somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নাস্তিকের কথোপকথন

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একদিন এক নাস্তিকের বাসায় গেলাম- গিয়ে দেখি, সে একটা মোটা বই সেলাই করছে। তার ঘর ভর্তি বই। সে বইয়ের খুব যত্ন নেয়। প্রতিটা বই সেলাই করা। যাই হোক মোটা বইটা সেলাই করতে তার বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ফ্লোরে বসে দুই পা দিয়ে বইটি আটকে সেলাই করছে। বইটি সেলাই শেষে দেখলাম বইটি আসলে মুসলিমদের কোরআন। আমি প্রচন্ড অবাক হলাম, চিৎকার দিয়ে উঠলাম। নাস্তিক বললেন, এত অবাক হওয়ার কি আছে? পাড়া দিয়েছি তাতে কি হয়েছে। আমার কোনো ক্ষতি হয়েছে? সস্তা আবেগ দেখাবেন না। ধর্ম হইলো আফিম। এই ধর্মই দেশটাকে পিছিয়ে রেখেছে। ধর্ম হইলো ব্যবসা। মুসলমান গুলো সব ভন্ড। জন্মের পর থেকেই তারা ভন্ডামি শেখে। নাস্তিক একটা উদাহরন দিয়ে বলল- সে বাসায় গিয়ে দেখে- ক্যালেন্ডারের ছবি সাদা কাগজ দিয়ে ঢাকা, একটা সুন্দর পাখির শো পিস আছে কিন্তু পাখিটার মাথা ভাঙ্গা। ধার্মিকদের মাথা নষ্ট করে দেয় ধর্ম। আর ইসলামের বিভিন্ন বর্বর-অসভ্য নিয়মকানুন গুলোকে চিহ্নিত করলে নাস্তিক হয়ে যেতে হয়।

সেদিন আমি রাগ করে এই নাস্তিকের বাসা থেকে চলে আসি। ঘটনা চক্রে এক চায়ের দোকানে আবার দেখা হয়ে গেল। সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তায় পানি জমে গেছে। নাস্তিক বললেন- বৃষ্টি হলো আল্লাহর রহমত। রহমতের পানি। ভালো করে চেয়ে দেখুন রহমতের পানিতে সাধারন মানূষের কত কষ্ট। আপনাদের আল্লাহ মানূষকে কষ্ট দেয় কেন? আমি বুঝি না একজন প্রভু তার বান্দাদের এত কষ্ট দেন কি করে? তারপর এই নাস্তিক আমাদের নবীজীকে খুব কুৎসিত কিছু কথা বললেন। আমার ইচ্ছা করলো- নাস্তিকটাকে জুতো দিয়ে মারি। দুই কাধের ফেরেশতা "কিরামান এবং কাতিবিন"কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলো।

যে মানূষকে অপছন্দ করি- কেন জানি ঘুরে ফিরে তার সাথেই বারবার দেখা হয়ে যায়। ভারত বিচিত্রা পত্রিকা অফিসে এই নাস্তিকের সাথে আবার দেখা হলো। এই নাস্তিক দেশের এক নম্বর দৈনিক পত্রিকায় কাজ করে। বেশ কয়েকটা বইও বের করেছে। সেদিন তার সাথে আরও দুইজন লোক ছিল। তারাও নাস্তিক। আমাকে রাগানোর জন্যই- আল্লাহ এবং নবী নিয়ে খুবিই কুরুচিপূর্ণ বেশ কিছু কথা বলল। যা শুনলে যে কোনো মুসলিমের মাথা গরম হয়ে যাবে। আমি মনে মনে বলি আল্লাহ এদের হেদায়েত দাও। নাস্তিকদ্বয় আমাকে আরও বলল- একটা হাস্যকর কথা শুনেন - এক নবী মাছের পেটে ঢুকে গেছে- (বলেই তিনজন হাসতে শুরু করলো) কুৎসিত হাসি। দোয়া পড়ছে, দোয়ায় এত পাওয়ার যে, মাছের নাকের ফুটো দিয়ে বের হয়ে গেছে।

