যে তরুণ লেখক কোন মতবাদ অনুসরণ করে সে একটা আস্ত বোকা।’ কথাটি বলেছিলেন নোবেল বিজয়ী লেখক উইলিয়াম ফকনার প্যারিস রিভিউর একটি সাক্ষাৎকারে।
ফকনার ১৯৫৭-৫৮ সালের দিকে তরুণ লেখকদের মাঝে প্রচুর উপদেশ বিলি করেছেন।
১. অন্য লেখক থেকে যা নেওয়ার নিয়ে নাও। অন্য লেখক থেকে কাজের জিনিস চুরি করা ফকনারের মতে দোষের কিছু নয়।
২. স্টাইল নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়। একজন খাঁটি লেখক তার লেখা নিয়েই চরম ব্যস্ত। স্টাইল নিয়ে মাথা ঘামানোর এত সময় কই!
৩. অভিজ্ঞতা থেকে লিখ আর অভিজ্ঞতার দরজা খোলা রেখো। তুমি যা-ই অনুধাবন করতে পারে তা-ই অভিজ্ঞতা। এটা বই থেকেও আসতে পারে। এটা এমন বই, এমন গল্প এবং এতই জীবন্ত যে, যা তোমাকে নাড়িয়ে দেয়। আমার মতে এটা তোমার অভিজ্ঞতাসমূহের একটি। এটা এমন নয় যে ঐ বইয়ের চরিত্রগুলো যা করে তা নিজে করে অভিজ্ঞতা নিতে হবে। চরিত্রগুলোর কাজ যদি বাস্তবসম্মত মনে হয় এবং মনে হয় মানুষ এমনটিই করে তাহলে এটা একটা অভিজ্ঞতা। তাই আমার অভিজ্ঞতার সংজ্ঞা হচ্ছে এই যে অভিজ্ঞতার বাহিরে লেখা অসম্ভব। কারণ যা তুমি পড়, শুন, অনুভব কর, কল্পনা কর— এ সবই অভিজ্ঞতার অংশ।
৪. তোমার চরিত্রগুলোকে ভাল করে জানো— তাহলে গল্পটা নিজেই নিজেকে লিখবে। যখন কোন একটা চরিত্র সম্পর্কে তোমার স্পষ্ট ধারণা থাকবে, গল্পের ঘটনা পরিক্রমা প্রয়োজনের তাগিদেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবাহিত হবে। তোমাকে অবশ্যই চরিত্রকে জানতে হবে। তাকে বিশ্বাস করতে হবে। তোমাকে অনুভব করতে হবে যে জীবন্ত। তারপর অবশ্যই তুমি তার কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করবে, সাজাবে। তোমার ইচ্ছে মতো। এরপর তো গল্পটা দাঁড়ানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। কাগজ নাও, লিখে ফেলো, ব্যাস।”
৫. আঞ্চলিক শব্দ এড়িয়ে চলো। লেখকরা যেন স্রোতে ভেসে না যান এবং নিজের হাতে যেন হাল ধরে রাখেন। তিনি বলেন— “আমি মনে করি যত অল্প সংখ্যক আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করা যায় ততই মঙ্গল। আঞ্চলিক শব্দ পাঠককে বিভ্রান্ত করে। কারণ ওগুলো তার কাছে পরিচিত নাও হতে পারে। এজন্য কোন চরিত্রকে সম্পূর্ণভাবে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে দেয়া উচিত নয়। দুয়েকটা সহজ ও পরিচিত শব্দ ব্যবহার করা যেতেই পারে।”
৬. তোমার কল্পনা শক্তি ফুরিয়ে ফেল না। ১৯৫৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি লেখালেখির ক্লাসে ফকনার বলেন— “আমি বলব, গরম থাকতে থাকতেই ছেড়ে দাও। শেষটা লিখে ফেল না। ভাল থাকতে থাকতেই ছেড়ে দাও। এরপর নতুন করে ধরা সহজতর। যদি তোমাকে ফুরিয়ে ফেল, তোমার লেখা বন্ধ হয়ে যাবে। অনেক সমস্যায় পড়বে।”
৭. কোনো অজুহাত নয়। “আমার রাগ ওঠে যায় ওইসব অকর্মা ‘প্রতিভাধর লেখক-কবিদের’ প্রতি যারা চিৎকার করে বলে বেড়ায় তার এই নেই, সেই নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের অনেকে বলে— আমি যদি এই কাজ না করতাম, তাইলে লেখক হতাম। কেউ বলে— আমি যদি বিয়ে না করতাম, বাচ্চা-কাচ্চা না থাকত, তাইলে লেখক হতাম।
আমি মনে করি— তুমি যদি লিখতে চাও, তুমি লিখবে। আর কোনো কিছুই তোমাকে থামাতে পারবে না।”
আলোচিত ব্লগ
রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।
প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?
আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন
রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।