আজ বিকেলে জরুরী একটি কাজে বারিধারা গিয়েছিলাম। রাস্তায় ব্যাপক জ্যাম। ফিরার পথে সি,এন,জি,তে বসে থাকা অবস্থায় দেখতে পাচ্ছিলাম বিশাল সব গাড়ি গুলিও একই কারনে জটলা পাকিয়ে বসে আছে। মাছ বাজারের পাশের কেমন যেন এক ধরনের উদ্ভট গন্ধে পাশের বাসের যাত্রীরা সবাই হাসফাস করছিলো। যাই হোক সি,এন,জি যখন হাতিরঝিল পার হয়ে কাওরান বাজারের পাশে সোনারগাঁও সিগল্যাল এর দিকে আসছিলো তখন চোখে পড়লো আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালের একটি এম্বুলেন্স। অনেক সময় ধরে এম্বুলেন্সটি আর্তনাদ (সাইরেন বাজতেছিলো) করছিলো, আমি সহ আমার পাশে স্থবির হয়ে থেমে থাকা সকল যানবাহনের যাত্রীদের ভেতরের মানুষটি যেন কেপে কেপে উঠছিলো শব্দের সাথে সাথে। কিন্তু এম্বুলেন্সটি সামনের দিকে অগুসর হতে পারছিলোনা। আমি দৃষ্টি দিলাম গাড়ীটির দিকে, কালো কাঁচের ভিতর দিয়ে স্পষ্ট না দেখলেও বুঝতে অসুবিধা হলো না এম্বুলেন্সের ভেতরে হয়ত মৃত্যুযন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছে একজন। সামনে ড্রাইভারের সাথে একজন ডাক্তার বসে আছেন যার চোখে মুখে আতঙ্ক। সাইরেন এর শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল একজন মানুষ মৃত্যুকে সাথে নিয়ে ট্রাফিককে বলছে দয়া করে সিগনাল ছেড়ে দিয়ে আমাকে যেতে দিন। কিন্ত আমাদের এই সকল বয়রা ট্রাফিকের কাছে এম্বুলেন্সের সাইরেন কোনো ধরনের আলাদা গুরুত্বই তৈরি করলোনা। কেন করল না একটু পরেই শো শো শব্দ করে ছুটে চলা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ী বহর দেখে বুঝতে পারলাম।
অভাগা ওই এ্যাম্বুলেন্স যাত্রী হয়ত জানে না আমাদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা সাধারন মন্ত্রীরা যখন কোনো রাস্তা দিয়ে যায় তখন দেশের সকল নাগরিক রাস্তার পাশে দাড়িয়ে হা করে তাকিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সম্মান প্রদর্শন করতে বাধ্য। আর আমাদের সকল ট্রাফিক পুলিশ তখন তাদের উপর অর্পিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করে রাস্তা খালি করে দেন। তখন কোনো সিগনাল, কোনো জ্যাম কিছুই থাকে না।
অথচ একটি মানুষ যখন এই সিগনালে পড়ে লাশ হয়ে যায় তখনও আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ভাইদের এনিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপই লক্ষ্য করা যায় না। আর থাকবেই বা কেন? এই দেশে তো আইন প্রণেতাদের প্রোটোকল দেয়ায় হচ্ছে আইনের প্রথম কাজ।
হায়রে আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ, এই দেশে জীবন্ত মানুষ লাশ হয়ে যাবার চেয়েও মন্ত্রীর সময়ের দাম বেশী। আর যে নিয়ম মৃত্যুমুখি মানুষকে মৃত্যুর আরো কাছে ঠেলে দেয় সে নিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে সাধের গণতন্ত্র...
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




