তখন আমার ৭ বা ৮ বছর হবে।
সব ছেলেরা মাঠে ঘুড়ি উড়াচ্ছে। আমি খুব মন দিয়ে তাদের ঘুড়ি উড়ানো দেখছি। আমার নাটাই নেই, কাজেই অন্যদের ঘুড়ি উড়ানো দেখেই আমার আনন্দ।
সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয়, যখন কারো ঘুড়ি কেটে যায়। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে সেই ঘুড়ির পেছনে ছুটি। সুতা কেটে যাওয়া ঘুড়িটাকে আমার ধরতেই হবে।
একদিন বিকেলে একটি ঘুড়ি কেটে দূরে জংলা মত একটা জায়গায় পেয়ারা গাছে ঝুলে ছিল। আমি পা টিপে টিপে খুব সাবধানে সেই পেয়ারা গাছের সামনে গিয়ে হাজির হই। পেয়ারা গাছটির পেছনে একটা দোতলা ভাঙ্গা বাড়ি।
ঘুড়ি ধরার জন্য পেয়ারা গাছে উঠতেই বাতাসে উড়ে উড়ে ঘুড়িটি মাটিতে পড়ল। ঠিক তখন দেখি, একটি খুব সুন্দর তরুনী মেয়ে মাদুর পেতে বসে আছে। তার মাথা ভর্তি চুল, দুই হাত ভর্তি কাঁচের চুরি। চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে। মেয়েটি একটু মিষ্টি হেসে বলল, এই বাবু, আসো কাছে আসো। তুমি কোন বাড়ির ছেলে?
হঠাত করে আমি খুব ভয় পেলাম। মাটি থেকে ঘুড়িটি তুলেই এক দৌড় দিলাম।
আজ বাংলামটর-এ এই মেয়েটিকে আমি দেখেছি। তার একটুও বয়স বাড়েনি। সেই আগের মতোই আছে। এক নজর দেখেই চিনে ফেলি। আমি মেয়েটির কাছে গিয়ে বললাম, তুমি কেমন আছো? তারপর ...
জন্মের সময় আমাকে যদি বলা হতো- 'তুমি কি পৃথিবীতে যেতে চাও? আমি চিৎকার করে বলতাম- না, আমি যাব না। এখন আমাকে প্রতিটা দিন যুদ্ধ করতে হয়, আমি শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারি না। কোথাও শান্তি নেই। মানুষ আর মানুষ নেই, তারা পশুর চেয়ে বেশি নিষ্ঠুর। তাদের মন মানসিকতা নোংরা। হিংসুটে, লোভী, চতুর। যত খারাপ বিশেষণ আছে- সব বললেও কম বলা হবে। আমার বাবা-মা যদি আমাকে পৃথিবীতে না আনতো- তাহলে কি আমাকে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হতো? হিমসিম খেতে হতো? মিথ্যা বলতে হতো? প্রতারনার স্বীকার হতে হতো? কুকুরের মতো পরিশ্রম করতে হতো? অভাবে-অভাবে জীবন যাপন করতে হতো? টেনশনে থাকতে হতো? ভয়ে থাকতে হতো? কারো গোলাম হতে হতো? খাওয়া পড়ার চিন্তা করতে হতো? অসুখ বিসুখের চিন্তা করতে হতো? আরও কত কি...
বিঃ দ্রঃ অফিসের কাজে ঢাকার বাঈরে গিয়েছিলাম। পাঁচ দিন পর ফিরলাম। এখন থেকে নিয়মিত আমাকে ব্লগে পাওয়া যাবে। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



