somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্কেচ 89 : দি ম্যান উইথ দ্য মিরর

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

1989 সালের আগস্ট মাসের 5 তারিখ শনিবার দুপুর বেলায় আমি নিউ মার্কেট থিকা একটা ড্রয়িং খাতা কিনছিলাম। গবেষকদের মতন যে তারিখ কইতে পারলাম সেইটা নজিব তারেকের কৃপা। আমি ড্রয়িং খাতা লইয়া হাইটা যাইতে ছিলাম শাহবাগে। জাদুঘরের সামনে আর্ট কলেজের তৎকালীন ছাত্র নজিব তারেক-এর লগে দেখা হইল। উনি আমার খাতা নিয়া প্রথম পাতায় একটা ছবি আইঁকা দিলেন ঝট কইরা। বিরক্ত হইছিলাম। পরে বুঝছি আর্ট করতে পারেন যারা তাদের অনেকেরই এইটা একটা কর্তব্যবোধ। তো ওইদিন আমি টব আর কাপ লইয়া দুই পৃষ্ঠা ঘ্যাচঘুচ করলাম। ছবি আঁকন যে কঠিন কাম বুঝতে পাইরা অফ মাইরা গেছিলাম। পরের দিন এই ছবিটা আঁকি। ছবির নাম দিছিলাম 'দি ম্যান উইথ দ্য মিরর'। সু্যররিয়ালিজম ঘরানার ছবি। সু্যররিয়ালিজমরে তখন ঢং কইরা কইতাম সাররিয়ালিজম। এই ঘরানা আর্ট কলেজের বিদ্যার্থী এবং বিদ্যাদাতারা বিশেষ ভালো চোখে দেখেন না বইলা আমি তখন টের পাইছি। তৎপরে বয়সে বড় আর্টিস্টরা কইছে রাইসু, এগুলি পাশ্চাত্যের অনুকরণ। মাটি কই? ওনাগো কথা শুইনা পরে মাটি-পানি এগুলিও আঁকছি ছবির মইধ্যে। আমার জীবন যাপন যেহেতু পাশ্চাত্যের অনুকরণে আমি সেই নিয়া বিব্রত হই নাই। যারা মাটি নিয়া ছবি আঁকছেন, দেখছি একবার ভারতের শান্তিনিকেতনের মাটি নিয়া আঁকছেন, জাপান-জামর্ানি ঘুইরা আইসা ওই অঞ্চলের মাটি নিয়া আঁকছেন।

আর্ট কলেজে টিকতে না পারলে কী হইব ওই সময়ে অভিজিৎ, জুয়েল, টগর (পরের দুইজন এহন আর্ট কলেজের মাস্টার) এগো লগে দেখা করতে যাইতাম। 86 সালে নির্বাচনের সময় আমগো বাড্ডায় অনেক মারামারি হইতে ছিল। আমি সেই সময় কিছুদিনের জন্য আর্ট কলেজের শাহনেওয়াজ হলে জুয়েলের কৃপায় থাকি। ওইখানে ওর লগে কার্ড আঁকতাম। আমার হাতের লেখা সোন্দর আছিল বইলা ওই কার্ডের লগে আবার কবিতার লাইনও জুইড়া দিতাম। কার কার লাইন মনে নাই। আবুল হাসান বা হেলাল হাফিজের লাইন হওনের সম্ভাবনা বেশি। তো ওই কার্ড বেঁচতাম বইমেলায়। তারপরে ওই টাকা দিয়া ভাত খাইতাম। একদিন জুয়েল টাইম মতন ভাত খাওনের টেকা না দেওয়ায় পরে কার্ড বেঁচনের শৌখিন ব্যবসা বন্ধ কইরা দেই।

