somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয়ার হাতে নীলপদ্ম

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারা বিশ্ব তন্ন তন্ন করে খুঁজে প্রিয়ার হাতে হয়তো তিনি তুলে দিতে চেয়েছিলেন এক শ নীলপদ্ম। কিন্তু তাঁকে নামতে হয়েছে ভিন্ন খোঁজে। ৭৭ বছর বয়সে চড়া রোদে হেঁটে হেঁটে তিনি খুঁজেছেন তাঁর স্ত্রীর জন্য একটি কিডনি। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাকচালক উইলিয়াম ল্যারি সুইলিং স্ত্রী জিমি সুর হাত ধরেছিলেন ৫৫ বছর আগে। জিমি জন্মেছিলেন একটি কিডনি নিয়েই। প্রথম সন্তান জন্মের সময়ই জানতে পারেন তা। চিকিৎসকেরা ভেবেছিলেন জিমি মা হতেই পারবেন না। কিন্তু একে একে তিন সন্তান আসে তাঁদের ঘরে। মাথার ওপর শঙ্কার ছায়াটা অবশ্য ছিলই জিমির। গত বছর তাঁর একমাত্র কিডনিটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এখন প্রয়োজন কিডনি প্রতিস্থাপন। ল্যারি যদি পারতেন নিজের দুটো কিডনিই জিমিকে দিয়ে দিতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাঁর স্বামী ও সন্তান কারও সঙ্গে তাঁর রক্তের মিল নেই। তাঁর প্রয়োজন ছিল বাইরের কোনো কিডনিদাতা। ‘সেই রাতে ঘুমানোর আগে জিমি আমাকে বলল, “এখন কী করব আমরা?” আমি বললাম, আমি এখন জানি না, কিন্তু কোনো না কোনো উপায় ঠিকই বের করে ফেলব। আর সেটা আমার মাথায় আসে মাঝরাতে।’ বলেছেন ল্যারি। পরদিন কাজ থেকে তাড়াতাড়ি ছুটি নিয়ে নেন ল্যারি। তারপর বেরিয়ে পড়লেন তাঁর নিজের শহর অ্যান্ডারসন, সাউথ ক্যারোলিনার রাস্তায়। ‘আমি প্রায় সাড়ে ১৫ মাইল হেঁটেছি, প্রচণ্ড গরমে, হাঁটুতে ভাঙা কার্টিলেজ নিয়ে। মানুষ আমাকে টাকা দিতে চেয়েছে কিন্তু আমি তাদের বলেছি টাকা আমার চাই না, আমার দরকার একটি কিডনি।’ বলেছেন ল্যারি। স্থানীয় এক টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয় ল্যারির খবর। আর তার পরই যোগাযোগ করতে থাকে প্রচুর মানুষ। কিন্তু তাদের কারও রক্তের গ্রুপই মিলছিল না জিমির সঙ্গে। ল্যারি আবার বেরিয়ে পড়েন। এবার এক দিনে প্রায় ৫৪ মাইল হাঁটেন তিনি। ‘আমার বাবার এই পরিকল্পনার কথা জানতে পারি মায়ের কাছ থেকে। আমি এবার পানি নিয়ে যাই তাঁর জন্য।’ বলেছেন ল্যারি জুনিয়র। ল্যারির এই চেষ্টায় অবশেষে সাফল্য মেলে। ভার্জিনিয়ার কেলি উইভারলিং এই খবর পড়ে ল্যারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর সঙ্গে মিলে যায় জিমির রক্ত। ৪১ বছর বয়সী এই নারী নিজের একটি কিডনি দেন জিমিকে। এ মাসেই হওয়া এই অস্ত্রোপচার সফলও হয়েছে। সুস্থ আছেন তাঁরা দুজনই। এর বিনিময়ে অবশ্য কেলি কিছুই নেননি এই দম্পতির কাছ থেকে। ‘মানুষের জন্য কিছু করা আর তাদের আশা জাগিয়ে রাখার অনুভূতি খুবই ভালো।’ বলেছেন কেলি। সূত্র: Prothom-Alo
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×