somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ফেসবুক রঙ্গ তামাশা

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। হায় আল্লাহ আমি ভুলেই গিয়েছিলাম, আমি একজন লেখিকা। গত বছর হঠাৎ একরাশ দুঃখ কষ্টে আর হতাশায় আমি ভুলেই গিয়েছিলাম আমি একজন লেখিকা। আমার লেখার ক্ষমতা আছে। আমার আঙ্গুল ছয়টা। না না...... সব কিছু বাদ দিয়ে এখন থেকে আমি আবার লেখা শুরু করবো। বন্ধুরা এখন থেকে আমি আর ভেঙ্গে পড়বো না, কথা দিলাম। এখন থেকে আমি লিখে যাবো। তোরা, তোমরা, আপনেরা আগের মতো আমার পাশে থাকিস, থাকবে, থাকবেন।

-----------এই ভদ্র মহিলা মোটেই লেখক না। লেখক হওয়ার মতো নূন্যতম যোগ্যতা তার নেই। ফেসবুকে মাঝে মাঝে স্ট্যাটাসে কবিতা লিখে যা অতি অখাদ্য। এক শ্রেণীর রুচিহীন, মেধাহীন লোক তাকে লাইক দেয় এবং দুনিয়ার সবচেয়ে ফালতু আর সস্তা মন্তব্য করে। নির্বোধ লেখিকা এই ফালতু লাইক আর কমেন্ট দেখে মনে করেন, তিনি বিরাট কিছু হয়ে গেছেন। নিজেই ফেসবুকে একটা নিজের নামে পেজ খুলে কবিতা নামক কিছু জিনিশ পোষ্ট করতে থাকেন। এই মহিলা দেখতে রুপবতী না। এডিট ছাড়া ছবি পোষ্ট করলে লোকে ভয় পাবে। তবে নিজেকে তিনি নায়িকা কাজল মনে করেন। তবে তার টাকা পয়সা মনে হয় ভালোই আছে। আসলে তার টাকা পয়সা না, তার স্বামীর। সে আট টা বই বের করে ফেলেছে স্বামীর টাকা দিয়ে।

২। # এই নির্বোধ দিনের মধ্যে এক শ' বার নিজেকে লেখক......লেখক বলে স্ট্যাটাস দিতেই থাকেন। এবং সে সবাইকে তার পাঠক ভাবেন।
# প্রিয় পাঠক, আজ বই মেলায় আমার অমুক বই এসেছে। আমি বিকাল চারটা থেকে অমুক স্টলে থাকবো। আপনাদের সাথে দেখা হবে। আমার বই কিনলে অটোগ্রাফ পাবেন, এবং আমার সাথে ছবিও তুলতে পারবেন। ভুলেও এই সুযোগ মিস করবেন না।
# প্রিয় পাঠক, আজ একজন আমাকে অতি কুৎসিত কথা বলেছেন। কিন্তু আমি মন খারাপ করিনি। কারন আমি লেখক। লেখকরা মন খারাপ করে বসে থাকবে তা কি হয়?

-------------- একজন বেহায়া'ই বারবার নিজেকে এক শ' বার লেখক বলে দাবী করে। সত্যিকারের লেখকরা বারবার নিজেকে লেখক বলবে না। এই মেয়ে কয়দিন আগে এক বুড়োর সাথে প্রেম করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে। নিজেই সেইগুলো নির্লজ্জের মতো স্ট্যাটাসে প্রকাশ করেছে, স্ক্রিনশট সহকারে। এবং সে দাবী করে- সে নারীবাদী মানসিকতার মানুষ। সে এতটাই নারীবাদী যে ওড়না ছাড়া ছবি পোষ্ট করে- সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নারীবাদী হিসেবে নিজেকে প্রমান দেয়। প্রিয় পাঠক আজ আমি বইমেলায় যেতে পারব না। তার এই স্ট্যাটাসে মুহূর্তের মধ্যে হাজার খানেক লাইক এবং কয়েক শ' মন্তব্য পড়ে যায়। কিন্তু এই মেয়ে বুঝে না তার স্ট্যাটাসে যারা লাইক দিচ্ছে, মন্তব্য করছে সকলেই নির্বোধ শ্রেণির। সৃষ্টিশীল কোনো মানুষ তার স্ট্যাটাসে লাইক বা কমেন্ট করে না। হুমায়ূন আহমেদ বা হুমায়ূন আজাদ তো লেখক ছিলেন, তারা তো কোনোদিন নিজেকে জাহির করতে ফেসবুক ব্যবহার করেন নি।

