এই গনমৃত্যূ ঠেকাতে হবে। এটি এখন বছর বছর নিয়মিত হচ্ছে। ভারতের এলাহাবাদের কাছে গঙ্গা-যমুনার সঙ্গমস্থলে প্রতি তিন বছরে একবার কুম্ভ মেলায় ২০-৩০ কোটি মানুষ সমবেত হয় পুন্যস্নানের উদ্দেশ্যে। সেখানেও সারা পৃথিবী থেকে পূন্যার্থীরা সমবেত হয় এবং পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ এই সমাবেশ ১০/১২ দিন ধরে চলে।
কিন্তু এলাহাবাদের ত্রিবেনী সঙ্গমে বিশ্বের সর্ববৃহত এই সমাবেশে হজের মতো এমন নির্মম ও ব্যাপক প্রানহানীর ঘটনার কথা একবারও শোনা যায়নি। অথচ হজ্ব করতে গিয়ে গনপ্রানহানী নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ প্রান দিয়েছেন। এর অবসান হওয়া অতি জরুরী।
একটা বিষয় পরিষ্কার, আমেরিকার তল্পীবাহক সৌদী রাজার পক্ষে এর অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। তার হয়তো এ নিয়ে কোনও মাথাব্যথাই নেই। অথচ প্রতি হজ্ব মৌশুমে সউদী সরকারের আয় বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। তারা হজ্বের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করবে, অথচ হজ্বযাত্রীদের জীবনের কোনও মূল্য তাদের কাছে নেই বলেই মনে হয়।
এই কারনেই ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থান গুলির রক্ষনাবেক্ষন, ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাবা উচিত। এই দায়িত্ব ভ্যাটিকানের মতো কোনও সংস্থা গঠন করে তার উপর ন্যস্ত করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি হজ্বযাত্রীদের সংখ্যা নিরাপত্তা ব্যবসথার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ন করে নির্ধারন করাও জরুরী।
মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ না করে সৌদি বাদশাকে পাথর নিক্ষেপ করা হোক। ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার ঘুচাতে চান।
এই আরব শাসক, যারা মধ্য প্রাচ্যের শান্তি রক্ষায় শুধু নিরবই নয় বরং পাষাণ ভুমিকা পালন করে আসছে আজ অব্দি। ফিলিস্তিন শিশু বাচ্চার বুকে কামানের গোলা ভেদ হয়ে যাওয়া চিত্রও এই পাষাণ সৌদি সরকারের মনে একটু দয়ার উদ্রেক হয়নি। একটি বারের জন্য ইসরাইলকে একটু চোখ রাঙ্গানি দিতে চেষ্টা করেনি এই জালিম সৌদি সরকার। ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক,ইয়ামেন ধ্বংসযজ্ঞে আরবের এ ভুমিকা দেখে মুসলিম বিশ্ব হতবাক হয়েছে।
বিদায় হজে নবীজির ভাষণ আরব শেখেরা আজ বেমালুম ভুলে বসে আছে। প্রত্যেক মুসলমান একে ওপরের ভাই স্বরূপ। যেখানে আয়লান নামের ছোট শিশু বাঁচার প্রত্যয় নিয়ে সুমুদ্রের কিনারায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। আর সেখানে আরব শেখেরা সোনা মোড়ানো কমোডে আর প্রাচুর্যে নিজেদের আভিজাত্য প্রকাশ করে ।
পবিত্র আল কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষ যখন ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে পড়ে তখন আল্লাহকে ভুলে যায়। আর তখনই আল্লাহ তাদেরকে আজাব দেন। আজ পবিত্র হজের দিনে অনেক পরিবার তাদের আত্মীয় স্বজনদের হারাল। এটাকে আরবদের বাবস্থাপনার উদাসীনতা ছাড়া আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। কাবা শরীফে ক্রেন দুর্ঘটনাও একই রকম দায়িত্বহীনদের পরিচয় দেখিয়েছে আরব সরকার।
আমি সব সময় বলি, আজ আবার বলছি- মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হুমকি হল সৌদি আরব। মুক্তিযুদ্ধের সময় সৌদি আরব আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার পরও বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাকালীন সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি।
প্রাচীনকালে আরবে মেয়েদের জীবিত কবর দেবার এক নিষ্ঠুর পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। সন্তান প্রসবকালেই মায়ের সামনেই একটি গর্ত খনন করে রাখা হতো।
সিরিয়ার শরণার্থীরা জীবন বাঁচাতে স্বজাতিদের কাছে আশ্রয় না পেয়ে যখন ইউরোপে ছুটছেন, তখন তিন দিনের সফরে আমেরিকা গিয়ে একটি হোটেলের পুরোটাই ভাড়া নেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। এরা বোধ করি বিশ্বের সবচাইতে কামাতূর লোক।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



