
"আমেরিকা অসুস্থ, এবং এই অসুস্থতা পুরো বিশ্বকে বিপদের মধ্যে ফেলেছে। আমেরিকার অপরিসীম শক্তি ও সম্পদের কথা বিবেচনা করলে, এই গভীর অসুখের চিকিৎসা আমেরিকার ভেতর থেকেই খুঁজে নিতে হবে", লিখেছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল। তিনি আরও লিখেছিলেন, "প্রথমে যা প্রয়োজন, তা হলো এমন এক শিক্ষা, যা ঘৃণাকে এড়িয়ে চলতে শেখায় এবং বোঝায় যে হিংস্রতার মধ্যে কোনো মহত্ত্ব নেই। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সাধন একটি বিশাল কাজ, যা আমেরিকার অধিকার আন্দোলনের কর্মীদেরই হাতে নিতে হবে। সেই সাহস তাদের আদৌ হবে কি না, জানি না। আশা করা যায়, হয়তো তা সম্ভব হবে।"
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক আক্রমণ চালিয়ে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করেছে। মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বোমা হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী নৃশংসতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, নৌবাহিনী ও সামরিক বাহিনী ক্যারিবীয় সামুদ্রিক অঞ্চলে মোতায়েন করেছে, এবং ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে "মাদকপথ" ও "সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান" বলে উল্লেখ করলেও, এটা আদতে তাদের পুরোনো ও শয়তানিপূর্ণ অজুহাত। অতীতেও বহুবার তারা সামরিক হামলা ও শাসন পরিবর্তনের জন্য "মাদকবিরোধী" বা "সন্ত্রাসবিরোধী" অজুহাত ব্যবহার করেছে।
১৯৮৯ সালে পানামায় সরকার অপসারণের সময় একইভাবে মাদকবিরোধী যুদ্ধ-এর অজুহাত দেওয়া হয়েছিল। ১৯৮৩ সালে গ্রেনাডায় সামরিক হামলার পেছনে দেখানো হয়েছিল, আমেরিকান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অজুহাত। ইরাক আগ্রাসনের অজুহাত ছিল সেখানে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, যা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট। মাদুরোর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে অপসারণ, দেশের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী অলিগার্কিক শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখল করা।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা কার্যত একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ, এর ফলে ভেনেজুয়েলায় ইতোমধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সীমাহীন ঘাটতি ও চরম মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। একই ধরনের অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিণতি আমরা বর্তমানে ইরানেও দেখতে পাচ্ছি, যার পেছনেও একই শক্তি সক্রিয়।
ভেনেজুয়েলার জনগণের পূর্ণ অধিকার আছে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের উন্নয়নের পথ নির্ধারণ করার। এই অধিকার জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সে দেশের জনগণ, বাইরের কোনো শক্তি নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



