
চায়ের আড্ডায় এখন একটাই টপিক ৮ ফেব্রুয়ারী কি ঘটবে! নানানজন নানান কথা বলছে। আমি সবার কথা খুব মন দিয়ে শুনছি। বড় বড় অঘটন ঘটে হঠাৎ করেই। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা চললো প্রায় চার বছর ধরে। এই মামলায় খালেদা জিয়ার জেল-জরিমানা হবে। তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। অন্তবর্তীকালীন জামিন তো পাবেনই। অথবা দেখা গেল- ৮ তারিখে রায় ঘোষনাই করা হলো না। রায় ঘোষনার তারিখ আরও পেছানো হলো। এ মামলায় অন্তত দেড়শ’বার তিনি সময় নিয়েছেন, আদালতে যাননি।
বিএনপি ৮ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে যদি সংঘাতে লিপ্ত হয় তাহলে মানুষের জানমাল রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে পুলিশ। এটা ফেব্রুয়ারী মাস। দুই দলেরই ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান রেখেই এ মাসে কোনো প্রকার ঝামেলা করা ঠিক হবে না। সর্বোপরি খালেদা জিয়া একজন ৭৩ বছর বয়স্ক নারী। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেছেন বলা যায়। এদিকে সরকারের সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় বিরোধী শিবিরে সাহস ও শক্তি বাড়ছে। সময় যত গড়াবে সরকারের অবস্থান ততই দুর্বল হবে? যদি বেগম জিয়ার কারাদন্ড হয় তাহলে তাকে কেরানীগঞ্জ বা কাশিমপুর কারাগারে কিন্তু নেয়া হবে না।
রায় ঘোষনার আগের দিন কি সরকার ঢাকা আসার পথ গুলো বন্ধ করে দিবে? সাধারণ মানুষ অসহনীয় দুর্ভোগে পরবে? ছাত্রলীগের পোলাপান ৮ ফেব্রুয়ারী কি করবে? রায়ের দিন যদি কোথাও কোনো জ্বালাও-পোড়াও বা ভাঙ্চুরের চেষ্টা করা হয়, তাহলে তাদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ যদি দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়- তাহলে পুলিশ কি করবে? এরশাদ ছাড়া কোনো শাসককেই মামলায় জেল খাটতে হয়নি। রায়ের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে। এছাড়া একেহন থেকেই অনেক ফুটপাতে হকার বসতে দেয়া হছে না।
বিএনপির আইনজীবীরা জানান, রায় ঘোষণায় সাজা হলেও তাৎক্ষণিক উচ্চ আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করার পরিকল্পনা অনেক আগেই নেয়া হয়েছে। আরেকটা ব্যাপার মাথায় রাখা দরকার- জাতীয় নির্বাচনের প্রায় ১০ মাস বাকি। খালেদা জিয়ার সাজা হলে নেতা-কর্মীরা ঘরেও বসে থাকবে বলে আমার মনে হয় না। সরকার কি আইনি জটিলতার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়? আজ বিকেলে একটা চায়ের দোকানে চা খাচ্ছি তখন একজন রিকশা চালক বলল- সরকার যা চায়, তাই হবে এই মামলার রায়। সরকারের উপরে মাতব্বরি করার কেউ নাই।
২৫ জানুয়ারির আগে মানুষের আলোচনার বিষয় ছিল- সাক-সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আবার বিচারক ইচ্ছা করলে দুই বছরও সাজা দিতে পারেন। খালেদা জিয়া এ মামলায় দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রধান আসামি। ১/১১ র' সময় অনেক মামলা হয়েছিল। সেই সব মামলার কোনো খোজ খবর নেই। আসলে বিএনপির কোমর ভেঙ্গে গেছে। অথবা তাদের কোমর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তারা আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।
যদি সত্যিই কোনো গন্ডগোল হয় তাহলে বিপদে পড়বে সাধারন মানূষ। খালেদা জিয়া বা শেখ হাসিনা এবং নেতাদের কিছুই হবে না। অনেক মা বাবা ৮ তারিখ তাদের ছেলে মেয়েকে স্কুলে পাঠাবেন বলে সিদ্দান্ত নিয়েছেন। অনেকে তাদের গাড়ি নিয়ে বের হবেন না। অনেকেই কর্মের খাতিরে বাইরে বের হলেও সেদিন সারাদিন ভয়ে ভয়ে থাকবে। হয়তো বাস পাওয়া যাবে না- হেটে হেটে গন্তব্যে যেতে হবে। ধরুন, সেদিন গোন্ডগোল হলো, আমাকে পুড়িয়ে মারা হলো, অথবা ধরুন কারো গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হলো। খারাপ যা কিছুই ঘটুক ভুক্তভোগী হবে দরিদ্র মানুষেরাই।
(বিঃ দ্রঃ লেখা খুব বেশি অগোছালো হয়েছে, বুঝতে পারছি।)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




