somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ফোটোগ্রাফী-১৬

০৩ রা জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাই-ই ভালো ছবি তুলতে চান। দুর্দান্ত সব ছবি তুলে সবাইকে অবাক করে দিতে চান। মুগ্ধ করে দিতে চান। কিন্তু হয় না। আপনি মনে মনে- নিজের উপর রাগ করেন। কেন পারছি না! ফেসবুকে অনেককে দেখেন দারুন দারুন ছবি পোষ্ট করতে আর সেইসব ছবিতে অনেক কমেন্ট আর লাইক। ...হতাশ হবেন না। আমি আছি, কি করতে হবে- তা আমি বলে দিচ্ছি। আমার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। আমার কথা মন দিয়ে শুনুন। যদিও আমি পাচ বছর ধরে ফোটোগ্রাফী করছি কিন্তু আজও তেমন একটা ভালো ছবি তুলতে পারিনি গর্ব করার মতন। তবে আমি আশাবাদী মানুষ।

ফেসবুকে অনেক গ্রুপ আর পেজ মাঝে মাঝে বলে টাকার বিনিময়ে ফোটোগ্রাফী নিয়ে অমুক ক্লাশ, অমুক ফোটোওয়াক করার আহবান জানায়। এগুলো করে খুব একটা উপকার পাওয়া যায় না। শুধু শুধু টাকা টাই নষ্ট। আর একটা বাস্তব সত্য কথা বলি- অনেক ফোটোগ্রাফী গ্রুপ বা পেজ এক্সজিবেশন করে। ধরুন, আপনার তোলা দুই চারটা খুব ভালো ছবি আছে- আপনার দুই একটা ছবি এক্সজিবিশনে গেল ( অবশ্যই একটা বিশেষ কারণ আছে)। এক্সজিবিশনের জন্য কখনও তাড়াহুড়া করবেন না। আগে বেশ কিছু ভালো ছবি জমান। আপনার তোলা ভালো ছবি গুলো আপনার আত্মবিশ্বাস হাজার গুন বাড়িয়ে দিবে। খুব চেষ্টা করবেন ছবিতে- ফোটোশপ না করতে। খারাপ ছবি গুলো এডিট করে সুন্দর করার চেষ্টা করা আমার পছন্দ নয়। ছবি এডিট করবে পত্রিকাওয়ালারা।

গুছিয়ে লিখতে আমি পারি না। এটা আমার ব্যর্থতা। দয়া করে আপনারা আমার লেখাটা এবং আমার অপূর্ণা গুলো আপনারা আপনাদের গুন দিয়ে বুঝে নিবেন। যাই হোক, হাজার হাজার ছবি তোলেন, ফেসবুকে দেন- এতে কোনো লাভ নাই। ফেসবুকে ছবি দিলে, লাইক আর কমেন্ট পেলে- পেটের ক্ষুধা কমে যাবে না। কিভাবে ছবি তুলে টাকা আয় করবেন সেই চিন্তা করুন। টাকা পেলে জন্মদিন, বিয়ে, সেমিনার সব অনুষ্ঠানের ছবি তুলে দিবেন। টাকা না দিলে কারো একটা ছবি তুলে দিবেন না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে কঠোর হতে হবে। এই কঠোরতাই আপনাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে একদিন। অন্যের কাছে সস্তা হবেন না। অন্যের মিষ্টি কথায় ভুলবেন না। মুরুব্বিরা বলেছেন- দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথা। কোনো পত্রিকাতে ফোটোগ্রাফীর কাজ করে বলেই তাকে তেল দিতে যাবেন না। তেল দিয়ে আপনি লাভবান হবেন না। উপরে উপরে তারা হাসি মুখে কথা বলবে আপনার সাথে কিন্তু তাদের ভেতরের মুখোশটা দেখলে আপনি বমি করে দিবেন।

তথাকথিত বড় ভাইদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। পাকনা বড় ভাই গুলো আপনার মাথা আরও গুলিয়ে দিবে। ফোটোগ্রাফী নিয়ে অনেক মানূষের সাথে কথা বলবেন- একজন এক-এক রকম কথা বলবে, এক-এক রকম করে ব্যাখ্যা করবে। তারা খুব সচেতনভাবে আপনার মাথা গুলিয়ে দিবে। শুধু একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখবেন- বই পড়ে কখনও কেউ সাতার শিখতে পারে না। ঠিক তেমনি আপনি বই পড়ে ফোটোগ্রাফী নিয়ে কিছু শিখতে পারবেন না। তবে প্রাথমিক একটা ধারনা পেতে পারেন। কাজেই প্রতিদিন কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন, প্রচুর ছবি তুলুন। ছবি গুলো কম্পিউটারে নামিয়ে মন দিয়ে দেখুন। দোষ ত্রুটি গুলো খুজে বের করুন। ফোটোগ্রাফী বিষয় নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে, কোনো বড় ভাইয়ের কাছে না গিয়ে- নেটে বসুন। এ ব্যাপারে নেট আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু।

