ভেবে দেখলাম জীবণের সেরা সময় পিছনে ফেলে এসেছি...সেই স্বপ্নের শৈশব, কৈশোর...আর নেই। এখন আমি যুবক। আমার শরীরে এখন পুরুষের গন্ধ... আর সামনে যেটা আসবে শুধু হতাশা, দুশ্চিন্তা...কনফিউশন... দুদিন পর বিয়ে করতে হবে। না করলে ক্যাচাল। লোকজন হাসাহাসি, কানাকানি করবে। বাবা-মা এসে বলবে, কোনো প্রবলেম থাকলে বল। কলকাতা হারবাল তো বেশী দূরে নয়। রোগ থাকলে, লুকিয়ে রাখা ঠিক না। বন্ধুরা এসে গল্প দিবে তাদের হীরার টুকরা বৌ কতো ভালো... তারা টিভিতে রান্নার অনুষ্ঠানের থেকে রেসিপী কালেক্ট করে অখাদ্য, কুখাদ্য তৈরি করে বলেনা, জান, সোনা, ময়না, টিয়া, দেখোতো কেমন হয়েছে। আমারও মুখে হাসি টেনে বলা লাগে না, অভূতপূর্ব !! (আসলেই তাই কারন মানব সভ্যতার ইতিহাসে কেউ কখনো এমন কুখাদ্য রান্না করেনি) আর মনে মনে বলা লাগে না, এই কে আছিস? এই গোখাদ্য মুখে তোলার আগে এক গ্লাস সায়ানাইড কেনো এনে দিলি না...??? আবার কেউ এসে বলবে, তোর ভাবী কতো ভালো! জানিস ও স্টার প্লাস দেখে না...!!! আবার কেউ এসে গল্প দেবে, তোর ভাবী আজ মুখে শসা, ডাউল, হলুদ, ডিম লাগিয়ে দিয়েছে। দেখ, দেখ, কতো স্মাত লাগছে আজ। মনে মনে বলি, আরে শালা, তোরা না হয় ড্রেসিং টেবিল কে রান্না ঘরে টেনে আনছিস, তাই বলে আমরা কি মুখে নিমপাতা ঘষি? কালে খ্যাত হোলিও, আমরা মুখে রেগুলার চাদনী কিরিম মাহি।
আর বিয়ে করলেতো নচীকেতার সুরে সুর মিলিয়ে গাইতে হবে...অন্ত বিহীন পথে চলাই জীবণ অথবা ঘিরে ধরে কুয়াশা যখন.. বৌয়ের শীলা, চামেলি ড্রেস আর স্নো, পাওডার, ইলাস্টিক, প্লাস্টিক, কসমেটিক কিনে দিতে পারলেও যদি সোনার বায়না ধরে তাইলেইতো জীবণ তামাতামা... তার কিছুদিন পর ছেলে-মেয়ে হলেতো শুরু করবে খাবো-খাবো... দুধ, মালটোবা, বুস্ট, কমপ্লান, হরলিকস খাওয়াতে খাওয়াতে মনে মনে বলবো, এর থেকে আমারেই খায়ে ফেলা, শালা রাক্ষসের বাচ্চা। এগুলার ব্যাবস্থা করতে করতে নতুন টেনশন... ভালো স্কুল...স্যার... সেখানে যেয়েও যদি সত্ সঙ্গে পড়ে ইয়াবা, ডাইল, শিষা ধরে তাইলেতো সব শেষ। আর যদি বাপ-মার পথ অনুশরন করে তাহলে ছেলে হলে মরবে হয়তো RAB এর হাতে ক্রসে আর আমার বলা লাগবে, আমার ছেলে শহীদ হয়েছে। আর মেয়ে হলে শহবে বাস করবে দুই শ্রেনীর পুরুষ। একদল তার প্রাক্তন প্রেমিক...আরেকদল তার হবু প্রেমিক। চিন্তা করতেই মাথা আউলায়ে যাচ্ছে।
এবার টেনশনের পর্যায়ক্রমিক পরিক্রমন সম্পর্কে একটা গল্প...
একলোক গাড়িতে করে যাচ্ছে। পথে এক সুন্দরী লিফট চাইলো। টেনশন শুরু...লিফট দিব কি দিব না। আদম্য রক্ত-মাংসের গন্ধের কাছে হারমেনে লিফট দিয়েই দিলো। পথে মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়লো... আরেক টেনশন.. এখন কি করা যায়... শেষে সোজা হসপিটাল... পৌছে আরেক টেনশকি পরিচয় দিবে...শেষে বলেই দিলো বৌ... এবার টেনশন.. ডাক্তার কি রিপোর্ট দেবে... না ডাক্তার হাসি হাসি মুখে আসছে...তারমানে ভালো কিছু বলবে... ডাক্তার এসে বললো, ভয়ের কিছু নেই... আ... কি শান্তি লাগলো... কিন্তু পরক্ষনেই বলে, আপনি বাবা হতে চলেছেন...!!! লোকটা হোয়াট বলে লাফিয়ে উঠে যতো বলে, আমি এ মহিলার স্বামী না... মহিলা ততো বলে, এই আমার স্বামী। আরেক টেনশন... শেষে পুলিশ..কোর্ট.. শেষে কোর্ট রায় দিলো ডাক্তারি টেস্ট... আরেক টেনশন.. মান-সম্মান কি নীলামেই ওঠে...
না... মুক্তি... রিপোর্টে এলো... তার বাবা হবার ক্ষমতা নেই... মুক্তির আনন্দে লাফাতে লাফাতে বাড়ি ফিরলো... বাসায় ফিরে মহাটেনশন শুরু... ডাক্তারী রিপোর্ট মতে তার বাবা হবার ক্ষমতা নেই... তাহলে ঘরের ভেতর যেসব পিচ্চি ঘুরে বেড়াচ্ছে আর তাকে বাবা-বাবা বলে ডাকছে এগুলো আসলো কোথা থেকে...??? এগুলো কি তবে যিশু খ্রিষ্ট..???
সর্বশেষ খবর: আজ এক আফ্রিকান কে দেখে গেয়ে উঠলাম.. হাম দিল দে চুকে সানম... পাশের বিবাহিত বন্ধুকে বললাম, দোস্ত দেখ দুজনের গায়ের কালার কি দারুন ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের মতোন...
ওরে যদি না পাই আমি আন্ধার হবে চারিদিক,
বিষ খাইয়া আমি মরিয়া যামুগা,
বিষ না পাইলে হারপীক... আমাদের এক হবার ব্যাবস্থা কর না হলে এক ফাইল ইন্দুর মারা বিষ অথবা দড়ি কিনে দে... ব্যাংক বন্ধতো তাই তোকে টাকা দিতে হবে এ পারপাসে... বৌয়ের ভাই বলে, শালা, সুইসাইড করার জন্য দড়ি কিনতেও তোর ধার করা লাগে আর তুই দেহাস সুইস ব্যাংক... জীবণে একটা প্রেম করতে পারলি না বিয়েতো দূরের কথা... আর তুই করবি সুইসাইড... ফাকে যা বেটা...পানিতে টাকা ফেলার ইচ্ছা আমার নেই... ;-(( (দূ:খে ঝোল হবার ইমো হৈবেক)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



