somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছবির বিবরণ >> সহি বড় লবণহাঁটা

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সহি বড় লবণহাঁটা
1858 সালে ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারছিলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তো ভারতে খুব অত্যাচার করতেছে! অত্যাচারীর দায়িত্ব লাঘব করতে মহারাণীর মহাশাসন শুরু হইলো ভারতবর্ষে। 1930-এ আইসা রাণী গরীবের প্রধান খাদ্য লবণের উপরে ট্যাক্স বসাইয়া দিলেন। ভূভারতে গরীবের সংখ্যা আগেও বেশিই আছিল--আর লবণ এমনই খাইদ্য, তুমি যতো কাঙ্গালের কাঙ্গাল হও না কেন লবণ তোমাকে খাইতেই হবে। অতএব সদাশয় সরকার আইন কইরা লবণের নেটিভ উৎপাদন বন্ধ কইরা দিলেন। অহিংস বিপ্লবী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (1869-1948) কইলেন, 'ঘিয়ের উপরে, মদের উপরে, তামাকের উপরে ট্যাক্স বসাইলে আপত্তি আছিল না--অবস্থা এমন দাঁড়াইছে বাতাসের উপরে যে ট্যাক্স বসায় নাই সেইটাই আমাদের ভাগ্য। কিন্তু আমরা ট্যাক্স দিব না।' ব্রিটিশরে চ্যালেঞ্জ করলেন গান্ধী, 'পারলে আমারে কয়েদ করো।' এইসব অহিংস হুংকারের পরে গান্ধী লং মার্চের ঘোষণা দিলেন। ঠিক হইলো গুজরাটের আহমেদাবাদ থিকা ডাণ্ডির সমুদ্র পর্যন্ত 241 কিমি রাস্তা তারা পায়ে হাঁইটা পার হইবেন। গান্ধীর সঙ্গে যোগ দিল 79 বিপ্লবী। 24 দিন হাঁইটা তারা সমুদ্রে পৌঁছলেন। ইতিহাসে এই ঘটনার ইংরাজি নাম দি গ্রেট সল্ট মার্চ। ক্যামবে উপকূলে আইসা সমুদ্রের পানি জ্বাল দিয়া লবণ উৎপাদন শুরু করলেন গান্ধী আর তার অনুসারীরা। ছবিতে সত্যাগ্রহ ঘোষণার ঠিক আগে দিয়া বাপুজি আরব সাগরের নুন-পানিতে গোসল সারতেছেন। এরপর এক খাবলা দরিয়ার নুনের সঙ্গে ডাঙার মাটি মিশাইয়া ডাক দিলেন লবণ সত্যাগ্রহের। সারা ভারতে ছড়াইয়া পড়লো নুনের আন্দোলন। নুনাবতার ব্রিটিশ রাজ এতসব সহ্য করবেন তা হইতে পারে না। তিনি মে মাসের 5 তারিখে গান্ধীকে গ্রেপ্তার করলেন।

পরে আন্দোলনের ঘনঘটায় আপসহীন ব্রিটিশ রাজ পর সালের 26 জানুয়ারি ছাইড়া দিলেন গান্ধীরে। 4 মার্চ গান্ধীর সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হইলেন ব্রিটিশ সরকার--ঠিক হইলো লন্ডনে গোল টেবিল হবে। সেইখানে প্রজাদের দুঃখের কারণ নিয়া শান্তিমতো অনেক আলোচনা করা যাইবে!

প্রথম আলো 2001 বা 2002
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:৩৩
২৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খরচ

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৯


কোন কোন রাত্রি শেষের বেগুনী আলোয়
বাতাস যখন রতিতৃপ্ত দৃষ্টির মত কোমল-
উন্মোচনের আগ্রহে উদগ্রীব আলো
কী এক দ্বিধায় থমকে আছে পুবের দরজায়,
হঠাৎ যেন কেউ মাছের মত
ছেকে তোলে জালে।
লাগায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদের বায়না : ৩০ সেট গয়না

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৪

একসময় এই প্রবাদটি খুব প্রচলিত ছিল, এমনকি পণ্ডিত মহলেও এটি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হতো।
সময় বদলে গেছে; যমুনা নদী দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়ে সাগরে মিশেছে।



বাস্তবতার নিরিখে আমাদের সমাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×