ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিল এই সত্য আমরা কোনদিন অস্বীকার করতে পারব না। কিন্তু তাই বলে ভারতকে এক তরফা ছাড় দিয়ে চলার নীতি কার স্বার্থে কিসের স্বার্থে তা কারো বোধগম্য হচ্ছে না।
-মুক্তিযুদ্ধ শেষে ২৭০০ কোটি টাকার অস্ত্র-সরঞ্জাম লুট করেছিলো ভারতীয় সেনাবাহিনী,
( অমৃতবাজার দৈনিক-১২ মে ১৯৭৪)। তখন তারা ছিল আমাদের বন্ধু। কোন বন্ধু কি এটা করতে পারে? কিন্তু তারা ঠিকই করেছিলো।
-৭৪ সালের চুক্তি সত্বেও ভারত তিন বিঘা করিডোর হস্তান্তর করেনি বাংলাদেশকে। লালমনিরহাটের মানুষকে এখনো ভারতীয়দের করা নজরের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়।
-৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশকে পানির নায্য হিস্যা দেয়নি। পদ্মা শুকিয়ে গেছে। বছরে ২০০
কোটি টাকার ফসল উৎপাদন বন্ধ। তিস্তায় প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। অসময়ে দেশে বন্যা হচ্ছে। কেউ কিছুই বলছে না।
-প্রতিবাদের পরেও টিপাইমুখে বাধ দিচ্ছে। সিলেটের ১৬ জেলা মরুভূমি হয়ে যাবে। অথচ আমাদের নদী রক্ষা কমিশন চুপ করে হাত গুটিয়ে বসে আছে। সরকার কিছুই করতে দিচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতামত চাপা পড়ে আছে অজানা স্বার্থের কারণে।
-ফারাক্কা নিয়ে কি না করছে তারা! এবার তো ১০৪ টা গেটের মধ্য ১০২টাই খুলে দিয়েছিল। সেই কারণে বন্নায় পানি বন্দী ছিল কয়েক লাখ মানুষ।
-ট্রানজিট নিয়ে তো তামাশার শেষ নেই। টন প্রতি মাল যানে ১০০০-১৫০০ টাকার বদলে দেয় বাংলাদেশ পায় মাত্র ১৯২ টাকা। প্রবলেম কোথায় কেউ কি কিছু বলবেন?
-হিন্দি চ্যানেল, বাংলা চ্যানেল প্রচার করতে ৩০০০ থেকে ৪৫০০ কোটি
টাকা ভারতকে দেয়া হয় প্রতি বছর। কিন্তু বাংলাদেশী চ্যানেল
ভারতে নিষিদ্ধ।
-গত ৪৪ বছরে ৬১ হাজার নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে সীমান্তে হত্যা করেছে। প্রকৃত বন্ধু বলেই হয়তো
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। দিনের পর দিন আমরা শুধু শান্তি চুক্তি করে গেছি আর আমাদের দেশের মানুষ মারা গেছে অকাতরে।
-সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ, মাথার উপর দাদাগিরিসহ নানাভবে বাংলাদেশকে বুদ্ধি ধার করতে হচ্ছে ভারতের কাছে।
-ভারত থেকে আমাদের দেশে চিনি,চাউল,আটা-ময়দা,ইত্যাদি নিতে হয় আমাদের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও। দেশের চিনির কারখানা গুলো বন্দধ হয়ে যাচ্ছে তবুও ভারত থেকে চিনি আনতে হচ্ছে। কেন?
- রামপাল নিয়ে তো মজার খেলা শুরু হয়েছে। এখানে সবটুকু লাভ ভারতের। কিন্তু আমাদের সরকার ভারতকে খুশি করতে উঠেপড়ে লেগেছে। রামপাল আমাদের করতেই হবে।
দেশটা আমাদের তাই চিন্তা আমাদেরই করতে হবে। দেশটা বিশেষ কারো নয়। তাই আসুন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হই।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




