
দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। অথচ বাসে উঠলে কোনোদিন সিট পাই না। দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আজকাল ঘটনা এমন হয়ে দাড়িয়েছে-বাসে দাঁড়িয়ে থাকা তো দূরের কথা- বাসে উঠতেই পারি না।
সব গুলো লোক বাসের গেটের সামনে জট পাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু বাসের ভেতরে খালি। আমি বুঝি না সব গুলো লোক বাসের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে কেন?
সকালে অফিস টাইম, সবার'ই খুব তাড়াহুড়া থাকে। কিন্তু কিছুতেই বাসে উঠা যায় না। সব লোক বাসের গেটের সামনে জট পাকিয়ে থাকে। ভিতরে বেশ খালি। তারা যদি একটূ চেপে দাঁড়ায়, তাহলে কিছু লোক উটঠতে পারে।কিন্তু নিজে একবার উঠার পর জমিদার হয়ে যায়।

আমি বাসের জানালার সামনে গিয়ে বললাম, প্লীজ আপনারা একটু চেপে দাঁড়ালে আরও দুইজন লোক উঠতে পারে। আপনাদের যেমন গন্তব্যে যাওয়া জরুরী, অন্যেরও জরুরী। শুধু নিজেরটা বুঝলে হবে? মন মানসিকতা পরিবর্তন করুন। তারা আমার কথা শুনেও না শোনার ভান করে।
প্রতিটা দিন একই অবস্থা। একই ঘটনা। কিন্তু আমি যদি একবার বাসে উঠতে পারি তাহলে গেটের সামনে দাড়িতে থাকি না। একদম পেছনে গিয়ে দাঁড়াই। আরেক জনকে উঠার সুযোগ দেই।
ওই বদ গুলো কেন বাসের গেটের সামনে জট পাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তা আমি বুঝতে পেরেছি। ওখানে মেয়েদের সিট। জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে মেয়েদের সাথে গা ঘষাঘষি করতে পারে। একদম নোংরা মন মানসিকতা। এগুলোকে ধরে থাপ্পড়ানো দরকার।
আমার মতো অনেক লোক এভাবে বাসে উঠতে না পেরে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তখন আমি তাদের মনে মনে বলি, যারা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে অথচ ভেতরে আরও জায়গা আছে। কিন্তু একটুও সরে দাঁড়িয়ে অন্যকে জায়গা দেয় না তাড়া শুয়োরের বাচ্চা।
বেশ কিছু বাস আছে এরা দাঁড়ায় না। শাঁ করে চলে যায়। যদিও থামে- হেল্পার দরজা আগলে দাঁড়িয়ে থাকে। কাউকে উঠতে দেয় না। জমিদারি একটা ভাব নেয়। বাসের গায়ে লেখা সিটিং সার্ভিস। এদিকে অসংখ্য লোক দাঁড়িয়ে আছে। অনেকক্ষন পর পর যা-ও দুই একটা বাস আসছে, দরজা লাগানো। হেল্পার মাথা বের করে রাখে। খুব ভাব নিয়া বলে 'সিট নাই' 'সিট নাই', তখন ইচ্ছা করে মাথা বের করে থাকা হেল্পারকে বাস থেকে নামিয়ে কিছুক্ষন পিটাই।
দিনের পর দিন, বছরের পর বছর একই ঘটনা। কিন্তু দেশ নাকি উন্নয়নের মহাসড়কে। আর এদিকে বাসে উঠতে পারি না। সিট পাওয়া তো বিরাট ভাগ্যের ব্যাপার।
মৌচাক মগবাজার ফ্লাই ওভার চালু হয়েছে। কিন্তু তাতে জ্যাম একটুও কমে নাই। বরং আগের চেয়ে জ্যাম এখন বেশি বেড়েছে। আগে সিগনালে থাকতে হতো পাঁচ সাত মিনিট, এখন সিগনালে থাকতে হয় বিশ থেকে পঁচিশ মিনিট। যারা এ রাস্তা দিয়ে আমার মতো প্রতিদিন যাতায়াত করে তারা খুব ভালো করেই জানে এটা নিত্য দিনের ঘটনা। এই যে প্রতিদিন এত কষ্ট লক্ষ লক্ষ মানূষের- তা কি সরকার জনে? মাননীয় মন্ত্রী একবার এসে নিজের চোখে ঘটনা দেখে যান।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