ধর্মকর্ম নিয়ে আমার পড়াশোনা নাই। আমি অসহায়ের মতো তাদের কথা শুনি। তারপর সিদ্দান্ত নিলাম- ধর্ম নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করে ওদের সাথে বসবো। যাই হোক, বাসায় ফিরে মনে হলো- ওদের সাথে বসার দরকার কি? দুষ্টলোক থেকে দূরে থাকাই ভালো। কিন্তু যতই আমি দূরে যেতে চাই- ততই তাদের সাথে দেখা হয়ে যায়। এবার দেখা হলো- সিলেট। একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে। আমাকে দেখেই বলল- মহান আল্লাহ দরিদ্র মানূষদের এত কষ্ট দেয় কেন? আর দূরনীতিবাজদের এত ভালো রাখে কেন? গাছের পাতাও নাকি আল্লাহর হুকুম ছাড়া নড়ে? তাহলে সমাজের সব খারাপ কাজ কি তার হুকুমেই হয়? আমি তাদের নরম সুরে বললাম- প্লীজ এটা একটা বিয়ের অনুষ্ঠান, অন্য কোনো সময় আপনাদের কথা শুনব। তারা আমার কথা না শোনার ভান করে বলল- মাঝে মাঝে শুনি- আমি যদি দিনে পাঁচ বার উঠা বসা করি- তাহলে নাকি ঈশ্বর আমাকে মৃত্যুর পর পুরস্কৃত করবেন । হা হা হা...খুবই হাস্যকর একটা ব্যাপার।

পৃথিবীতে এখন সব মানুষের ধর্ম আছে- ঈশ্বর আছে- কিন্তু পৃথিবীর মানুষ গুলোতো ভালো নেই। পৃথিবীর জন্মের পর থেকে ঈশ্বর তো কোনো অলৌকিক কিছু দেখাতে পারেনি। মুসলমানদের কিছু কিছু ব্যাপার খুবই হাস্যকর । প্রায়ই শোনা যায়- কোরবানীর মাংসে আল্লার নাম, মাছের গায়ে আল্লাহর নাম, আলুর মধ্যে- টোমেটোর মধ্যে আল্লাহর নাম । এই সবের মানে কি ? ফোটোশপ দিয়ে যে কোনো জাগায় আল্লাহর নাম বসিয়ে দেওয়া কোনো ব্যাপার না, দুই মিনিটের মামলা।আচ্ছা, ধরে নিলাম- ফোটোশপ দিয়ে আল্লাহর নাম বসানো হয়নি, এটা মহান আল্লাহর অলৌকিক খেলা। কিন্তু এই খেলা খেলে লাভ কি ? দেশের দরিদ্র মানুষ গুলো তিনবেলা পেট ভরে খেতে পারবে ? দুর্নীতিবাজরা ক্ষমা চেয়ে তাদের কালো টাকা দেশের কাজের জন্য দিয়ে দিবে?

আমাকে কঠিন ভাবে একটা প্রশ্ন করা হলো- যদি এমন হতো, পৃথিবীর সবকিছু ঠিকঠাক রেখে আল্লাহ বেহেশতে বসে আছেন- এর চাইতে স্বস্তিদায়ক আর কি হতে পারে!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হয় না দেখা আর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


কতদিন হলো, হয় না দেখা
রঙধনু মেলা, শীত কাটে না
আর ঐশ্বর্য উষ্ণ বেলা
চঞ্চলতায় টিপুটিপু খেলা;
বিস্মৃতির পাতায় ডুবে যাচ্ছে
চাঁদ না দেখার আর্তনাদ,
ভেঙ্গে পরেছে অমোঘ
অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ঘুণ ধরেছে
নুনে পরেছে সময়ের ছলনা
মুখ ফিরেছে বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×