৩। নতুন একটা লেখা নিয়ে ভীষন ব্যস্ত আছি। আমি লেখক, একজন লেখকের অনেক দায়িত্ব থাকে। আমার বই বের হয় নামী দামী প্রকাশনি থেকে। গত বছর আমার 'মিউ মিউ' বইটা মেলার ১৩ তম দিনে শেষ হয়ে গেছে। এক আমেরিকান আমার রান্না খেয়ে- বলেছে এরকম ভালো রান্না সে জীবনে খায়নি। বাঙ্গালী পুরুষের চেয়ে আমেরিকান পুরুষেরা অনেক ভালো। ইত্যাদি ইত্যাদি ....।

---------------- এই মহিলার জন্ম গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারে। স্বামীর কল্যাণে আমেরিকা গিয়ে এখন নিজেকে সে প্রিন্সেস ডায়না ভাবছেন। প্রকাশকদের তিন গুন বেশি টাকা দিয়ে নিজের অতি অখাদ্য বই বের করছেন। দশ কপিও বিক্রি হয় না। কিন্তু তিনি প্রকাশকদের পুষিয়ে দেন। প্রকাশকরাও তাকে মিথ্যা করে বারবার ভাইবারে জানান- ম্যাডাম আপনার বই খুব বিক্রি হচ্ছে। আমাকে কিন্তু আগামী বছর আবার নতুন কোনো পান্ডুপিলি দিতেই হবে। মহিলা বলেন, ভাই বাচ্চা কাচ্চা সামলিয়ে লেখার সময় পাই না। দূরে থাকি কিন্তু মনটা দেশে পড়ে ঠাকে।

৪। তথাকথিত কথাসাহিত্যিক স্ট্যাটাস দিয়েছেন- একপাশে অথাকথিত লেখকের ছবি, অন্যপাশে বইয়ের প্রচ্ছদ। কুদ্দুস ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় আজিজ মার্কেটে। আমি আগে তার কোনো বই পড়িনি। সেদিন তার একটি বই পড়লাম- 'কালো বিড়াল, সাদা বিড়াল'। ওমা তিনি যা লিখেছেন, বলার মতো না। একটা মানুষ এমন ভালো লিখে কি করে? আমি প্রচন্ড অবাক! এবার বইমেলায় কুদ্দুস ভাইয়ের নমব কাব্যগ্রন্থ 'সাদা কাক' বইটি বের হয়েছে। স্টল নং- ২১২১২১০। দিনের আলো প্রকাশনী। আপনারা বইটি সংগ্রহ করুন। লেখক কুদ্দুস তার 'সাদা কাক' বইটি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন কিন্তু আমি নিইনি। আমি বইমেলা থেকে বইটি কিনে পড়েছি।

--------------এরা তথাকথিত লেখক। নিজেকে কথাসাহিত্যিক হিসেবে দাবীও করেন। এই শ্রেণীর ধান্দাবাজ এখন এই রকম ধান্দা শুরু করেছে। অবশ্যই কুদ্দুসের দ্বারা তিনি কোনো না কোনোভাবে উপকৃত বা কুদ্দুসের কাছে তিনি কোনো উপকার পাবার আশায় আছেন। তাই স্ট্যাটাস লিখে কুদ্দুসকে তেল দিচ্ছেন। এবং নিজেকে মহৎ হিসেবে অন্যের কাছে দেখাতে চাচ্ছেন। এদিকে কুদ্দুস আবার তাকে খুশি করার জন্য, দায়িত্ব মনে করে তার দশ কপি বই কিনে পরিচিতদের মাঝে বিলাচ্ছেন।

দয়া করে আপনারা আমাকে ছোট মনের মানুষ বলে ভাববেন না। অথবা মনে করবেন না আমি তাদের হিংসা করছি। আমি যোগ্যলোকদের সম্মান করতে জানি। এইভাবেই ফেসবুকে চলছে অবাধ রঙ্গ তামাশা। তাদের রঙ্গ তামাশা দেখে মানুষ হিসেবে আমার মাথা নিচু হয়ে আসে। মানুষ কতটা নির্লজ্জ তা দেখতে চাইলে ফেসবুকে চোখ রাখলেই টের পাওয়া জায়। ফেসবুকে দেখা যায়- মানুষের মিথ্যা অভিনয়, রঙ্গ ঢং। এবং মানুষ কতটা নির্লজ্জ। একজন আরেকজনকে কবি, কথাসাহিত্যিক বলে সম্বোধন করছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তাদের কবি বা কথাসাহিত্যিক হওয়ার নূন্যতম যোগ্যতা নেই। সত্যিকার অর্থে তারা বস্তি থেকে উঠে আসা নিচু মন-মানসিকতার মানুষজন। রিকশাচালক বা বাসের হেল্পারদের মতো তাদের মন মানসিকতাও অতি নিম্মমানের।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৫৭
২৭টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ

লিখেছেন ডাঃ আকন্দ, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ হলে, তা হবে পাগলামি। ইউরোপকেই এই মরণ মরণ খেলা বন্ধ করতে হবে। ইউরোপকে অনেক ছাড় দিয়ে এ যুদ্ধ বন্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×