somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আঙ্কেল টম'স কেবিন

১৭ ই মে, ২০১৪ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রত্যেক উপন্যাস আসলে সত্তাময়। উপন্যাস সৃষ্টি মানে একটা সত্ত্বা সৃষ্টি করা। সেই সত্তাটি হবে স্বতন্ত্র। নতুন এক জীবনের আজ্ঞাবহ। জ্ঞানই হল উপন্যাসের একমাত্র নৈতিকতা। এ জ্ঞান মর্ত্যের জ্ঞান নয় মোটেও, এ জ্ঞান হল মানুষের মননের জ্ঞান। একজন লেখক- শুধুমাত্র একজন লেখকই নন, সামাজিক পরিবর্তনের সে একজন বিশেষ প্রতিনিধি। আমাদের শিক্ষকেরা প্রায়ই বলে থাকেন, অমুক জাতিকে জানতে হলে অমুক উপন্যাসটি পড়ো। একটি পার্টিকুলার উপন্যাস কখনই একটি জাতির সার্বিক চিত্র উঠিয়ে আনতে পারে না। লেখালেখিটা একজন লেখকের কাছে বিশ্বাসের মতো। লিখতে লিখতে একজন লেখক তার ‘সত্য’কে আবিষ্কার করেন। পড়তে পড়তে একজন পাঠকও তাই করেন।

রবীন্দ্রনাথ যদি ভাষা দিয়ে থাকেন, মাইকেল মধুসূদন দিয়েছেন ঢং বা কাঠামো। তারাশঙ্কর ও মানিক দিয়েছেন বিষয়বস্তু। বিভূতিভূষণ আমাদের বোধকে আরও গভীর করেছেন। ব্যক্তিকে চিনিয়েছেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, শহীদুল জহির, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও শওকত আলী আমাদেরকে ইতিহাসে ফিরিয়েছেন। হাসান আজিজুল হক গভীর থেকে আমাদের জীবনের প্রতিটা বাঁককে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। সেলিনা হোসেন আপন অনুভূতি দিয়ে আমাদের নারী সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে এনেছেন এবং হুমায়ূন আহমেদ আমাদের দিয়েছেন- এক আকাশ স্বচ্ছ আনন্দ।

আঙ্কেল টম'স কেবিন উপন্যাসটিতে 'আঙ্কেল টম' নামক এক কষ্টসহিষ্ণু নিগ্রো ক্রীতদাসের কথা বলা হয়েছে। যিনি ছিলেন অত্যান্ত দয়ালু এবং কর্তব্যনিষ্ঠ এক ব্যাক্তি যিনি তার সাদা মালিকের খুব বিশ্বস্তও ছিলেন। আঙ্কেল টমকে বিক্রি করে দেয়া হয় ক্রীতদাস ব্যাবসায়িদের কাছে। মিসিসিপির স্রোত বেয়ে বহু দূরে নিয়ে যাওয়া হয় আঙ্কেল টমকে। সেখানে St. Clare নামক এক ব্যাক্তি তাকে কিনে নেন। তার ছোট্ট মেয়ে ইভার সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায় আঙ্কেল টমের। ...আঙ্কেল টম ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন, এই জিনিসটা Simon কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। এজন্য সে তাকে প্রচণ্ডরকম মারধর করতো, সাথে অন্যদেরকেও। অন্যান্য ক্রীতদাসদেরকে মারের হাত থেকে বাঁচাতে আঙ্কেল টম, বাইবেল পড়া বন্ধ করে দেন।

শেষ পর্যন্ত টমকে হত্যা করে সাইমন। কিন্তু মৃত্যুর সময় টম তাকে বলেঃ তোমাকে ধন্যবাদ লেগ্রি তুমি আমাকে স্বর্গের দুয়ার খুলে দিয়েছ। টমের সহ্য ক্ষমতা সাইমনকে পরাজয়ের গ্লানি উপহার দেয়। একেই বোধয় বলেছিলেন কার্ল মার্কস যে, ধর্ম ছিল আফিমের মত শোষিত মানুষের কাছে।

১৩ ভাইবোনের মধ্যে সপ্তম ছিলেন হ্যারিয়েট। মাত্র ৫ বছর বয়সে মাকে হারানো স্টাউই ভাষা এবং গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২১ বছর বয়সে তিনি ওহাইওয়ের সিনসিনাটিতে যান নিজের বাবাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য, যিনি সেখানকার 'লেন থিওলজিক্যাল সেমিনারি'-এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।হ্যারিয়েট বিচার স্টাউই। ১৮১১ সালের ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের লিচফিল্ডে জন্ম নেওয়া এ সুলেখিকা নিজের লেখনী আর উপস্থিত গুণে ছিলেন সবার থেকে আলাদা। হ্যারিয়েট এবং তার স্বামী দুজনই ছিলেন সে সময়কার সমাজে চলে আসা দাস প্রথার কট্টরবিরোধী। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তারা অনেক দাসকে মুক্ত করে আশ্রয় দিয়েছিলেন নিজেদের বাড়িতে। সমগ্র জীবনে ২০টিরও বেশি বই লেখেন হ্যারিয়েট। আংকেল টমস কেবিন ছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হল_ 'আ কী টু আংকেল টমস কেবিন', 'মার্ক মেরিডেন', 'ড্রেড, আ টেল অব দ্য গ্রেট ডিসমাল সোয়াম্প', 'দ্য মিনিসটারস উইং', 'ওল্ড টাউন ফোকস' প্রভৃতি। মহান এ লেখিকা ১৮৯৬ সালের ১ জুলাই পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নেন।

বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫২ সালে। প্রথম বছর বইটির ৩০০,০০০ কপি যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হয় এবং এক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয় গ্রেট ব্রিটেনে। ১৮৫৫ সালে তিন বছর পর উপন্যাসটি আবার প্রকাশিত হবার পর এটাকে "সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস" ঘোষণা করা হয়েছিলো। উপন্যাসটি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে অনেক নাটক, সিনেমা। আফ্রো-আমেরিকান সমাজে সে সময় চলতে থাকা জঘন্য দাস প্রথার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে এ উপন্যাসে। ‘হ্যারিয়েট’ এই সংবেদনশীল উপন্যাসটির মাধ্যমে ক্রীতদাস প্রথার বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরেছেন এবং বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের প্রতি মানুষের প্রকৃত ভালবাসায় রয়েছে এমন এক শক্তি যা, দাসত্বের মতো ধ্বংসাত্মক যেকোনো শক্তিকে পরাস্ত করতে পারে।

বর্ণ বৈষম্য, দাসপ্রথা নিয়ে পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত লেখকরাই লিখেছে। টনি মরিসন , আলেক্স হ্যালী, নাদিন গর্দিমার, ইত্যাদি। ধর্মযাজক পিতার কন্যা হ্যারিয়েট কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ধর্মে অবিচল আস্থা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে নির্যাতিত কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে। নির্যাতিত মানুষের এমন মানবিক চিত্র বিশ্বসাহিত্যে খুবই বিরল।


২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×