somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরমা(গল্প)

২৭ শে মার্চ, ২০১৪ সকাল ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন ধরেই ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্টটা ঝুলছিল পরমার হোম পেজে। পরমা ইচ্ছা করেই আইডিটির ভেতরে ঢুকত না। দেখত কোন মিউচুয়াল নেই। মিউচুয়াল ছাড়া সে আবার রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে না। আইডিটার নামও অদ্ভুত। তাই সে ইচ্ছা করে আরো ঢুকে না। পরমা চিন্তা করে "অম্বুবাহ" কারো নাম হয় নাকি? সে মাঝেমাঝে ভাবে রিকুয়েস্ট টা ডিলিট করে দিবে। কিন্তু কেন জানি তাও পারে না। মাঝে মাঝে পরমা ভাবে এই আইডি থেকে কোন মেসেজ আসে না কেন? সবাই রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে মেসেজ দেয়। কিন্তু এ যেন অন্যরকম।

একদিন দুপুরবেলা ফেসবুকে অলস সময় কাটাচ্ছিল পরমা। হঠাৎ কি মনে করে যেন সে "অম্বুবাহ" নামের আইডিটাতে ঢুকল। ঐ আইডিতে ঢুকেই পরমা অবাক। এ যে তাদের কলেজেরই ছেলে। কিন্তু সাথে সাথে তার মনে হয় তাদের কলেজেরই যদি হবে তাহলে মিউচুয়াল নাই কেন? এ রকম সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে পরমা আইডিটার এবাউট পড়লো। এবাউট পড়ে পরমা সম্পূর্ণ বিস্মিত। এত সুন্দর করে কেউ কারো বায়ো ফুটিয়ে তুলতে পারে তা পরমার আগে জানা ছিল না।

পরমা কোন চিন্তা না করেই আইডিটার টাইমলাইনে ঢুকল। কিন্তু এ কি? যা দেখছে তা কি সত্যি নাকি? টাইমলাইনে কিছু কিছু সাহায্যের আবেদন ছাড়া বাকি সব পোষ্ট ই যে তাকে নিয়ে লেখা। পরমা কিছুই বুঝলনা। কিছুক্ষণ অবাক হয়ে টাইমলাইনের দিকে তাকিয়ে রইলো।

কিছুদিন থেকেই পরমা লক্ষ্য করেছে তাদের ক্লাসে মেঘ নামের ছেলেটা তার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু চোখে চোখ পরলেই চোখ সরিয়ে নেয়। এতে পরমা কিছুটা আন্দাজ করলেও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারলো না। তাই সেদিন বাসায় গিয়ে পরমা অম্বুবাহ নামের অর্থ বের করলো। সে যখন দেখলো অম্বুবাহ মানে মেঘ তখন সে নিশ্চিত হল যে এই মেঘ ছেলেটাই তার প্রেমে পরেছে।

পরমা ভাবে মেঘ ছেলেটা তো একদম হাঁদারাম। সারাদিন বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে রাখে বলে বন্ধুরা সবাই ওকে "আবুল" বলে ডাকে। এতে মেঘের প্রতি তার মায়াই জমত, অন্যকিছু না। কিন্তু মেঘের পোষ্ট গুলো পড়ে মেঘের প্রতি অন্য রকম ভালোলাগা সৃষ্টি হয় পরমার। এই ভালোলাগাই যে কিভাবে ভালোবাসায় রূপান্তরিত হল সেটা পরমা বুঝতেও পারল না। একদিন পরমা বুঝতে পারল সে মেঘকে ভালবাসে।

কিন্তু মেয়েরা সারাজীবন একই রকম, "বুক ফাঁটে তো, মুখ ফোঁটে না।" পরমা মেঘকে ভালবেসে ফেললেও কারো কাছে প্রকাশ করলো না। শুধুমাত্র তার বেস্ট ফ্রেন্ড অপিকে জানালো।

অপি এই কথাটা শুনে কিছুক্ষণ চুপ রইলো। তার বন্ধু যে প্রেমে পরছে এতে সে অনেক খুশি হল। অপি পরমাকে বলল, নো টেনশন দোস্ত, আমি আছি না। অপির উপর পরমার আস্থা আছে। অপি অনেক গুছিয়ে কথা বলতে পারে।

এরপর কি হল কেউ জানেনা। হঠাৎ অপি একদিন পরমাকে বলল, দোস্ত কালকে নীল শাড়ি পরে মোহাম্মদপুর তাজমহলের সামনে থাকিস। পরমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অপি চলে গেল।

পরদিন যথাসময়ে পরমা তাজমহলের সামনে গেলো। সেখানে গিয়ে পরমা হতভম্ব হয়ে গেলো। পরমা দেখলো স্বয়ং মেঘ তার জন্য লাল গোলাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই দৃশ্য দেখে পরমা আবেগ ধরে রাখতে পারলোনা। তার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পরা শুরু হল।

এ কাহিনীর এরকম সুখের সমাপ্তি হলেও পারত। কিন্তু বিধাতা সবসময় মানুষকে সবকিছু দেয় না।

পরদিন পরমা কলেজে এসে যখন অপিকে খুঁজলো তখন তাদের আরেক বন্ধু নুসরাত পরমাকে একটি চিঠি দিল। চিঠিতে লেখা ছিলো:

"দোস্ত আমার একটা স্বপ্ন ছিলো। আমি সে স্বপ্নের পথেই হাঁটছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম আমার সবথেকে কাছের বন্ধু আমার স্বপ্নের দিকে হাত বাড়িয়েছে তখন নিজে ইচ্ছে করেই নিজের স্বপ্নটাকে বিসর্জন দিলাম। মন থেকে দোয়া করি, তোরা সুখী হ।

চিঠিটা পড়ে পরমা হু হু করে কেঁদে দিল। নুসরাত ভাবলো কাঁদুক মেয়েটা। কাঁদলে মানুষের মন হাল্কা হয়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×