somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার মেয়ে

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেয়ের আবদার আমি যেন তাকে একদিন স্কুলে দিয়ে আসি। কিন্তু আমি একেবারেই সময় পাই না। সকাল আট টায় অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই। অফিসে দেরী করে গেলে এডমিন এমন কুৎসিত ভাবে তাকায় যে প্রচন্ড ঘৃণা লাগে। এই জন্য আমি জিদ করে আধা ঘন্টা আগে অফিসে গিয়ে উপস্থিত হই। যাই হোক আজ মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলাম। বাসা থেকে স্কুল অনেক দূর। সেই গুলশান- ১। অবশ্য সকালবেলা খুব অল্প সময়েই স্কুলে পৌঁছে যায় মেয়ে। সকাল সাত টায় বের হয়- আর সাতটা চল্লিশ এ স্কুলে।


যেহেতু আমি ফোটোগ্রাফার, তাই মেয়ের ছবির অভাব নেই।

আমার মেয়ের নাম যাহ্‌রা তাবাসসুম রোজা। অবশ্য আমি পরী বলেই ডাকি। প্রতিদিন মেয়ে ফোন দিয়ে বলবে বাবা আজ তাড়াতাড়ি চলে আসো। প্লীজ বাবা। আমার স্কুলের অনেক হোমওয়ার্ক আছে। আমি মেয়েকে কথা দেই, আজ অবশ্যই তাড়াতাড়ি চলে আসবো। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো- আমি তাড়াতাড়ি ফিরতে পারি না। অফিসের বড় স্যার আটকে রাখেন। মিটিং আছে, মিটিং। আমি মন খারাপ করে বসে থাকি। অফিস ছুটির সময় পার হয়ে আরও দুই ঘন্টা চলে যায়- মিটিং আর শুরু হয় না। রাত আট টার পর বড় স্যার বলেন আজ মিটিং হবে না। শরীরটা ভালো লাগছে না। চলে যান।


নানান ঢঙ্গের, নানান রঙের তার ছবি আছে।

আজ মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসার সময়, মেয়ে নানান গল্প শুরু করেছে। বাবা, গাড়ির পেছনে এটা কিসের নাম্বার? বাবা, আমার মতোন তুমি বক্সে করে টিফিন নাও না কেন? বাবা, তোমাকে ছোটবেলায় কে স্কুলে দিয়ে আসতো? বাবা, আজ কিন্তু বাসায় ফিরে আমাকে একটা ভূতের গল্প বলবে। বাবা, আমরা আবার কবে বাইরে খেতে যাবো? বাবা, দিদা (আমার মা) বলল- তুমি নাকি একদিন স্কুলে পটি করে দিয়েছিলে? ইত্যাদি ইত্যাদি হাজারও প্রশ্ন। আমি একটুও রাগ করি না। বিরক্ত হই না। বরং হাসিমুখে মেয়ের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাই।


একদিন পার্কে নিয়ে গিয়েছিলাম।

আমি অফিস ছুটির পর তুফানের মতোন বাসায় ফিরি। বাস তো একদিনও পাই না। হেঁটেই ফিরি। বাসায় ফেরার সাথে সাথে মেয়ে বাবা বলে চিৎকার করে জড়িয়ে ধরে। মেয়েকে পড়াতে বসাই। পড়া শেষে নিজের হাতে খাইয়ে দেই। তারপর নানান মজার মজার গল্প বলে ঘুম পাড়িয়ে দেই। ভোর সাড়ে ছয়টায় আমিই মেয়েকে ডেকে তুলি স্কুলে যাওয়ার জন্য। মেয়ের মা'র ব্যস্ততার শেষ নেই। তার আছে- অনলাইন শপিং, মেকাপ, মোবাইলে কথা, পার্লার আর বান্ধবী। ঘরের কাজ তো সব বুয়া করে। তবে সে রান্না করে। খাওয়ার সময় দেখি, তরকারিতে লবন দেয়নি। আবার কোনোদিন এত লবন দেয়, যে খাবার মুখেই দেয়া যায় না। ভাজি একদম পুড়ে ফেলে। তবু সে স্বীকার করে না ভাজি পুড়ে গেছে, বলে- আজ ভাজিটা একটু পোড়া পোড়া করেছি। আমি তাকে কিছু বলি না। সে থাকুক তার মতো। মেয়ে নাকি তার কাছে পড়তে বসে না, তার কাছে খেতে চায় না। ইত্যাদি ইত্যাদি...


এক শবে বরাতের রাতে সে নামাজ পড়ছে।

এই কিছু দিন আগে আমার মেয়ের বয়স ৫ বছর হলো। সারা পৃথিবীতে আমার একটুকরো আনন্দ হলো আমার মেয়ে। সারাদিন পর যখন মেয়েকে দেখি- আমার সব পরিশ্রম পানি হয়ে যায়। মেয়েটার জন্য ইচ্ছা করে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকি। দোকান থেকে সব কিছু কিনে এনে মেয়েটাকে দেই। মেয়েটার দারুন বুদ্ধি। কোন সময় কোন কথাটা বলতে হয় সে খুব ভালো করেই জানে। মাঝে মাঝে আমার মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা হয়, তখন মেয়ের মা বলে- মাথা ব্যাথার ওষুধ খেয়ে, লাইট বন্ধ করে শুয়ে থাকো। আর মেয়ে আমার মাথার কাছে বসে তার ছোট ছোট হাত দিয়ে মাথা টিপে দেয়, চুলে হাত বুলিয়ে দেয়। একটু পর জিজ্ঞেস করে- বাবা, ব্যাথা কমেছে? ব্যাথা কমে না, তারপরও আমি লাফ দিয়ে উঠে বলি আরে- আমার মেয়ের হাতে তো জাদু আছে। ব্যাথা একটুও নেই। মেয়েটা হেসে উঠে- মেয়েটার হাসিমুখ বড় ভালো লাগে।


যখন সে একেবারে ছোট ছিল।

মেয়েটার জন্য সবাই দোয়া করবেন। যেন সে সুস্থ থাকে। ভালো থাকে। এবং তার দ্বারা যেন মানুষের মঙ্গল হয়।


পরীর পায়ে নূপুর।


একদিন ঈদের সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি...

ভালো থাকুক আমার মেয়ে। ভালো থাকুন আপনার মেয়ে। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব বাবার মেয়ে।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:২০
৪০টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চুক্তিতে নেই, তবু প্রবাসীদের আশা: NCT দিলেই মিলবে ভিসা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০০


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×