিদিন টিওশনিতে পেছনে বেঞ্চে বসে। তখন সে সামনে বেঞ্চে বসে। আমি এক দৃষ্টিতে মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ব্যাপাটা শানাম খেয়াল করেছিলো। আমার মনের ভিতরটা সে এক মুহূর্তে পড়ে ফেলছিল। যখন খেয়াল ফিরলো তখন। খুব দ্বিধায় পড়লাম।
এরপর-একদিন স্কুলের পুকুর ঘাটে বসে ছিলাম। তখন টিফিন পিড়িয়ড চলছিল। শানাম আর তার বান্ধবী শ্রুটি আসলো পুকুর ঘাটে। শানাম আমাকে হঠাৎ দেখে এড়িয়ে গেলো।
শানামের বান্ধবী শ্রুটি আমাকে বললো, শানাম তোমাকে ভালেবাসে। সে মুখে তোমাকে সামনাসামনি বলতে লজ্জা করে ওর। আমার মন তখন আনন্দে মাতিয়ে উঠলো।
পরদিন টিউশনিতে আমি খুব সকালে গেলাম। শানাম তার ছোট ভাই সঙ্গে করে আসলো। তখন প্রাইমারী স্কুলে ছোট ভাইটা রেখে টিউশনি রুমে কাছাকাছি চলে আসলো। পাছে কেউ ছিলো না। শুধু আমরা দুজন। আমি শানামকে আমার মনের কথাটা জানালাম। সেও সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি দিল। তখন সূর্য মাত্র জেগে উঠলো সেই সূর্যের আলোকে সাক্ষী রেখে দুজন দুজনকে ভালোবাসার বন্ধন হলাম।
এরপর টানা ২/৩ বছর সম্পর্ক ছিলাম।
২০১২ সালে আমি যখন এস এস সি পাস করে কলেজ ভর্তি হলাম। তখন শানাম দশম শ্রেনীতে পড়াশুনা করেন। কিন্তুু প্রতিদিনের মতো দেখা না হলে প্রায় মাঝেমাঝে দুজনে দেখা হয়।
কয়েক মাস পর একদিন আমার এক মামাতো বোনের বাড়ীতে এক অনুষ্ঠানে
গিয়েছিলাম। তাদের পাশের গ্রামে শানামের বাড়ী। সেই দিন প্রায় অনুষ্ঠানের শেষের দিকে দূরে কোথায় জ্বলে উঠা আগুনের ধোঁয়া দেখতে পেলাম। সেই দিকে প্রায় মানুষগুলো ছুটে যাচ্ছিলো। আমি ও দৌড়ে দেখি শানামের বাড়ীতে আগুন লেগেছে।
আমি সহ প্রায় আশ-পাছে আগুন নিভাতে চেষ্টা করলো, শেষ পযন্ত
ফায়ার সার্বিস এসে আগুন বন্ধ করলো। কিন্তু শানমের ঘর আগুনে পুড়িয়ে ছারখার হলো।
শানাম তাদের বংশ বা গোষ্ঠী সব ভারতে। বাংলাদেশে তাদের আপনজন বলতে কেউ নেই। শানাম বাবা ভারত থেকে এসে ভিটা কিনে বাড়ী বানাচ্ছিল।
সেই ঘটনার পর শানাম আমার সঙ্গে শেষ দেখা হলো। শানাম আমাকে কেঁদে কেঁদে জানালো, তাদের পরিবার বাংলাদেশ ছেড়ে ভারত চলে যাওয়ার কথা। সেদিন দুজন খুব কেঁদে ছিলাম। তখন শানাম আমাকে সান্তনা দিল, একদিন সে ফিরে আসবে।
প্রতিদিন আমি আশাহত হই। একদিন ঠিক আমার শানাম ফিরে এসে বুকে জড়িয়ে ধরবে। এই মনগড়া স্বপ্ন।
শানাম আজ ভারত চলে গেছে, তবুও রয়েছে আমার মন জুড়ে।
আমার জীবনে প্রদীপ নিভু নিভু। হঠাৎ ঝটকা বাতাশ এসে আমার এই কুটিরের প্রদীপটি নিভিয়ে গেলো।
অমিত -লাবণ্যর মতো আজ আমাদের দুজনার পথ দুটি ভারত বনাম বাংলাদেশ হচ্ছে।


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×