![]()
মোগল শব্দের অর্থ বিজয়ী।শব্দটি এসেছে “মঙ্গোল”শব্দ থেকে।মধ্যযুগে তাতাররা মোঙ্গল নামে পরিচিত ছিল।দ্বিগবিজয়ী চেঙ্গিস খান নিজে সর্বপ্রথম মোঙ্গল(বিজয়ী) নামধারণ করেন।পারস্য বা ইরানীরা এদের মোগল(মোঙ্গল এর অপভ্রংশ?)নামে ডাকত।সেইসূত্রে ইউরোপীয়রাও তাতারদের মোগল নামেই অভিহিত করেছে।আমরাও তাদের মোগল নামেই চিনি।খোদ মোগলরা কিন্তু নিজেদের জন্য এই নাম/শব্দ ব্যবহার করেননি।
বাবর নিজেকে তূর্কি বলতেন।তার নামের সাথে বংশীয় পদবী ছিল মির্জা।তবে মোগলরা নিজেদের চেঙ্গিস-তৈমুর এর বংশধর হিসাবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন।সম্রাট বাবর পৈত্রিক দিক থেকে সরাসরি চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন না।পৈত্রিক দিক থেকে তিনি ছিলেন তৈমুর লং এর বংশধর আর মায়ের দিক থেকে তিনি ছিলেন চেঙ্গিস খানের বংশধর।সম্ভবত এই কারনে তিনি মেঙ্গল/মোগল/খান/ নাম পরিহার করেন।মোগলরা নিজেদের বলতেন “গুরকানি”।
১৭০০ খ্রীস্টাব্দের দিকে তাদের স্বর্ণযুগে মোগল সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল ত্রিশ লাখ বর্গকিলোমিটার।মধ্য এশিয়ার তূর্কি বংশোদ্ভূত মোগলরা সেই সময়কার মুসলিম খেলাফত উসমানিয়া(অটোম্যান)তূর্কি সুলতানদের থেকে নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ ভাবতেন।তাই তারা উসমানিয়া সুলতানদের স্বীকৃতি দেননি।বাবর থেকে বাহাদূর শাহ (২য়)মোট সতের জন মোগল শাষক প্রায় সোয়া তিনশত বছর ভারতবর্ষ শাসনকরেছেন।
বর্তমানে ভারত,পাকিস্তান,বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে মোগল বংশধরগন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন।কিছু সংখ্যক পশ্চিমা দেশে অভিবাসীও হয়তোবা হয়েছেন।আবার ভূয়া মোগল নামধারী লোকের সংখ্যাও কম নয়।
এখন মোগলদের বংশধরগন অঞ্চলভেদে জং,শেখ,মির্জা,বেগ,মালিক,চুগতাই ইত্যাদি উপাধি ব্যবহার করে।
পুনশ্চ :বাংলায় মোগল ও মোঘল দুভাবেই লেখা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


