somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বিলাসিতা বন্ধ করুন, প্লীজ

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সহজ সরল সত্য কথা হলো- বিলাসিতা বন্ধ করুন। বন্ধ করতে হবে। আপনি হয়তো বলবেন- আমার টাকা আছে- আমি বিলাসিতা করব'ই। যদি আপনার মধ্যে সামান্যতম মনুষ্যত্ববোধ থাকে তাহলে বিলাসি বন্ধ করুন। দরিদ্র দেশে বিলাসিতা মানায় না। এই দরিদ্র দেশে যারা বিলাসিতা করেন- তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। আপনার পাশের লোক না খেয়ে আছে- আর আপনি পেট ভরে হাজীর বিরিয়ানী খাচ্ছেন। লজ্জা করে না আপনার। আপনি দামী ব্র্যান্ডের জামা কাপড় পড়ছেন- আর আপনার আসে পাশে কত লোক খালি গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে- তা দেখে আপনার লজ্জা লাগে না?

এই দেশের দরিদ্র মানূষ গুলো শীতে কষ্ট করে। আর আপনি সপরিবারে বেড়াতে যান সিঙ্গাপুর, লন্ডন অথবা আমেরিকা। যদিও আগে বেশ কয়েকবার আপনার এই দেশ গুলো বেড়ানো হয়ে গেছে। ধরুন আপনি এবার ট্যুরে গিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করলেন। যদি আপনি বেড়াতে না যেতেন- তাহলে এই দরিদ্র দেশের কম পক্ষে ২ লক্ষ মানূষকে শীতের কাপড় দিয়ে সাহায্য করতে পারতেন। আমি যখন শীতের জামা পড়ে কোথাও যাই- আর দেখি দরিদ্র মানূষ গুলো খালি গায়- তখন আমার খুব কষ্ট হয়। লজ্জা হয়। গত পাঁচ বছর ধরে আমি শীতের জামা পড়ি না। আমি ঠিক করেছি যেদিন আমি ১০০ দরিদ্র লোক শীতের জামা দিতে পারব- সেদিন আমি শীতের জামা পড়বো। আমি দরিদ্র মানূষ। ছোট চাকরি করি। বছরের পর বছর যায়, কিন্তু সাহায্য আর করতে পারি না। ছোট একটা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অল্প কিছু টাকা পাই- সেই টাকা দিয়ে খুব হিসাব করে মাস পার করি। বিশ টাকা রিকশা ভাড়া বাঁচানোর জন্য হাঁটি। খুব ক্ষুধা পেলেও ফাস্ট ফুডের দোকানে গিয়ে বার্গার আর কোক কিনে খেতে পারি না। যখন কোনো ফাস্টফুডের দোকানের সামনে দিয়ে যাই- দেখি কত লোক জন বার্গার খাচ্ছে, স্যান্ডউইচ খাচ্ছে। আর বাইরে থেকে ভিক্ষুকদের সাথে আমিও হা করে তাদের খাওয়া দেখি। পকেটে আমার টাকা আছে- আমিও ইচ্ছা করলে একটা বার্গার আর কোক কিনে খেতে পারি কিন্তু এই ফালতু খরচ করলে আমার হবে না। বউ ফোন দিয়েছে- আসার সময় আলু, আটা আর ডিম নিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া আমার পকেটে পর্যাপ্ত টাকা থাকলেও আমি তাদের মতো খেতে পারতাম না। আমি আরাম করে খাবো- আর দোকানে কাঁচের দেয়ালের বাইরে একদল ক্ষুধার্থ মানুষ হা করে আমার খাওয়া দেখবে। আমি খাবো, তাদের খাওয়াতে পারব না!! এই রকম খাবার খেয়ে আমি শান্তি পাবো না। আমার তো ইচ্ছা করে- দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে শিশু, কিশোর-কিশোরী সবাইকে নিয়ে- দোকানে যাই। তাদের সবাইকে তাদের পছন্দের খাবার গুলো খাওয়াই। স্বাদ আছে কিন্তু সাধ্য নেই। দিনের পর দিন এই সাধ্য না থাকার কারণে- খুব দুঃখ কষ্ট লাগে।

আমাদের পাশের বাসার মালিকের মেয়ের বিয়ে হলো। তারা দুই কোটি টাকা খরচ করল। আমি কথার কথা বলছি না- আসলেই দুই কোটি টাকা। জামাই বাবুকে গাড়ি কিনে দিয়েছে ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়ে। মেয়ে আর মেয়ের জামাই নামে একটা ছয় তলা বাড়ি লিখে দিয়েছে। আপনারা আবার ভাববেন না- আমি হিংসা করছি। আমি একটুও হিংসা করছি না। আমার দুঃখ- এটা দরিদ্র দেশ, দরিদ্র দেশে এত বিলাসিতা কেন? বিলাসিতা না করলে কি হয়? এখনও সারা বাংলাদেশে অজস্র ছেলে মেয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যায়। স্কুলের অবস্থা নড়বড়ে। এই সব ধনী লোকেরা কি পারে না- একটা কালভাট ব্রীজ করে দিতে? কত দরিদ্র পরিবার তাদের সন্তানের লেখা পড়ার খরচ চালাতে পারে- এই সব ধনী লোকেরা কি পারে না- তাদের লেখা পড়ার দায়িত্ব নিতে? ধনী লোক গুলোর স্ত্রীরা পাগলের মতো টাকা খরচ করে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি! বিশ্বাস করুন- পার্লারে গিয়ে এক ঘন্টায় ৫০/৬০ হাজার টাকা খরচ করে। আমি নিজে পার্লার নিয়ে সার্ভে করেছি। এই তথ্য ১০০% সত্য। আর তাদের ছেলেরা বারে গিয়ে বন্ধু বান্ধব নিয়ে দেড় দুই লাখ টাকা নারী সঙ্গ আর মদ খেয়ে খরচ করে।