বইমেলায় এর আগে আমি যাই নাই। আমি যেইখানে কার্ড বেঁচতাম তার পাশেই ছিলো এক ফিলোসফারের স্টল। প্রেক্ষিত বইলা একটা ছোট কাগজ বেঁচতেন উনি। নাম মফিজুল হক। ওনার লগে আলাপ সালাপ করতাম। মেলা চক্কর দিতে গিয়া পরিচয় হইল কবি জাহিদ হায়দারের লগে। উনি কবিতাম বই বেঁচতেছিলেন একটা টেবিল লইয়া। কইলেন শিল্প হইল একটা মাস্টারবেশন। ওই বয়সে এই রকম শুনতে বেশ আনন্দ লাগছে। শিল্পচর্চার আনন্দ পরে ম্রিয়মাণ হইয়া গেছে। ওই বছরই ফরিদা হাফিজ এবং আদিত্য কবির-এর লগে পরিচয় হয়। পরে সেইসব পরিচয় কালের অতল গহবরে দুই বছরের লাইগা হারাইয়াও যায়। শেষে আমি যখন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মৌলিক উৎকর্ষ কার্যক্রম বইলা এক বিদ্যাসভায় যোগ দেই তখন সবার লগে সহি ভাবে পরিচয় হয়। আমি সাহিত্য ও শিল্পকলারে এর তৎকালীন মাতব্বরদের নিয়ন্ত্রণের জায়গা থিকা দেখতে অভ্যস্ত হই।

যাই হউক, আমি কথা কইতেছিলাম সু্যররিয়ালিজম লইয়া। সু্যররিয়ালিজম লইয়া সকলেই হাসে। কিন্তু সু্যররিয়ালিজম নামের আন্দোলনটি আর্টের যেই ঘরানাটারে দখল কইরা ভাবসম্প্রসারণ করছে সেই জিনিস সেই ভঙ্গি বহুকাল আগে থিকাই আছে। আপনেরা হিয়েরোনিমাস বস্্চ্-এর (1450-1516) ছবি দেখতে পারেন। আমার পছন্দের লিংক-এর মধ্যে আর্টকাইভে গিয়া (বি ও এস সি এইচ) নাম-এ খোঁজ করলে ওনার ছবি পাইবেন। মনে হইতে পারে সু্যররিয়ালিস্ট ছবি। কিন্তু উনি অনেক আগেই আঁকছেন, এবং সেইটারে কোনো আন্দোলনে যুক্ত করেন নাই।

ছবি আঁকতে গেলে ইমেজের সমাজ সম্মত বা রীতি সম্মত ধারণায় ব্যাতিচার ঘটে, সেই জিনিসরে সু্যররিয়ালিজম বইলা নির্দেশ করা সহজ। হয়তো এই দোষে আমার ছবি দুষ্ট। হউক গা!

পান্থপথ, ঢাকা 10/2/06
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুরস্ক-কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও কাদের মোল্লাদের প্রেতাত্মার পুনরুত্থান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩১


বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বাংলাদেশ থেকে জামাতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে কাজ করতে হবে"। "নির্মূল" শব্দটি সম্পূর্ণভাবে দূর করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন, কলেরা বা ম্যালেরিয়া নির্মূল করা, কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানির ক্যানভাসে ডুবন্ত শহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



প্রতিবেদক: আশরাফুল ইসলাম
স্থান: প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম
সময়: সকাল ১০টা ৩০ মিনিট


ক্যামেরার লাল বাতিটা জ্বলছে। লেন্সের ওপর বৃষ্টির ছোট ছোট কণাগুলো অবাধ্য হয়ে জমছে। আমি মাইক্রোফোনটা শক্ত করে ধরে লেন্সের দিকে তাকালাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলামি চুক্তির কারণে বোয়িং কিনতে বাধ্য হলো সরকার?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৭


বাসই চলে না , কিন্তু আকাশে ওড়ার বিলাসিতা থেমে নেই। কালের কণ্ঠের এই শিরোনামটা পড়ে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। কথাটায় একটা তিক্ততা আছে, একটা ক্ষোভ আছে, যেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×