somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাকর বানানোর রোডম্যাপ

২৯ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যদি বলি আজ বাংলার মানুষের সুখ নেই, শান্তি নেই তাহলে কি সেই কথাটা বলা খুব অপরাধ হয়ে যাবে ? অনেকেই বলতে পারেন আমরা তো সুখেই আছি, শান্তিতে আছি। তাহলে আপনাদেরকেই বলতে চাই, সুখে আছেন ঠিক আছে, কিন্তু শান্তিতে নেই। কারণ, আমার মতে নিজেকে নিয়ে ভালো থাকাটা হচ্ছে সুখ কিন্তু সকলকে নিয়ে ভালো থাকাটাই শান্তি। আমরা সকলে কি ভালো আছি?
না নেই। আমাদের হাজার হাজার বেকার যারা শিক্ষার বড় ডিগ্রি নিয়েও আজ কর্মহীন তারা ভালো নেই। আজ দেশে কর্মসংস্থান কম। তার উপর আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এক মরার উপর খরার ঘা হয়ে আছে। শুধু মুখস্থ করছি আর কিছুদিন পর ভুলে যাচ্ছি, শিখছিনা কিছুই। তাই তো আমাদের সৃজনশীলতার বড়ই অভাব। সৃজনশীলতা ছাড়া এই জাতি কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে তা আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না।
ব্রিটিশরা আমাদের শাসন করার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা এমন ভাবে সাজিয়েছিল যেন আমরা সারা জীবন চাকর হয়ে থাকতে পারি। সেই চাকর হওয়ার পথ এখনো খোলা আছে। উপনিবেশিক শাসনের মতো এখনো আমরা শোষণের শিকার হচ্ছি। আর চাকর বানানোর প্রক্রিয়াতো প্রতিনিয়তই চলছে। সেই প্রক্রিয়ার সাথে গা ভাসিয়েছে আমাদের অবুঝ অভিভাবকরাও। আজকে আমাদের এমন শিক্ষা দেওয়া হয় যা আমাদের প্রশ্ন করার কোন সুযোগ দেয় না। আমারা বকার মতো তা গিলে খেয়ে ফেলি। জায়গা মতো গিয়ে সেই গিলে ফেলা শিক্ষা আবার বমি করে আসি। কথা বলার মতো কোন মানুষ আমাদের পাশে নেই। যারা আছে তারা কোন এক অজানা কারণে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
এখন সবাই পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে ছুটে বেড়ায়। উদ্যোক্তা হওয়ার ভূত কারো মাথায় চাপে না, যদিও চাপে তা খুব কম এবং পরিবেশ তাকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করে।
এখন যে হিসেবে সাহিত্যিক, কবি, বিজ্ঞানী, দার্শনিক বের হওয়ার কথা সেই হারে কি বের হচ্ছে? কেন বের হচ্ছে না? কারণ আমাদের সমাজে টাকার দাম এই সবগুলোর চেয়ে মনে হয় সামান্য বেশি। তাই তো টাকা উপার্জন করাটাই মানুষের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, হোক তা বৈধ কিংবা অবৈধ উপায়ে।
আমাদের দেশের কতজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গবেষণা করেন? গবেষক শিক্ষকের সংখ্যা খুব কম। তাদের গবেষণা মুখী করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ কোথায়? তার চেয়ে বরং জাতির পরিচালকদের সময় কাটে সভা সমাবেশ করে। কিন্তু এই ভাবে আর কত দিন?
গ্রাজুয়েশন করে আজ হাজার হাজার যুবক বেকার জীবন কাটাচ্ছে। কিন্তু দুই একজন বাদে কাউকে নিজের উদ্যোগে উদ্ভাবনী কিছু করতে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের সরকার তাদের না দিতে পারছে প্রয়োজনীয় মূলধন, না দিতে পারছে প্রয়োজনীয় মানসিক সাহায্য। কেউ যদি নতুন কিছু করছে সেই জায়গায় চাঁদার জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কতিপয় দলীয় ক্যাডার যাদের মাথার উপর আশীর্বাদের হাত রাষ্ট্র পরিচালকদের। এভাবেই থেমে যাচ্ছে নতুনের নতুনত্ব।
তোমার পড়ালেখা শেষ এখন তুমি একটা ভালো চাকরির খোঁজ করো। এই শিক্ষা আমাদেরকে যুগ যুগ ধরে দিয়ে যাচ্ছে আমাদের মেরুদণ্ডহীন সমাজ ব্যবস্থা। যে ভালো চাকরি করে না সে নিঃসন্দেহে ভালো নয়। তার জীবন জাপন ভালো নয়। তার বউও সুন্দর হবে না। এই রোডম্যাপ আর কতদিন চলবে?
আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি বদলানো দরকার। এই চাকর বানানোর রোডম্যাপ বন্ধ করতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকেই নতুন ভাবে চিন্তা করতে হবে। অন্যথায় জাতি এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে পারবে না।
আমাদের মনভাব তৈরি করতে হবে যে “আমরা চাকরি নেব না দেব”।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:১৭
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×