
একদিন এক নাস্তিকের বাসায় গেলাম- গিয়ে দেখি, সে একটা মোটা বই সেলাই করছে। তার ঘর ভর্তি বই। সে বইয়ের খুব যত্ন নেয়। প্রতিটা বই সেলাই করা। যাই হোক মোটা বইটা সেলাই করতে তার বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ফ্লোরে বসে দুই পা দিয়ে বইটি আটকে সেলাই করছে। বইটি সেলাই শেষে দেখলাম বইটি আসলে মুসলিমদের কোরআন। আমি প্রচন্ড অবাক হলাম, চিৎকার দিয়ে উঠলাম। নাস্তিক বললেন, এত অবাক হওয়ার কি আছে? পাড়া দিয়েছি তাতে কি হয়েছে। আমার কোনো ক্ষতি হয়েছে? সস্তা আবেগ দেখাবেন না। ধর্ম হইলো আফিম। এই ধর্মই দেশটাকে পিছিয়ে রেখেছে। ধর্ম হইলো ব্যবসা। মুসলমান গুলো সব ভন্ড। জন্মের পর থেকেই তারা ভন্ডামি শেখে। নাস্তিক একটা উদাহরন দিয়ে বলল- সে বাসায় গিয়ে দেখে- ক্যালেন্ডারের ছবি সাদা কাগজ দিয়ে ঢাকা, একটা সুন্দর পাখির শো পিস আছে কিন্তু পাখিটার মাথা ভাঙ্গা। ধার্মিকদের মাথা নষ্ট করে দেয় ধর্ম। আর ইসলামের বিভিন্ন বর্বর-অসভ্য নিয়মকানুন গুলোকে চিহ্নিত করলে নাস্তিক হয়ে যেতে হয়।
সেদিন আমি রাগ করে এই নাস্তিকের বাসা থেকে চলে আসি। ঘটনা চক্রে এক চায়ের দোকানে আবার দেখা হয়ে গেল। সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তায় পানি জমে গেছে। নাস্তিক বললেন- বৃষ্টি হলো আল্লাহর রহমত। রহমতের পানি। ভালো করে চেয়ে দেখুন রহমতের পানিতে সাধারন মানূষের কত কষ্ট। আপনাদের আল্লাহ মানূষকে কষ্ট দেয় কেন? আমি বুঝি না একজন প্রভু তার বান্দাদের এত কষ্ট দেন কি করে? তারপর এই নাস্তিক আমাদের নবীজীকে খুব কুৎসিত কিছু কথা বললেন। আমার ইচ্ছা করলো- নাস্তিকটাকে জুতো দিয়ে মারি। দুই কাধের ফেরেশতা "কিরামান এবং কাতিবিন"কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলো।
যে মানূষকে অপছন্দ করি- কেন জানি ঘুরে ফিরে তার সাথেই বারবার দেখা হয়ে যায়। ভারত বিচিত্রা পত্রিকা অফিসে এই নাস্তিকের সাথে আবার দেখা হলো। এই নাস্তিক দেশের এক নম্বর দৈনিক পত্রিকায় কাজ করে। বেশ কয়েকটা বইও বের করেছে। সেদিন তার সাথে আরও দুইজন লোক ছিল। তারাও নাস্তিক। আমাকে রাগানোর জন্যই- আল্লাহ এবং নবী নিয়ে খুবিই কুরুচিপূর্ণ বেশ কিছু কথা বলল। যা শুনলে যে কোনো মুসলিমের মাথা গরম হয়ে যাবে। আমি মনে মনে বলি আল্লাহ এদের হেদায়েত দাও। নাস্তিকদ্বয় আমাকে আরও বলল- একটা হাস্যকর কথা শুনেন - এক নবী মাছের পেটে ঢুকে গেছে- (বলেই তিনজন হাসতে শুরু করলো) কুৎসিত হাসি। দোয়া পড়ছে, দোয়ায় এত পাওয়ার যে, মাছের নাকের ফুটো দিয়ে বের হয়ে গেছে।
ধর্মকর্ম নিয়ে আমার পড়াশোনা নাই। আমি অসহায়ের মতো তাদের কথা শুনি। তারপর সিদ্দান্ত নিলাম- ধর্ম নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করে ওদের সাথে বসবো। যাই হোক, বাসায় ফিরে মনে হলো- ওদের সাথে বসার দরকার কি? দুষ্টলোক থেকে দূরে থাকাই ভালো। কিন্তু যতই আমি দূরে যেতে চাই- ততই তাদের সাথে দেখা হয়ে যায়। এবার দেখা হলো- সিলেট। একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে। আমাকে দেখেই বলল- মহান আল্লাহ দরিদ্র মানূষদের এত কষ্ট দেয় কেন? আর দূরনীতিবাজদের এত ভালো রাখে কেন? গাছের পাতাও নাকি আল্লাহর হুকুম ছাড়া নড়ে? তাহলে সমাজের সব খারাপ কাজ কি তার হুকুমেই হয়? আমি তাদের নরম সুরে বললাম- প্লীজ এটা একটা বিয়ের অনুষ্ঠান, অন্য কোনো সময় আপনাদের কথা শুনব। তারা আমার কথা না শোনার ভান করে বলল- মাঝে মাঝে শুনি- আমি যদি দিনে পাঁচ বার উঠা বসা করি- তাহলে নাকি ঈশ্বর আমাকে মৃত্যুর পর পুরস্কৃত করবেন । হা হা হা...খুবই হাস্যকর একটা ব্যাপার।
পৃথিবীতে এখন সব মানুষের ধর্ম আছে- ঈশ্বর আছে- কিন্তু পৃথিবীর মানুষ গুলোতো ভালো নেই। পৃথিবীর জন্মের পর থেকে ঈশ্বর তো কোনো অলৌকিক কিছু দেখাতে পারেনি। মুসলমানদের কিছু কিছু ব্যাপার খুবই হাস্যকর । প্রায়ই শোনা যায়- কোরবানীর মাংসে আল্লার নাম, মাছের গায়ে আল্লাহর নাম, আলুর মধ্যে- টোমেটোর মধ্যে আল্লাহর নাম । এই সবের মানে কি ? ফোটোশপ দিয়ে যে কোনো জাগায় আল্লাহর নাম বসিয়ে দেওয়া কোনো ব্যাপার না, দুই মিনিটের মামলা।আচ্ছা, ধরে নিলাম- ফোটোশপ দিয়ে আল্লাহর নাম বসানো হয়নি, এটা মহান আল্লাহর অলৌকিক খেলা। কিন্তু এই খেলা খেলে লাভ কি ? দেশের দরিদ্র মানুষ গুলো তিনবেলা পেট ভরে খেতে পারবে ? দুর্নীতিবাজরা ক্ষমা চেয়ে তাদের কালো টাকা দেশের কাজের জন্য দিয়ে দিবে?
আমাকে কঠিন ভাবে একটা প্রশ্ন করা হলো- যদি এমন হতো, পৃথিবীর সবকিছু ঠিকঠাক রেখে আল্লাহ বেহেশতে বসে আছেন- এর চাইতে স্বস্তিদায়ক আর কি হতে পারে!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


