somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ অপরাধবোধ ও পাপবোধ

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলা অভিধানে ‘অপরাধ’ ও ‘পাপ’ শব্দ দুটো পরস্পরের প্রতিশব্দ হলেও ব্যবহারের দিক থেকে ভিন্ন। ‘অপরাধ’ শব্দটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বা আইন বিরোধী কোনো কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে। অন্যদিকে ‘পাপ’ শব্দটির সাথে জড়িয়ে আছে ধর্ম। ধর্মীয় দৃষ্টিতে গর্হিত বা ধর্মীয় বিধি-বিধান বিরোধী কোনো কাজকে পাপ বলা হয়ে থাকে। দুটো শব্দ একই অর্থবোধক হলেও ব্যবহারগত এ পার্থক্যে আপত্তির কিছু নেই। আপত্তি তখনই, যখন কেউ বলে সমাজ থেকে ‘পাপ’ শব্দটির ব্যবহার উঠিয়ে দিয়ে সবক্ষেত্রে ‘অপরাধ’ শব্দটির ব্যবহার করতে হবে। ধর্ম বিরোধী, নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী লোকেরাই এরকম কথা বলে থাকে। সে প্রেক্ষিতে আমার জিজ্ঞাসা হলো কোনটি মানুষকে অপরাধ বা পাপ থেকে দূরে রাখে – অপরাধবোধ না পাপবোধ?
রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক আইন অমান্য করলে কেউ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়। রাষ্ট্রে বা সমাজে সুশাসন থাকলে তার সুষ্ঠু বিচার হবে, শাস্তি হবে। তাতেই কি সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে অপরাধ দূর হবে? হয়েছে কোথাও? কেননা আইনের রয়েছে নানা ফাঁক। সেই ফাঁক কাজে লাগিয়ে বিত্তশালী, প্রভাবশালীরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করে। আবার সাধারণ অপরাধীরা শাস্তির ধরন জেনেও অপরাধ করতে সাহস করে। আমাদের সমাজে গা সয়ে উঠা একটি অপরাধ প্রসঙ্গে আসা যাক। ঘুষ খাওয়া এবং দেয়া আইনের চোখে অপরাধ সে কথা সবাই জানে। এ অপরাধ করতে সমাজে এখন আর কাউকে তেমন দ্বিধাবোধ করতে দেখা যায় না। কেননা এ অপরাধ করে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় কম। ধরা পড়লেও শাস্তির সম্ভাবনা নেই, থাকলেও খুবই কম। তাই জেনে বুঝে এ অপরাধ করছে অফিস আদালতের পিওন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, সরকারি আমলা, আইন প্রণেতা সবাই। দু একজন ব্যতিক্রম আছে অবশ্যই। এমনি আরও সামাজিক, পারিবারিক ছোটো খাটো অপরাধ থেকে শুরু করে অতি জঘন্য অপরাধ রয়েছে, যা করে আইনকে ফাঁকি দেয়া সম্ভব বলে প্রায়ই সে অপরাধগুলো সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধবোধ এ সব ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। অন্যদিকে একজন মানুষের মনে যদি পাপবোধ প্রবল থাকে, তবে সে মানুষের চোখ, আইনের চোখ ফাঁকি দেয়া সম্ভব হলেও কোনো পাপ বা অপরাধ করবে না। কেননা তার মনে এই ভীতি থাকে যে, কোনো মানুষ না জানলেও, আইনের চোখ ফাঁকি দেয়া সম্ভব হলেও মৃত্যুর পর তার পার্থিব সব কৃতকর্মের বিচার হবে এবং পাপকাজের জন্য অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। সেই ভয়েই সে পাপকাজ থেকে দূরে থাকবে। প্রশ্ন উঠতে পারে অনেক লোক আছে যারা তাদের ধর্মীয় উপাসনা যথারীতি করছে , তা সত্ত্বেও মিথ্যা বলছে, ঘুষ খাচ্ছে এবং আরও অনেক পাপ বা অপরাধের সাথে যুক্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে কি পাপবোধ নেই? না নেই। থাকলে তারা পাপ বা অপরাধ করতে পারতো না। তারা লোক দেখানো ধর্ম কর্ম করে। কিংবা কেউ কেউ মনে করে ধর্মীয় উপাসনা যথাযথভাবে করলে তারা যে পাপ কাজ করছে, সেই পাপের শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে। তারা জানে না যে, হিসেবটা এতো সরল নয়। প্রচলিত প্রধান চারটি ধর্মানুসারে জেনে বুঝে করা প্রতিটি পাপকাজের শাস্তি ভোগ করতে হবে, তারপরই মুক্তি মিলবে। ইসলাম ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম ও হিন্দু ধর্মে সে কথা স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মে যে নির্বাণ লাভের কথা বলা হয়েছে, তারও মূলসুর একই।
মানুষ যদি যথার্থ ধার্মিক হয়, তার মধ্যে পাপপুণ্যের বোধ যথাযথ থাকে, তাহলে কেউ জানবে না, জানলেও তার কোনো শাস্তি হবে না, সে ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হলেও সে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকবে। কিন্তু
অপরাধবোধ যথাযথ থাকলেও, যদি পারলৌকিক শাস্তির ভয় না থাকে, যদি সে শতভাগ নিশ্চিত হয় যে, কেউ জানবেনা এবং জানলেও তার কোনো শাস্তি হবে না, তবে সে নিজের খ্যাতি, প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভের জন্যে, কামনা বাসনা চরিতার্থের জন্যে অপরাধ করতে পারে।
তাই যারা ভাবে ধর্ম বিলুপ্ত হলে, ‘পাপ’ শব্দটি অভিধান থেকে, সমাজ থেকে উঠে গেলেই সমাজে শান্তির বাতাস বয়ে যাবে, তাদের ভাবনাটি সঠিক নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×