ফ্রিগেটবার্ডঃ
ফ্রিগেটবার্ড এক ধরনের সামুদ্রিক পাখি। এদেরকে আবার ‘যোদ্ধা পাখি’ আর ‘জলদস্যু পাখি’ও বলা হয়। কেননা এরা নিজেরা খাবার জোগাড় করে তো খায়-ই, মাঝে মাঝেই অন্য পাখিদের উপর হামলা করে তাদের খাবারও ছিনিয়ে নেয়। তারপর জলদস্যুদের মতো গান গাইতে গাইতে মনের সুখে সেসব খাবার খায়। এমনকি এরা মাঝে মাঝে অন্য পাখির বাচ্চাও চুরি করে খেয়ে ফেলে! কী ভয়ানক পাখি রে বাবা! এত সহজে চুরি করতে পারার কারণ আর কিছুই না, এদের দ্রুতগতিতে উড়তে পারার ক্ষমতা। এরা ঘণ্টায় প্রায় দেড়শ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে উড়তে পারে। আর তাই তো যখন ওরা ছোঁ মেরে অন্যের খাবার নিয়ে উড়ে যায়, চাইলেও অন্য পাখিরা কিছুই বলতে পারে না! যাই হোক, অন্যান্য সামুদ্রিক পাখিদের মতোই ফ্রিগেট পাখিরও লম্বা ডানা আর লম্বা লেজ আছে। আর এদের গলা থেকে বুক পর্যন্ত পুরো অংশটি একদম লাল। একটা বিশেষ সময়ে আবার এই জলদস্যু পাখিদের এই লাল অংশটা একদম ফুলে ফেঁপে ওঠে! ফ্রিগেটবার্ডরা সাধারণত ঝাঁক বেঁধে থাকতে পছন্দ করে। আর এরা বাসা বানায় কোনো নিচু গাছে। এমনকি নির্জন দ্বীপ পেলে এরা মাটিতে ঘর বানিয়েও থাকে। ডিম পাড়ার ব্যাপারেও এরা কিন্তু খুবই হিসেবি, কখনোই একটার বেশি ডিম পাড়ে না। আর অন্য পাখিরা তো একেক বারে হালি হালি ডিম পাড়ে। একবার ভাবুন, ওরাও যদি অন্য পাখিদের মতো হালি হালি ডিম পাড়ত, তখন অন্য পাখিরা ওদের অত্যাচারে আর কিছু খেতে পারত! তবে ফ্রিগেটবার্ডের সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা অন্য পাখিদের তুলনায় এই ছিনতাইকারী পাখিদের বাচ্চারা ওদের মায়েদের কাছে অনেক বেশি সময় ধরে থাকে। ছিনতাইকারী বলুন, যোদ্ধা বলুন আর আকাশদস্যু-ই (জলদস্যুদের আকাশের ভার্সন) বলুন, সন্তানের প্রতি মায়েদের ভালোবাসা দেখা যায় ওদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি!
স্পার-উইংড গুসঃ
স্পার-উইংড গুস নাম শুনেই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে, ওরা এক ধরনের হাঁস। শুধু তাই না, ওরাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রজাতির হাঁসও বটে। আর ওদের ওজনও অনেক—প্রায় ৭ কেজি! তবে এত বিশাল আর ভারি হওয়া সত্ত্বেও ওরা কিন্তু খুব দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। আর তাই তো পৃথিবীর দ্রুতগামী পাখিদের তালিকায় স্পার-উইংড গুস রয়েছে ৩ নম্বরে। এই বিশাল শরীর নিয়েও এরা ঘণ্টায় প্রায় ১৪২ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে। ওদের ডানার অগ্রভাগটা যে খাঁজকাটা খাঁজকাটা! স্পার-উইংড গুস-এর শরীরের বেশিরভাগটাই কালো। তবে এদের মুখ আর ডানার অগ্রভাগ সাদা। সেই সঙ্গে পেটের দিকটাও সাদা। হাঁসেরা বেশিরভাগ সময় পানিতে থাকতেই পছন্দ করে। আর ‘স্পার-উইংড গুস’ও যেহেতু এক ধরনের হাঁস, সেহেতু এরাও বেশিরভাগ সময় পানির আশপাশেই থাকে। আর জলাশয়ের আশপাশ থেকেই খাবার সংগ্রহ করে খায়। তবে গাছের কোটরে বা মাটির গর্তেও যে এরা বাসায় বানায় না, তা নয় কিন্তু! সেখানেও বাসা বানায়।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



