
১। ছোটবেলা মা আমাকে ঠিক এইভাবে শাড়ির আঁচল দিয়ে বেঁধে রাখত। তারপর ঘরের কাজ করতো। যখন আমি হাঁটতে শিখি- তখনও আমি সারাক্ষন মায়ের আঁচল ধরে থাকতাম।
(ছবিঃ ইন্টারনেট।)
২। বাঙালি পুরুষের আসলে মানুষ হওয়া উচিত।
সেটা তখনই সম্ভব হবে, যখন তারা নিজেদের দেখে লজ্জিত হবে।
এই যে আমি এদেশের অধিকাংশ পুরুষের দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বললাম, একটা ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া এদেশের পুরুষদের, এই দায় এড়ানোর সাধ্য আসলে অধিকাংশ বাঙালি পুরুষের নেই।
৩। অন্ধকার কখনো অন্ধকারকে দূর করতে পারে না। অন্ধকারকে দূর করতে পারে শুধুমাত্র আলো। ঠিক তেমনি ঘৃনা কখনো ঘৃনাকে দূর করতে পারে না,শুধুমাত্র ভালবাসাই পারে ঘৃনাকে দূর করতে। কাউকে ঘৃ্না করা অনেকটা 'ইদুরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজের পুরো বাড়িটিই আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার মত' একটা কাজ। এখানে যাকে ঘৃনা করা হয় তার চেয়ে ঘৃণাকারীরই বেশি ক্ষতি হয়,ঘৃণাকারীই বেশি কষ্ট পায়।
৪। বিশিস্ট ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এক সাক্ষাৎকারের সময় এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন যে ছোটবেলায় তাঁর স্বপ্ন ছিল ট্রেন চালক হবার। তাঁর সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হলেও সালমা খাতুনের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী ট্রেন চালক হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মহিলা ট্রেন চালক হয়েছিলেন এভেলিন নিউয়েল, ১৯৭৫ এ । বাংলাদেশে ১৯৯৮ তে পাপিয়া নামক এক সাহসী মেয়ে জীবিকার তাগিদে ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালাতে শুরু করে আরেক ইতিহাস সৃস্টি করেছিল। সে নারী পুরুষ বিচার না করে সবাইকে বহন করত। কিস্তু দুঃখের বিষয় সেটাই বোধহয় প্রথম আর শেষ উদাহরণ।
১০৪ বছর আগে ১৯১৯ সালের এই দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন প্রগতিশীল জার্মান নারীনেত্রী ক্লারা জেটকিন।
আকাশে বিমান ওড়াচ্ছে নারী। হিমালয়ের চূড়ায় উঠছে নারী; বন্দুক কাঁধে যুদ্ধেও যাচ্ছে নারী। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকশিল্পে যে ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত তার সিংহভাগই নারী। অনেক বছর আগে ৬৯৫ খ্রীষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার জেনাতা বার্বার (Zenata Berber) সম্প্রদায় কাহিনা নামক এক নারীর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়ে উমায়া খলীফা আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ান প্রেরিত সেনাপতি হাসান ইবনে নামান এর অধীনস্ত হানাদার বাহিনীকে পর্যুদস্ত করেছিল। আগেকালের যোদ্ধা নারীদের আমাজন (Amazon) আখ্যা দেওয়া হত। বাংলায় যাদের রায়বাঘিনী বলা যায়।
৫। গত ১০০ বছরে নারীরা বেশ এগিয়েছে তবে যেতে হবে অনেকদূর। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এমন কোন ক্ষেত্র নেই, যেখানে নারীর পদচারণা ঘটেনি। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পেশা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, পুলিশ, সেনা, বৈমানিক, নাবিকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বল্প পরিসরে হলেও যুক্ত হয়েছেন নারীরা । নারীকে জানাই এক আকাশ ভালোবাসা ও সম্মান । পৃথিবীর সকল নারী ভালো থাকুক, সুখী থাকুক, আনন্দে থাকুক ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



