১। ইংরেজ আমলে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মধুপুর থেকে ট্রেনে একবার কলকাতায় ফিরছিলেন। প্রথম শ্রেণীর কামরায় উঠে তিনি দেখলেন একজন ইংরেজ সাহেব বসে আছেন।সাহেব তাঁর কামরায় একজন নেটিভের উপস্হিতি কিছুতেই পছন্দ করলেন না। স্যার আশুতোষ তা গ্রাহ্য না করে নিজের বার্থে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুম ভাঙার পর দেখলেন তাঁর জুতো জোড়া নেই। ব্যাপারটি বুঝতে তাঁর দেরি হলো না। সাহেব কে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে হুক থেকে তার কোটটি খুলে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিলেন। ঘুম থেকে উঠে সাহেব কোট দেখতে না পেয়ে ক্রুদ্ধভাবে জিজ্ঞেস করলেন, “আমার কোট কোথায়?” স্যার আশুতোষ গম্ভীর ভাবে বললেন, “তার আগে বলুন আমার জুতো জোড়া কোথায়? ”সাহেব বললেন,তোমার জুতো জোড়া বাইরে হাওয়া খেতে গেছে। আশুতোষও সঙ্গে সঙ্গে বললেন, “আর তোমার কোট আমার জুতো জোড়া খুঁজে আনতে গেছে”।সাহেব জবাব পেয়ে একেবারে চিমসে গেলেন।
২। এক দ্বাদশবর্ষীয় বালক অসাধারণ অভিনয় করল। অভিনয় দেখে আর্থার কোনান ডয়েল মুগ্ধ। ছেলেটিকে কাছে ডেকে বললেন, তুমি লেগে থাকো। তোমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। বালকটি বলল, স্যার, আমি খুব গরিব। আপনার এক বছরের উপার্জন যদি এখন আমায় দেন, তাহলে আমার আগামী পাঁচ বছরের উপার্জন আপনাকে দিতে রাজি আছি। কোনান ডয়েল মুখে বিরক্তি প্রকাশ করলেন। ছেলেটি পরে আমেরিকায় গেল। এক বছর পর তার উপার্জন কোনান ডয়েলের উপার্জনকে ছাড়িয়ে গেল। ছেলেটি চার্লি চ্যাপলিন।
৩। দার্শনিকদের কাজ-কারবারই ছিল অন্য রকম। উল্টোভাবে বলা যায়, এ রকম কাজ-কারবার করতেন বলেই তারা দার্শনিক ছিলেন। বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটো একবার মানুষের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘মানুষ হচ্ছে পালকবিহীন দ্বিপদ একটি প্রাণী।’ এই সংজ্ঞা শুনতে পেয়ে আরেক দার্শনিক ডায়োজেনিস একটি মুরগি জবাই করে সবগুলো পালক ফেলে দিয়ে প্লেটোকে পাঠিয়ে দিলেন। সঙ্গে একটি কাগজে লিখলেন, ‘এটাই তোমার সংজ্ঞায়িত মানুষ।’
৪। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন গেছেন ময়মনসিংহে তাঁর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে। গ্রামের এক মুরব্বি দেখা করতে এসে জয়নুলকে বললেন, “কিরে তুই নাকি বড় শিল্পী হইছস? দে তো আমার ছাতিটায় নাম লেইখ্যা?” জয়নুল আবেদীন খুব যত্ন করে এবং সময় নিয়ে ছাতায় নাম লিখে দিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনা রাষ্ট্র হয়ে গেল গ্রামময়। ব্যস,আর যায় কোথায়,গ্রামের প্রায় সবাই যার যার ছাতা নিয়ে হাজির। আর শিল্পাচার্য কি করবেন,অসীম ধৈর্যের সাথে প্রায় সবার ছাতাতেই নাম লিখে দিয়েছিলেন সেবার।
৫। সুন্দরী অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর একটি ছোকরা চীনা ভৃত্য ছিল।
মিস মনরো তাকে বললেন: যখন ঘরে ঢুকবে তখন আগে সাড়া দেবে। কারণ আমি সে সময় তো জামা-কাপড় বদলাতেও পারি।
কিছুক্ষণ বাদে ঐ ছেলেটি দরজায় টোকা না দিয়েই মিস মনরোর শয়নকক্ষে ঢুকে পড়ল।
মিস মনরো: একটু আগে তোমাকে বললাম না দরজায় টোকা দিয়ে তবে ঘরে ঢুকবে। তুমি কী করে জানলে আমি জামা ছাড়ছি না ?
ভৃত্য: ম্যাডাম, এটা খুবই সহজ ব্যাপার। দরজাতে চাবির যে ফুটো আছে সেটা দিয়ে দেখে নিয়েছি আপনি কী করছেন।
৬। নেপোলিয়ান নিজের দাঁড়ি নিজেই কামাতেন। অন্য কারো হাতে দাঁড়ি কাটাতে তিনি ভয় পেতেন। তিনি বলতেন,অপরের হাতে অমন ধারালো অস্ত্রটির সামনে নিশ্চিত গাল-গলা এগিয়ে দেবো তেমন বোকা আমি নই| ”দাঁড়ি নিজে কামালেও তার সাহায্যকারী লোক লাগতো বেশ কয়েকজন। একজন সামনে ধরে রাখতো আয়না। আর একজন ধরতো পানির পাত্র। তিনি সারা ঘর হেঁটে হেঁটে দাড়ি কামাতেন। দাড়ি কামানোর ব্যাপারে সাবধান থাকলেও খাবার ব্যাপারে কিন্তু এত সাবধান থাকতে পারতেন না নেপোলিয়ান। খেতে বসলে জামা কাপড়ে তরকারীর ঝোল মেখে একাকার করতেন,ছুরি-কাটা সামলাতে পারতেন না। কাপ-ডিশ,গ্লাস অনবরত ভেঙ্গে ফেলতেন। অনেক সময় ছুরি কাটা ফেলে হাত দিয়েই খাওয়া শুরু করতেন। তাঁর প্রিয় খাবার ছিলো মুরগীর রোস্ট। আর তা গরম হওয়া চাই। কিন্তু তিনি কখন খাবেন তা নির্দিষ্ট না থাকায় পাচকেরা প্রতি ১৫ মিনিট পর পর একটি করে মুরগী রোস্ট করত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




