somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

চরিত্রহীন

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সহজ সরল সত্য হলো আমি চরিত্রহীন। কেউ জানে না, কেউ টের পায় না। সবাই আমাকে ভালো ছেলে বলিয়া জানে। স্নেহ করে। ফালতু কথা না বলে আসল কথায় আসি। সেদিন বাসে করে যাচ্ছিলাম কক্সবাজার। আমার ভাগ্যটা অনেক ভালো, আমার পাশে বসে ছিল সুন্দর এক নারী। রাতের অন্ধকার কেটে শাঁ-সাঁ করে বাস চলছে। আমাদের বাস কাচপুর ব্রীজ পার হতেই-মেয়েটি আমার দিকে আর আমি মেয়েটির দিকে তাকাই। অস্থির সুন্দর মেয়ে! মুখটা যে কি সুন্দর! ইচ্ছা করলো মেয়েটাকে বুকের মধ্যে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি। মনে মনে ভাবলাম এই মেয়েটির সাথে অবশ্যই কিছু আনন্দময় সময় পার করতে হবেই।

মেয়েটি আমার মুখের দিকে তাকাতেই আমি বললাম, কোথায় যাচ্ছেন? একা কেন? বিয়ে করেছেন? থাকেন কোথায়? কি করেন? আপনি দেখতে এত সুন্দর কেন? আমার কথা শুনে মেয়েটি হেসে ফেলল। কি যে সুন্দর মেয়েটির হাসি! একদম বুকে এসে ধাক্কা লাগে। মনে হলো যেন একটা জীবন এই হাসি দেখে পার করে দিতে পারব। এরপর মেয়েটির সাথে আলাপ জমাতে আমার আর বেগ পেতে হয়নি। জানতে পারলাম, মেয়েটি কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছে। তার নাকি একা একা ঘুরে বেড়াতেই বেশি ভালো লাগে। মনে মনে ঈশ্বর কে ধন্যবাদ দিলাম। যেন ঈশ্বর আমার হাত ধরে আমার মনের সব গোপন ইচ্ছা পূরন করে দিচ্ছেন। আমার মত অভাজনকে ঈশ্বর এত দয়া কেন দেখাচ্ছেন?

আমাদের বাস কুমিল্লা থামল বিশ মিনিটের জন্য। তখন রাত দুইটা। আমরা দুইজন একসাথে চা বিস্কুট খেয়ে নিলাম। মেয়েটি তার মোবাইল বের করে আমাকে সাথে নিয়ে বেশ কিছু সেলফি নিলো। আমার গলা জড়িয়ে ধরে ছবি তুলল। কোনো রকম জড়তা নেই। যেন আমাদের দীর্ঘদিনের চেনা-জানা। এই রকম মেয়েই আমার ভালো লাগে। মেয়েটির সঙ্গ পেয়ে নিজেকে সমাট্র মনে হলো। বাস ফেনী পার হতেই মেয়েটি আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল আর আমি আগামী বারো ঘন্টা মেয়েটির সাথে কি কি করবো সেটা সাজিয়ে নিলাম। আমার সারা শরীর অন্য রকম একটা শিহরন বয়ে গেল। নিজের অজান্তেই আমি মেয়েটির বুকের কাছে মাথা রাখলাম।

হোটেল সাগরিকায় আমরা উঠলাম। ৩০৫ নম্বর রুম। কি সুন্দর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন গুছানো, রুমে পা দেওয়া মাত্রই কেমন শান্তি শান্তি লাগল। ব্যালকনির দরজা খুলতেই সমুদ্রের গর্জন শুনে মনটা শীতল হয়ে গেল। আমরা দুইজন ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা খেয়ে অনেকক্ষন সমুদ্রের পাড়ে হাটলাম। যেন একটা ইংলীশ মুভির দৃশ্য। বাস্তব জীবন কি এত সরজ সরল হতে পারে? মেয়েটি সিল্ক শাড়ি পরেছে। শাড়িটা আকাশি রঙের, মাঝে মাঝে একটু একটু সাদা, যেন এক টুকরো আকাশ মেয়েটির সারা শরীর ঢেকে রেখেছে। মেয়েটি যখন হাত নেড়ে-নেড়ে কথা বলে তখন তার দুই হাত ভর্তি কাচের চুড়ি গুলো সুন্দর করে বেজে ওঠে। আর চুল তো বাতাসে উড়ে উড়ে আমার চোখে মুখে লাগছেই। চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে, কপালে বড় একটা টিপ পড়েছে। আহ কি যে সুন্দর লাগছে!

রুমে ফিরে এসে যা হওয়ার তাই হলো। পরপর তিনবার হলো। তবু যেন স্বাধ মিটে না। একটা সত্য কথা বলি- এর আগে অন্য কোনো মেয়ে আমাকে এত আনন্দ দিতে পারেনি। আমি মুগ্ধ! অনেক আনন্দ নিয়ে আমি মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে এক আকাশ আনন্দ নিয়ে আমরা গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। আহ কি শান্তির ঘুম। ঘুম থেকে উঠে দেখি, আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে। ব্যালকনিতে গিয়ে অনেকক্ষন সমুদ্রের গর্জন শুনলাম, বিশাল বিশাল ঢেউ দেখলাম। সমুদ্র পাড়ের ঠান্ডা বাতাস অনেকক্ষন গায়ে মাখলাম। হঠাত আমার মেয়েটির কথা মনে পড়ল, ব্যালকনি থেকে দৌড়ে ঘরে গিয়ে দেখি মেয়েটি নেই, কোথাও নেই। টেবিলের উপর শুধু একখানা চিঠি পড়ে আছে। মেয়েটি যে চলে গেছে এটা বুঝতে আমার অনেক সময় লাগল।

মেয়েটির হাতের লেখা অনেক সুন্দর। চিঠিতে লিখেছে, চিঠিতে কি লিখেছে সেটা আর বলতে চাই না। তবে যা লিখেছে তার সারমর্ম হলো- মেয়েটি একটা বেশ্যা। তার অনেক গুলো যৌন রোগ আছে, সে তার রোগ গুলো আমার শরীরে দিয়ে দিয়েছে। মেয়েটি ভোরে চলে যাওয়ার সময়- আমার ম্যানিব্যাগ, হাত ঘড়ি, মোবাইল এবং ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। এটাই নাকি মেয়েটার পেশা। সে দীর্ঘদিন এই কাজ করে আসছে। আমি যে জামা কাপড় পরে নিচে নামবো সেই উপায়ও নেই। আমার পরনে হাফ প্যান্ট ছাড়া সে সব কিছু নিয়ে গেছে। আমি কপালে হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়লাম।
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×