মনে তীব্র বিশ্বাস রাখুন- আমি ভালো ছবি তুলবো। সময় যতই লাগুক। কবি বলেছে- দেরী হোক/ যায়নি সময়। প্রতিদিন ফ্লিকারে প্রচুর ছবি দেখুন। খুব মন দিয়ে দেখুন। ফ্রেমিং লক্ষ্য করুন। কম্পোজিশন লক্ষ্য করুন। ছবিতে আলোর ব্যবহার লক্ষ্য করুন। নতুন নতুন ছবি তোলার বিষয় খুজে বের করুন। কবি বলেছেন, যেখানে দেখিবে ছাই/উড়াইয়া দেখ তাই পাইলেও পাইতে পারো... । পথে ঘাটে, ঘরে বাইরে ছবি তোলার বিষয়ের অভাব নেই। কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি বা সিলেট যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। একজন ফোটোগ্রাফারের চোখ হবে চিলের মতন, মিসির আলীর মতন। রাতে ঘুমানোর আগে মনে মনে ভাবুন- আমাকে সুন্দর করে ছবি তুলতে হবে। এমন সব সুন্দর ছবি তুলবো- যে ছবি গুলো আমাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। নেট থেকে আপনি বিখ্যাত ফোটোগ্রাফাদের জীবনী পড়ুন। তাদের তোলা ভালো ছবি গুলোর রহস্য জানুন।

সারটার স্পীড, এপেচার, আইএসও, ফোকাস এবং আলো সম্পর্কে আপনার স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন রকম সারটার স্পীড, এপেচার, আইএসও দিয়ে প্রচুর ছবি তুলুন। তাহলে আপনি ধারনা পেয়ে যাবেন দিনের কোন সময়ে কোন ছবি- সারটার স্পীড, এপেচার, আইএসও এবং কত দিতে হবে। তাছাড়া প্রচুর ছবি তুলতে-তুলতে ফ্রেমিং আমার হাতে চলে আসবে। তখন কোনো ছবির সাবজেক্ট পেলেই- আপনি অটোমেটিক বুঝতে পারবেন- ছবিটা কিভাবে তুলতে হবে। কাজেই আমি মনে করি, ভালো ছবি তোলার প্রথম শর্ত হলো- প্রচুর ছবি তোলা এবং প্রচুর ভালো ভালো ছবি দেখা। বাদ দেন বড় ভাই ধরা। তাদের পেছন-পেছন ঘুরে কোনো লাভ নাই। টাকা দিয়ে ক্লাশ করেও, ফোটোওয়াক করেও কোনো লাভ নাই। কেউ কাউকে মুখে বলে বলে ভালো ছবি তোলাতে পারে না। কথায় বলে, আপনার ঢোল আপনাকেই বাজাতে হবে।

ছবি তোলার সময় মাথায় নানান চিন্তা, অশান্তি এবং ক্ষুধা থাকলে ভালো ছবি তোলা সম্ভব নয়। এমনি কি মন মেজাজ বিক্ষিপ্ত থাকলে ভালো ছবি তোলা সম্ভব নয়। হাসি খুশি মন নিয়ে ছবি তুলতে হবে। তাহলেই ভালো ছবি পাওয়া যাবে। একজন ফোটোগ্রাফারকে সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তাকে হতে হবে কোমল এবং সাহসী। বিশেষ করে মুখে থাকতে হবে সব সময় হাসি। কুটিলতায় ভরা মানুষ ভালো ছবি তুলতে পারে না। ভালো ছবি তোলার জন্য সর্বোপরি আপনাকে সহজ সরল ভালো মানুষ হতে হবে। একজন ভালো মানুষই পারে ভালো ছবি তুলতে। কথায় বলে, যে খাবার দেখতে সুন্দর, সে খাবার খেতেও মজা। পৃথিবীর বিখ্যাত ফোটোগ্রাফাররা কখনও ফোটোগ্রাফী নিয়ে কোনো ক্লাশ করেন নি। কোনো সমস্যায় পড়ে বড় ভাইদের কাছে যান নি। তারা নিজের বুদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং সরলতা দিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন।

( চলবে... )
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×