somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

শিমুল কাঠই হোক আর সেগুন কাঠই হোক, আগুনের চেহারাটা একই

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার এক বন্ধু আছে- কারো উপর মেজাজ খারাপ হলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে মনে মনে। আমি বললাম- মনে মনে গালি দিয়ে লাভ কি? সে তো শুনতে পায় না, জানেও না এবং বুঝেও না। বন্ধু বলল- কিন্তু আমি বিপুল আনন্দ পাই। বন্ধু বলে আমার এই গালি থেকে কেউ ছাড় পায় না। অফিসের বস, বন্ধুবান্ধন, আত্মীয় স্বজন, পরিচিত-অপরিচিত এমনকি মন্ত্রী মনিস্টাররাও।
বন্ধুর নাম শফিক আহমেদ। সে দেশের এক নম্বর ফানিচার কোম্পানিতে চাকরি করে। মোটা টাকা বেতন পায়। আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেই। সে বিরাট চোর। তার গ্রামের বাড়িতে লক্ষ লক্ষ টাকার ফানিচার চুরী করে নিয়েছে। যাই হোক, গতকাল তার সাথে দেখা মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে, প্রায় চার বছর পর। আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো। একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল।

অনেক কথার পর বলল, যাদের সাহিত্যজ্ঞান নেই, মেধা নেই- এক কথায় কোনো যোগ্যতা নেই তারাই ব্লগে লেখে। ব্লগে লেখা ছাড়া তাদের উপায় নেই- কোথাও তাদের গল্প কবিতা প্রবন্ধ বা উপন্যাস প্রকাশ করবে না। যাদের সত্যিকার যোগ্যতা আছে- তারা পত্রিকায় লেখে, বছর বছর তাদের বই বের হয়। এবং তারা নানান রকম সাহিত্য পুরস্কারও পায়। ব্লগে যারা লিখে তারা গরু। যোগ্যতাহীন এবং যে গুটিকতক লিখে বা ব্লগ পরে মন্তব্য করে তারা একেবারে মেধাহীন।
আমার খুব রাগ হলো। কিন্তু আমি অতি ভদ্র বলে চুপ করে বসে থাকলাম। চুপ করে সহ্য করে গেলাম। কথায় বলে না- 'কয় জন বড় না, সয় জন বড়।' এই শফিক আহমেদ একদিন ঢাকা এসে না খেয়ে ছিল, থাকার জায়গা ছিল না। লেখা পড়ার খরচ ছিল না- সব কিছু আমি দিয়েছি। জামা কাপড় দিয়েছি।

ব্লগে এইসব রাগের কথা বলা ঠিক না।

অন্য প্রসঙ্গে আসি- মসজিদে জামাতে ফজর নামাজ পড়ার জন্য এক ব্যাক্তি ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ওযূ করে মসজিদে যাচ্ছে। মাঝ পথে সে পা পিছলিয়ে পড়ে গেল। তাঁর কাপড় নষ্ট হয়ে গেল। সে বাসায় ফিরে এসে কাপড় বদলিয়ে আবার ওযূ করে মসজিদের দিকে রওয়ানা দিল।
মাঝ পথে আবার সে পা পিছলে পড়ে গেল। তাঁর কাপড় ময়লা হয়ে গেল। তিনি আবার বাসায় গেল কাপড় বদলিয়ে ওযূ করে আবার মসজিদের দিকে রওয়ানা দিল।
মাঝ পথে আসতে লন্ঠন হতে এক লোকের সাক্ষাত পেল। লোকটিকে সে জিজ্ঞাস করল, আপনি কে? সে উত্তরে বলল, আমি আপনাকে দু'বার পড়ে যেতে দেখলাম তাই ভাবলাম মসজিদের যাওয়ার জন্য আমি একটি প্রদীপের ব্যবস্থা করে দেই। লোকটি লন্ঠন হাতে তাঁকে মসজিদ পযর্ন্ত এগিয়ে দিল। লোকটি সাহায্যকারীকে বললেন, চলুন নামায পড়ে নেই। লোকটিকে বারবার বললার পরও লোকটি নামাজ পড়ল নাহ্। তখন লোকটিকে প্রশ্ন করল, আচ্ছা আপনি নামাজ পছন্দ করেন না, বলুনতো আপনি কে?
লোকটি বলল, আমি শয়তান। আমি আপনাকে প্রথম বার পা পিছলিয়ে ফেল দিয়েছিলাম যাতে মসজিদে নামায না পড়ে আপনি বাড়ী ফিরে যান। কিন্তু আপনি যখন পা পিছলিয়ে পড়ে যাওয়ার পর ও বাড়ী গিয়ে ফিরে আসলেন তখন আল্লাহ্তালা আপনার সব গোনাহ্ মাফ করে দিলেন।
দ্বিতীয়বার যখন আপনি পড়ে যাওয়ার পরও বাড়ী গিয়ে কাপড় বদলিয়ে আবার মসজিদে রওয়ানা দিলেন তখন আল্লাহ্তালা আপনার পরিবারের সকলের গোনাহ্ ক্ষমা করে দেন।
এর পর যদি আপনি আবার পড়ে গিয়ে আবার বাড়ী থেকে কাপড় বদলিয়ে আবার মসজিদে আসেন, না জানি আল্লাহ্তালা সকল এলাকাবাসীর গোনাহ্ মাফ করে দেন। সে ভয়ে আমি তাড়াতাড়ি লন্ঠন হাতে আপনাকে মসজিদে পৌছে দিয়ে গেলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:১০
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চুক্তিতে নেই, তবু প্রবাসীদের আশা: NCT দিলেই মিলবে ভিসা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০০


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×