যেহেতু আমি একজন ফোটোগ্রাফার তাই ছবি তোলার কাজে কোটিপতিদের অনেক অনুষ্ঠানে যাই। যদিও ইদানিং আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি তোলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি। আমার নিজের চোখে দেখা কয়েকটা অনুষ্ঠানের কথা বলি- ফুল দিয়ে স্ট্রেজ তৈরি করেছে- খরচ হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। তিন চার রকমের ফুল সুতা দিয়ে বেঁধে দিয়েছে, সাথে আছে লাল নীল পাতলা মশারীর কাপড়। চারপাশ ডেকোরেশন করেছে- খরচ হয়েছে- ১ লক্ষ ষাট হাজার টাকা। নানান রকম বেলুন দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে। খাবারের আয়োজন বিশাল। কি নেই? গরু মুরগী এবং খাসী। সাথে আরও যা যা থাকার কথা তার চেয়ে বেশি'ই আছে। কিছু চেংড়া ছেলে বিকট শব্দে গান-বাজনা করছে। যা অবশ্যই শ্রুতি মধুর নয়। এই রকম আজাইরা খরচ লোকজন করে থাকে। অবশ্যই এই সব অসৎ পথের টাকা। আমি সারা মাস হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যে টাকা পাই- টিপে টিপে প্রতিটা টাকা খরচ করতে হয়। মাসের শেষের দিকে হাত পাততে হয়। মানুষের কাছে টাকা চাওয়া খুব'ই লজ্জার বিষয়। খুব'ই অপমানের।

কিছু মানুষের নানান রকম বিলাসিতা আমার সত্যিই খারাপ লাগে। খুব কষ্ট হয়। আমি তো পাঁচ টা টাকা বাচানোর জন্য বাসে উঠি না। হাঁটি। দুপুরবেলা ক্ষুধা লাগলে- ভালো একটা হোটেলে খাই না। রাস্তার পাশের দোকান থেকে ২৫/৩০ টাকার মধ্যে লাঞ্চ করে নিই। কিন্তু আমি ইচ্ছা করলে ১৫০ টাকা খরচ করতে পারতাম। দেশটা দরিদ্র, আর তুমি বিলাসিতা করছো! দরিদ্র লোকদের জন্য তুমি কিছু করছো না! মানুষ হিসেবে তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করছো না। কোরআন হাদীসে আছে- বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠান গুলোতে যেন খরচ কম করা হয়। হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে- খেজুর খাইয়ে বিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হোক। আমি বলতে চাই- দেখানোর কিছু নেই। দেশকে ভালোবাসুন। দেশের মানূষের জন্য কিছু করুন। আমি জানি, আপনার দামী গাড়ির একটা চাকার দাম আর আমার সারা বছরের বেতনের চেয়ে বেশি। পবিতে কোরআনে লেখা আছে- যার যত সম্পদ, আখেরাতে তার তত হিসাব দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমি লেটার মার্ক নিয়ে পাশ করবো।

মানুষের মানসিকতা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে- অমুক তার ছেলে/মেয়ের বিয়েতে ৫ লাখ খরচ করেছে, আমি দশ লাখ খরচ করবো। অমুক মসজিদে দুই লাখ টাকা দান করেছে, আমি ৫ লাখ টাকা দান করবো। এ প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ল- বাংলাদেশের বেশির ভাগ মসজিদ কালো টাকায় হয়েছে। অসৎ টাকায় হয়েছে। শুধু মসজিদ না, স্কুল এবং মাদ্রাসা। রাজনীতিবিদিদের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু লোক কয়েক বছরের মধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়। কিছু কিছু জিনিস লুকিয়ে রাখা যায় না। যেমন টাকা। তখন তারা মহৎ সাজার জন্য স্কুল করে, মাদ্রাসা করে হাসপাতাল করে। এই সমাজের বেশির ভাগ দুর্নীতিবাজরা ধার্মিক হয়। ধনী লোক গুলো মৃত্যুর কথা একদম ভুলে যায়।

দুর্নীতি কমিশনের লোকেরা কি দুর্নীতি করে না? করে। অবশ্যই করে। যে যত বড় দায়িত্বশীল পদে থাকে, সে তত বড় দুর্নীতিবাজ। আমি দূঃখিত, লেখার বিষয় বস্তু এলোমেলো হয়ে গেছে। আসলে এক বিষয় নিয়ে লিখতে গেলে আরও অনেক বিষয় অবধারিত ভাবে চলে আসে। যদিও সব কিছুই সাথে সব কিছুর সামঞ্জস্য আছে। যাই হোক, এই লেখা আর টেনে লম্বা করবো না। পরে আবার এই বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা করবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×